জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার

শর্ত ভেঙে প্রয়াত ব্যক্তিকে আজীবন সম্মাননা

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের শর্তের ১ (খ)-তে রয়েছে, আজীবন সম্মাননা পুরস্কারের জন্য জীবিত ব্যক্তিদের বিবেচনা করা হবে। কিন্তু ২০২৩ সালের আজীবন সম্মাননা পুরস্কার এমন দুজনকে দেওয়া হয়েছে, যাঁদের দুজনই মৃত! তাই প্রজ্ঞাপন প্রকাশের পর থেকেই শুরু হয়েছে সমালোচনা। দুই দিন ধরে চলচ্চিত্র-সংশ্লিষ্ট ফেসবুকের বিভিন্ন গ্রুপেও চলছে বিতর্ক।

২০২৩ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের জন্য গঠিত জুরিবোর্ডের একাধিক সদস্যের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আজীবন সম্মাননার জন্য তাঁরা অভিনয়শিল্পী শবনম ও ইলিয়াস জাভেদের নাম প্রস্তাব করেন। নাম দুটির ব্যাপারে কোনো সদস্যেরই আপত্তি ছিল না বলে জানান তাঁরা। তবে এর মধ্যে সম্প্রতি ইলিয়াস জাভেদ মারা গেছেন।

শবনম

দীর্ঘ সময় পর গত বৃহস্পতিবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ২০২৩ প্রাপকদের নাম প্রজ্ঞাপন আকারে প্রকাশ করে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়। সচিব মাহাবুবা ফারজানা স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ২০২৩ সালের জন্য আজীবন সম্মাননা পুরস্কার পেতে যাচ্ছেন চলচ্চিত্র পরিচালক তারেক মাসুদ এবং চিত্রগ্রাহক ও চলচ্চিত্র পরিচালক আবদুল লতিফ বাচ্চু। তারেক মাসুদ ২০১১ সালের ১৩ আগস্ট এক সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান, আবদুল লতিফ বাচ্চু মারা যান এ বছরের ৪ জানুয়ারি।

চিত্রনায়ক ইলিয়াস জাভেদ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টেলিভিশন, ফিল্ম ও ফটোগ্রাফি বিভাগের অধ্যাপক ও জুরিবোর্ড সদস্য এস এম ইমরান হোসেন বলেন, ‘যাঁদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে, তাঁরা খুবই গুণী মানুষ। বেঁচে থাকতেই তাঁদের এই পুরস্কার পাওয়া উচিত ছিল। কিন্তু আজীবন সম্মাননা জীবিত আছেন, এমন গুণীজনদেরই দেওয়া হয়। সরকার চাইলে মরণোত্তর একটি পুরস্কার চালু করতে পারে। সে জন্য পুরস্কারের নীতিমালা কিছুটা পরিবর্তন করতে হবে।’

তারেক মাসুদ

এ বিষয়ে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের জুরিবোর্ডের আরেক সদস্য অভিনয়শিল্পী সুচরিতা বললেন, ‘আমরা জাভেদ সাহেব ও শবনম আপার নাম প্রস্তাব করি। সবাই সম্মত হন। এরপর তো প্রায় এক বছর পার হয়েছে। আমাদের সুপারিশ করা ফাইল বিভিন্ন টেবিল ঘুরেছে। তার পরের কোনো খবর আমি জানি না। নাম ঘোষণার পর দেখলাম কী হয়েছে। তবে আমি বলতে চাই, যাঁদের নাম এসেছে, তাঁরাও সম্মানিত। কিন্তু নিয়মে যেহেতু নেই, বিষয়টা অন্য কোনোভাবেও করা যেত।’

আব্দুল লতিফ বাচ্চু

সার্বিকভাবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রসঙ্গে এস এম ইমরান হোসেন বলেন, ‘আমরা আসলে সুপারিশ করেছি। সব পুরস্কারের একজন করে বিকল্প থাকে, সেটা জুরিরাই প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে সুপারিশ করেন। কিন্তু চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয় ক্যাবিনেট। তবে আমি মনে করি, কোনো রকম পরিবর্তন ছাড়াই ক্যাবিনেট এটিকে পাস করবেন। কোনো রকম বিকল্পও থাকা উচিত নয়। ছোটখাটো দু-একটি বিষয় ব্যতীত জুরিদের ফলাফলের প্রতিফলন এ পুরস্কার ঘোষণায় আছে।’

সুচরিতা

এ বিষয়ে জানতে শনিবার দুপুরে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের চলচ্চিত্র শাখার উপসচিব শারমিন আখতারকে একাধিকবার হোয়াটসঅ্যাপ ও সরাসরি নম্বরে কল করা হয়। প্রসঙ্গ উল্লেখ করে পাঠানো হয় খুদে বার্তা। কিন্তু তাঁর সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি, পাওয়া যায়নি খুদে বার্তারও উত্তর।

পরে শনিবার সন্ধ্যায় চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ডের সদস্য এস এম আবদুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের কোনো ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ার মধ্যে ছিলাম না। তবে মন্ত্রণালয়ের ব্যাখ্যা অনুযায়ী এটুকু বলতে পারি, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের উচ্চপর্যায়ের উপদেষ্টামণ্ডলীর কমিটি এবং ক্যাবিনেট ডিভিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ পুরস্কারের প্রজ্ঞাপন ঘোষণার সিদ্ধান্ত হয়েছে।’