মঙ্গলবার ইলিয়াস কাঞ্চনের গুলশানের বাসায় যান চিত্রনায়ক আলমগীর
মঙ্গলবার ইলিয়াস কাঞ্চনের গুলশানের বাসায় যান চিত্রনায়ক আলমগীর

অনেক কিছু মনে করতে পারছেন না ইলিয়াস কাঞ্চন, স্মৃতি মনে করালেন আলমগীর

যুক্তরাজ্যে ১৫ মাসের বেশি সময়ের চিকিৎসা শেষে সোমবার দেশে ফিরেছেন একসময়ের জনপ্রিয় চিত্রনায়ক এবং ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ (নিসচা)-এর চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন। দেশে ফেরার এক দিন পরই মঙ্গলবার তাঁকে দেখতে গুলশানের বাসায় যান চিত্রনায়ক আলমগীর। প্রথম আলোকে খবরটি নিশ্চিত করেছেন নিসচার ভাইস চেয়ারম্যান লিটন এরশাদ।

চলচ্চিত্রের বাইরেও দুজনের দীর্ঘদিনের একটা সুসম্পর্ক রয়েছে। দুজনের আড্ডায় স্বাস্থ্যগত বিষয় নিয়েই বেশি আলোচনা হয়েছে

বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রথম আলোকে লিটন এরশাদ জানান, দেশে ফেরার এক দিন পর গত পরশু মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে ইলিয়াস কাঞ্চনকে দেখতে আসেন আলমগীর। সেখানে তিনি প্রায় দুই ঘণ্টার মতো অবস্থান করেন।

লিটন এরশাদ বলেন, ‘চলচ্চিত্রের বাইরেও দুজনের দীর্ঘদিনের একটা সুসম্পর্ক রয়েছে। দুজনের আড্ডায় স্বাস্থ্যগত বিষয় নিয়েই বেশি আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি পুরোনো অনেক স্মৃতি নিয়ে তাঁরা হাসিঠাট্টা করেছেন। আর অসুস্থতার কারণে অনেক কিছুই কাঞ্চন ভাই মনে করতে পারেন না, আলমগীর ভাই অনেক কিছু মনে করানোর চেষ্টা করেছেন। তাঁকে মানসিক সাহস দিয়েছেন। দুশ্চিন্তা করতে না করেছেন।’

ঢাকায় ফেরার আগে লন্ডনের বিমানবন্দরে ইলিয়াস কাঞ্চন

ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত হয়ে গত বছরের এপ্রিল থেকে যুক্তরাজ্যের লন্ডনে চিকিৎসা নিয়েছেন ইলিয়াস কাঞ্চন। সেখানকার হাসপাতাল ও মেয়ে ইমা ইসলামের বাসায় থেকে চলে তাঁর চিকিৎসা। গত বছরের আগস্টে লন্ডনের একটি হাসপাতালে তাঁর মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করা হয়। চিকিৎসকেরা টিউমারের একটি বড় অংশ অপসারণ করলেও ঝুঁকির কারণে পুরো টিউমার সরাতে পারেননি। পরে চিকিৎসকেরা জানান, তাঁর ব্রেন ক্যানসারের কথা।

অস্ত্রোপচার শেষে শুরু হয় ইলিয়াস কাঞ্চনের দীর্ঘ সময়ের চিকিৎসা। প্রথম ধাপে টানা তিন মাস কেমোথেরাপি নেওয়ার পাশাপাশি চলে দ্বিতীয় ধাপে ওরাল থেরাপি।পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে, সপ্তাহে পাঁচ দিন করে ১২ সপ্তাহের চিকিৎসায় মধ্যে প্রায় ৬০টির বেশি কেমোথেরাপি নিতে হয়েছে এই অভিনেতাকে। এরপর তিন মাসের প্রথম ধাপের ওরাল থেরাপি শেষ করে তিনি দ্বিতীয় ধাপের আরও তিন মাসের ওরাল থেরাপি নিয়েছেন। তিন ধাপে সব মিলিয়ে মোট শ খানেক কেমোথেরাপি নিয়েছেন ইলিয়াস কাঞ্চন।

ইলিয়াস কাঞ্চন

তবে এত দীর্ঘ চিকিৎসার পরও ইলিয়াস কাঞ্চনের শারীরিক অবস্থার আশানুরূপ উন্নতি হয়নি। লিটন এরশাদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘দেড় বছরের বেশি সময় ধরে দেশে বাইরে থাকতে থাকতে ইলিয়াস কাঞ্চন ভাই অস্থির হয়ে উঠেছেন। দেশে ফেরার জন্য তাঁর মন টানছিল। পরিবারকেও বলছিলেন, তৃতীয় ধাপের থেরাপি যেহেতু শেষ হয়েছে, কয়েক মাসের জন্য দেশে ফিরতে চান। কাঞ্চন ভাইয়ের ইচ্ছাতে তাঁকে দেশে আনা হচ্ছে। তাঁর শারীরিক অবস্থা খুব একটা ভালো নয়। অবস্থার উন্নতিও খুব একটা নেই। তৃতীয় ধাপের থেরাপি গত ৩০ জুলাই শেষ হয়েছে। এরপর আবার তাঁর নতুন চিকিৎসা শুরু হবে। তার আগে দেশে কিছুদিন কাটাতে চাইছেন।’

চিকিৎসকের বরাতে লিটন এরশাদ জানালেন, অস্ত্রোপচারের পর ক্যানসার যে স্থানে ছিল, এখনো সেখানেই রয়েছে। যদিও তা শরীরের অন্য কোথাও ছড়িয়ে পড়েনি। এটিকে ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখছেন চিকিৎসকেরা।

লিটন এরশাদ জানান, কাঞ্চন ভাই এখন ধীরে ধীরে কথা বলতে পারেন, কিন্তু কথাবার্তায় জড়তা রয়েছে। অনেক সময় কয়েক মিনিট কথা বলার পর তিনি পুরো বাক্য শেষ করতে পারেন না। একটি পূর্ণ বাক্য শেষ করতেও কষ্ট হয় তাঁর। খাবারদাবার মোটামুটি স্বাভাবিক থাকলেও নিয়মিত সময়মতো খাওয়ার অভ্যাসটিও আগের মতো নেই।