২১ বছর পর বাবাকে খোঁজার গল্প

স্বল্পদৈর্ঘ্যটির পোস্টার
স্বল্পদৈর্ঘ্যটির পোস্টার

তখন শাওয়ানার বয়স ৯ বছর। সেই বয়সেই বাবাকে হারায় সে। তারপর চলে যায় সুইডেন। কেটে যায় শৈশব–কৈশোর। বাবার শূন্যতা দীর্ঘ সময় তাঁকে ভাবায়। বাংলাদেশে আসা–যাওয়ার মধ্যে থাকলেও গত বছর ভিন্নভাবে দেশে ফেরেন। দীর্ঘ ২১ বছর পর এবার বাবাকে খুঁজতেই দেশে আসেন তিনি। বাবাকে খোঁজার সেই গল্প নিয়েই তিনি তৈরি করেছেন স্বল্পদৈর্ঘ্য সিনেমা ‘দ্য রোড টু মাই ফাদার’। উৎসব ঘুরে স্বল্পদৈর্ঘ্যটি আজ বাবা দিবস উপলক্ষে ইউটিউবে প্রচার হবে।

শাওয়ানা খানের জন্ম ও বেড়ে ওঠা সুইডেনে। এখন সিনেমা বানানোর জন্য বাংলাদেশেই থাকেন। তিনি জানালেন, তাঁর স্বল্পদৈর্ঘ্যটি সুইডেনের স্টকহোম সিটি ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল, যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো আ টেস্ট অব থিয়েটার, ইতালির সাউন্ডস্ক্রিন, মস্কো শর্ট শট ফিল্ম ফেস্ট, কলকাতা শর্টফিল্ম ফেস্টিভ্যাল, ঢাকা ফিল্ম ফেস্টিভ্যালসহ একাধিক উৎসবে অংশ নেয় ও পুরস্কার পায়।

অভিনয় করেছেন পরিচালক নিজেই। ছবি: পরিচালকের সৌজন্যে

স্বল্পদৈর্ঘ্যটি নির্মাণ প্রসঙ্গে নির্মাতা জানান, বুঝতে শেখার পর তিনি পেশা হিসেবে সিনেমা নির্মাণকে বেছে নেন। ক্যারিয়ারের শুরুতে স্বল্পদৈর্ঘ্য বানানোর সময় একাধিক গল্প থাকলেও তাঁর বাবার কথাই তিনি বারবার ভাবেন। বাবাকে নিয়ে তাঁর খুব বেশি স্মৃতি নেই। সুইডেন থেকে সেই বাবার স্মৃতি খোঁজার উদ্দেশ্যে চলে আসেন কক্সবাজারের চকরিয়ায়।

শাওয়ানা বলেন, ‘এটি আমার ব্যক্তিগত অনুভূতির একটি সিনেমা। এর যাত্রা শুরু হয়েছিল ক্যামেরা হাতে নেওয়ারও অনেক আগে। এই চলচ্চিত্রের মাধ্যমে আমি কিছু স্মৃতির কাছে ফিরে যেতে চেয়েছি, আর খুঁজতে চেয়েছি এমন কিছু প্রশ্নের উত্তর, যা অনেক দিন ধরে আমার সঙ্গে ছিল।’ কিছুটা বিরতি নিয়ে তিনি আবার বলেন, ‘আমি জানার চেষ্টা করেছি বাবা কেমন ছিলেন, বাবার শেষ দিনগুলো কেমন ছিল। শেষ সময় বাবা কোথায় কাটিয়েছিলেন। বাবার পছন্দের জায়গায় কীভাবে কাটিয়েছেন। সেগুলো সিনেমায় দেখিয়েছি। এটা আমার ব্যক্তিগত জার্নি।’

গত বছর জানুয়ারিতে কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম শুটিং করেন। শুটিংয়ের সময়টা ছিল তাঁর জন্য খুবই আবেগের। এ সময় বাবার নানা কথা ভাবিয়েছে। ‘বাবা বেঁচে থাকলে আমার জীবনটা কেমন হতো, কত আবদার, কত অভিমান থাকত। এগুলো উপলব্ধি করেছি। আবার বাবার সেই পছন্দ জায়গাগুলো এখন শূন্য হয়ে আছে। আমাদের পৈতৃক বাসাটা খালি পড়ে আছে। যেখানে একসময় বাবার সময় কাটত। আমরাও একসময় সেখানে থাকতাম। এগুলো আমাকে ভীষণভাবে বাবার কথা মনে করিয়ে দিয়েছে। এসবের মধ্য দিয়েই আমি বাবাকে খোঁজার চেষ্টা করেছি,’ বলেন তিনি।

বাবা দিবসে স্বল্পদৈর্ঘ্যটি মুক্তি প্রসঙ্গে শাওয়ানা  বলেন, ‘স্বল্পদৈর্ঘ্যটি দেখার পর কেউ হয়তো তার বাবাকে আরও একটু মনে করবেন, কেউ হয়তো বাবার সঙ্গে বসে দেখবেন, আর কেউ হয়তো নিজের মধ্যেই নতুন কিছু খুঁজে পাবেন।’ এখানে মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করেছেন শাওয়ানা।

সিনেমাটি জুন হাম্বলভার্স ইউটিউব চ্যানেলে মুক্তি পাবে। চলতি বছর ভালোবাসা দিবসে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম বঙ্গতে শাওয়ানার ওয়েব ফিল্ম মিস্ট্রি ইন ব্লুম মুক্তি পায়। সে সিনেমাতেও তিনি তুলে ধরেছেন ব্যক্তিগত গল্প, স্মৃতি ও সম্পর্কের নানা দিক। জানালেন, এসবই তাঁর কাজের অংশ। এখন তিনি সিনেমার নির্মাণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।