
সিনেমার পাইরেসি হওয়ার ভয়ের কাছে হার মানলেন প্রযোজকেরা। ঈদে মুক্তির অপেক্ষায় থাকা পাঁচটি সিনেমার মধ্যে তিনটিই পাইরেসির ভয়ে সিঙ্গেল হলে মুক্তি পাচ্ছে না। কেউ কেউ বলছেন, এই পাইরেসি সংকট একটি সিনেমা ও একজন প্রযোজককে নিঃস্ব করে দিতে পারে। পাইরেসি নিয়ে কেন উদাসীনতা, সে প্রশ্নও করছেন কেউ কেউ।
গত বছর ব্যবসায়িকভাবে সফলতার পথেই এগিয়ে যাচ্ছিল ‘তাণ্ডব’ সিনেমা। হঠাৎ করে সিনেমাটি মুক্তির তিন দিন না পেরোতেই সিনেমা এইচডি রেজোল্যুশন কপি অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ে। এতে সিনেমাটি ব্যবসায়িকভাবে ক্ষতির মুখে পড়ে। দর্শক সিনেমাটি আর হলে গিয়ে দেখেননি। সিনেমার প্রযোজক শাহরিয়ার শাকিল এবার ‘দম’ নিয়ে আসছেন। তিনি জানালেন, গতবারের অভিজ্ঞতা থেকে তাঁরা সিঙ্গেল কোনো হলে সিনেমা মুক্তি দিতে চান না।
শাকিল বলেন, ‘পাইরেসি ভয়ংকর এক সমস্যা। এটা বন্ধ করতে কোথাও থেকে আমরা তেমন সহায়তা পাই না। আমাদের এখানে ই-সার্ভারের মাধ্যমে হলগুলো থেকে সিনেমা চালানোর ব্যবস্থা নেই। আমাদের ডিসিপি হলমালিকদের কাছে দিয়ে দিতে হয়। এভাবে সিনেমা পাইরেসির আশঙ্কা বেশি। এ সংকটের কথা ভেবেই সিঙ্গেল হলে সিনেমা মুক্তি দেব না।’
একই কথা বললেন ঈদের আরেক বড় বাজেটের সিনেমা ‘রাক্ষস’–এর প্রযোজক শাহরিন আক্তার। তিনি জানান, এখন সিনেমা সিঙ্গেল হলে মুক্তি দিলেই সেটি যেকোনোভাবেই হোক পাইরেসি হবে। দেশের সিনেমা অঙ্গন থেকে এটা কোনোভাবেই বন্ধ করা যাচ্ছে না। তিনি বলেন, ‘আমাদের বাজার ছোট। অনেক ঝুঁকি নিয়ে একটি সিনেমা বানানো হয়। সেখান থেকে একটি সিনেমা মুক্তির পর পাইরেসি হলে কোনো প্রযোজকই আর সিনেমা বানাবে না। আমরা নিজেরাও বানাব না। আমরা সিনেমা পাইরেসি বন্ধ করার জন্য একটা ফি দিই অথচ আমাদের দেখার কেউ নেই।’
যে কারণে ‘রাক্ষস’ সিনেমার এই প্রযোজক এবার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, মাল্টিপ্লেক্সের বাইরে সিনেমা মুক্তি দেবেন না। ঈদে দুই থেকে তিন সপ্তাহ পার হওয়ার পর থেকে তাঁরা সিঙ্গেল হলগুলো নিয়ে ভাবছেন। তিনি আরও বলেন, ‘সিঙ্গেল হলে মুক্তি দিলে কিছু হল হয়তো পেতামই। সেটা দিয়ে তো বাজেটের বড় অংশ ওঠানো সম্ভব নয়। যে কারণে সিঙ্গেলে যাচ্ছি না। পাইরেসি বন্ধে সরকার ব্যবস্থা নিক, তখন প্রযোজক হিসেবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার একটা উপায় থাকবে। তার আগে বলব, পাইরেসি বন্ধে কেন উদাসীনতা, সেটাও দেখা দরকার। পাইরেসি বন্ধ হলেই অনেকে সিনেমা বানাতে আসবেন।’
এদিকে গত বছর ঈদের সিনেমার পাইরেসি ঘিরে বেশ ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে পরিচালক রায়হান রাফীকে। এবার তিনি ‘প্রেশার কুকার’ নিয়ে আসছেন। সিনেমাটি আপাতত দেশের সিঙ্গেল হলে মুক্তি দেবেন না সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
রাফী বলেন, ‘ব্যবসাসফল হতে পারে—এমন সিনেমার ভাগ্য নষ্ট করে দেয় এই পাইরেসি। আমি কেন ঝুঁকি নিয়ে সিনেমার ভবিষ্যৎ নষ্ট করে দেব। একটি সিনেমা পাইরেসির জন্য ব্যবসা না করলে প্রযোজক কেন লগ্নি করবে। দু–তিন সপ্তাহ যাক, তারপর আমরা সিঙ্গেল হলে যাব। তার আগে আমরা মুক্তির এক সপ্তাহ পর থেকেই বিদেশের বাজারে আমাদের সিনেমাটি মুক্তি দেব।’
প্রতিবারের মতো এবারও সবচেয়ে বেশিসংখ্যক সিঙ্গেল হলে মুক্তি পাবে শাকিবের সিনেমা ‘প্রিন্স’। গতকাল পর্যন্ত সিনেমাটি ৮০টি হলে মুক্তির জন্য চূড়ান্ত হয়েছে। তবে এ সংখ্যা আরও বাড়বে। সিনেমাটির পাইরেসির ঝুঁকি প্রসঙ্গে জানতে ফোন করা হয় সিনেমাটির প্রযোজক শিরিন সুলতানাকে। তাঁকে পাওয়া যায়নি। সিনেমার পরিচালক আবু হায়াত মাহমুদ বলেন, ‘মাল্টিপ্লেক্স বা সিঙ্গেল হলে—সব জায়গায় আমাদের দর্শক রয়েছে। সবাই সিনেমাটি দেখুক, সেটাই চাই। কিন্তু পাইরেসি এখন বড় ঝুঁকির কারণ। আমাদের মনে হয়, কোনো সিনেমা হলের মালিক চাইবেন না সিনেমা ভালো ব্যবসা না করুক। এখানে সমস্যা, সিনেমা পাইরেসি করছে একটি চক্র। কঠিন আইন করে এই চক্রকে ধরে সাজা দেওয়া হোক।’