অনেক ভেবেচিন্তে মা বিয়ে পড়ানোর জন্য কাজী ডাকেন: ওমর সানী

বিয়ের দিনে ওমর সানী ও মৌসুমী। ছবি: কোলাজ
বিয়ের দিনে ওমর সানী ও মৌসুমী। ছবি: কোলাজ

কদিন আগে গেল ওমর সানীর জন্মদিন। একসময়ের জনপ্রিয় অভিনেতা জানিয়েছেন, দিনটা তাঁর ভালো যায় না। মায়ের জন্য মন কাঁদে। সে কথা ভক্তদের সঙ্গে ভাগাভাগি করেন। এবার মা দিবস সামনে রেখে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিলেন তিনি। মাকে ঘিরে সেই বিশেষ দিনটিও কাঁদায় এই নায়ককে। ক্যারিয়ারের শুরু থেকে এই নায়কের মা নানাভাবে ছায়ার মতো পাশে থেকেছেন।

ওমর সানী তাঁর ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন বিয়ের সময়ের স্মৃতিচারণা। ওমর সানী ও মৌসুমীর দাম্পত্য জীবনের শুরু থেকেই বড় ভূমিকায় ছিলেন এই নায়কের মা। সবার আগে যেমন এই নায়ক সবকিছু মায়ের কাছে ভাগাভাগি করতেন, তেমনি তাঁর মা সব সময় ক্যারিয়ারের সব পরিস্থিতে সন্তানের পাশে থেকেছেন। যা ঘুরেফিরে এসেছে ওমর সানীর লেখায়।

ওমর সানী ও মৌসুমী

আজ শনিবার ওমর সানী তাঁর ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘১৯৯৫ সালের কথা। সেই দিনে জীবনের কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। আমার বাসা তখন ডিওএইচএস মহাখালী। আমি এবং মৌসুমী সেদিন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম বিয়ে করব।’

সেই দিনও ওমর সানী বিয়ের কথা মাকে জানান। পরিবার কী বলবে, মেনে নেবে কি না, সেই প্রশ্নে উদ্বিগ্ন ছিলেন। পরে পাশে ছিলেন তাঁর মা। সেদিনের ঘটনা প্রসঙ্গে তিনি লিখেছেন, ‘তখন অনেক ভেবেচিন্তে আমার মা বিয়ে পড়ানোর জন্য কাজি ডাকেন। আমাদের বিয়ে দেন। সেখান থেকে আজ অবধি আমরা একসঙ্গে আছি।’

নায়ক ওমর সানী। ছবি: সংগৃহীত

২০০০ সালের ২৩ মে ওমর সানীর মাকে হারান। ওমর সানী মা দিবসকে সামনে রেখে আরও লিখেছেন, ‘আজ আমার মা দুনিয়াতে নেই। বিশ্ব মা দিবসে অসীম ভালোবাসা আমার মায়ের জন্য। আর এই দুর্লভ ছবি আপনাদের দিলাম, মা আমি তোমাকে অনেক মিস করি, আই লাভ ইউ মা।’

মে মাসের ৬ তারিখ এই নায়কের জন্মদিন। একই মাসে মায়ের মৃত্যু হওয়ায় জন্মদিনটিও তাঁর ভালো কাটে না। গত বছর জন্মদিনেও মায়ের স্মৃতি তাকে কাঁদিয়েছে। এই নিয়ে গত বছর ফেসবুক স্ট্যাটাসে জানিয়েছিলেন, ‘আমার জন্মদিনে সেদিন থেকেই শূন্যতা, যেদিন আমার আম্মা মারা যান। ২০০০ সালের এই মাসের ২৩ তারিখেই আম্মা পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেন। এর পর থেকে এই দিনে ভাষাহীন থাকি। কিছুই ভালো লাগে না। বিবর্ণ থাকি। আমি চাইও না দিনটা উদ্‌যাপনের।’

ওমর সানী

একবার শুটিংয়ে চাবুকের আঘাতে জ্বর আসে ওমর সানীর। শুরুতে ওমর সানী কিছুই বোঝেননি। রাতে বাসায় ফেরার পর তাঁর মা দেখলেন, ছেলের পিঠ লাল হয়ে আছে। এরপর তো হুলুস্থুল অবস্থা। সেই অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করে ওমর সানী প্রথম আলোকে জানিয়েছিলেন, ‘শরীরের অবস্থা দেখে আমার সহকারীকে ডাকেন মা। চিৎকার করে বলতে থাকেন, কী হয়েছে আমার ছেলের? এই ছবির পরিচালক কে? তারে ডেকে নিয়ে আসো। আমার ছেলের এই অবস্থা কেন করছে? নায়িকাই-বা কে ছিল, কেন এভাবে আঘাত করেছে? বোনদের ডেকে অস্থির, একপর্যায়ে মা কাঁদতে থাকেন। তারপর মাকে বুঝিয়ে শান্ত করা হয়। পরে রাতে আমার গায়ে জ্বর চলে আসে। সেই জ্বর নিয়েই পরদিন আবার শুটিং যাই।’ সেদিনও মায়ের ভালোবাসা দেখে আবেগপ্রবণ হয়ে যান ওমর সানী।