মাহিয়া মাহি
মাহিয়া মাহি

‘আমি একা নই, অনেক নারী ভুক্তভোগী’, মুরাদ হাসান প্রসঙ্গে মুখ খুললেন মাহি

দীর্ঘদিন ধরেই দেশের বাইরে আছেন ঢালিউডের জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহি। স্বামী ও সন্তানকে নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে নিয়মিত ছবি–ভিডিও শেয়ার করলেও নতুন সিনেমা বা অভিনয় নিয়ে খুব একটা আলোচনায় নেই তিনি। তবে সম্প্রতি আলোচিত ও বিতর্কিত সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসানকে নিয়ে দেওয়া এক ভিডিও বার্তার কারণে আবার আলোচনায় এই ঢালিউড তারকা।

ঢালিউড তারকা মাহিয়া মাহি তাঁর ফেসবুক পেজে প্রকাশিত ভিডিওতে  মুরাদ হাসানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তোলেন। ভিডিওর ক্যাপশনে তিনি লেখেন, ‘অসভ্য মুরাদ ও বিহারিদের গাত্রদাহ। সবাইকে একবার শোনার অনুরোধ জানাচ্ছি। এটা একটা নায়িকা না, একজন মায়ের অনুরোধ।’

ভিডিওতে মাহি বলেন, একটি পুরোনো অডিও ক্লিপকে কেন্দ্র করে সামাজিক মাধ্যমে তাঁকে নিয়ে নানা ধরনের মন্তব্য করা হচ্ছে। কিন্তু পুরো ঘটনা না বুঝে অনেকেই তাঁকে দোষারোপ করছেন। তাঁর দাবি, অডিওতেই স্পষ্ট শোনা যায় যে ডা. মুরাদ হাসান বলছেন, ‘ও তো আমার ফোন ধরবে না।’

মাহিয়া মাহি

মাহি সবার উদ্দেশে বলেন, ‘আপনারা কি এতটুকুও বোঝেন না? অডিওতে তো স্পষ্ট শোনা যাচ্ছে, উনি (মুরাদ হাসান) বলছেন, ও তো আমার ফোন ধরবে না। তার মানে আমি তার ফোন ধরতাম না। আমাকে তিনি আমার ফোনে রিচ করতে পারতেন না বলেই অন্য একজনের ফোন ব্যবহার করে কথা বলেছেন। আমি তো তাকে ব্লক করে রেখেছিলাম।’

মাহি তাঁর ভিডিওতে বলেন, ‘অডিওতে উনি (মুরাদ হাসান) স্পষ্টভাবে বলছেন, র‍্যাব পাঠাব, পুলিশ পাঠাব, এনএসআই পাঠাব, ডিজিএফআই পাঠাব। যদি তার সঙ্গে আমার সম্পর্ক ভালো থাকত, তাহলে কি এসব বলতেন? আমি তাকে এতটাই এড়িয়ে চলতাম যে আমাকে ধরতে এসবের ভয় দেখাতে হয়েছে।’

ঢালিউড তারকা মাহির দাবি, বিষয়টি নিয়ে সে সময় তিনি প্রভাবশালী অনেক মানুষের কাছেই সাহায্য চেয়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমি যাঁদের চিনতাম, যাঁরা আমাকে সাহায্য করতে পারতেন, সবাইকে জানিয়েছি যে উনি (মুরাদ হাসান) আমাকে বিরক্ত করছেন, হুমকি দিচ্ছেন। অনেক সহকর্মীও বিষয়টি জানতেন।’

মাহিয়া মাহি

মাহি জানান, কয়েকজন সহকর্মী রাতের বেলায় তাঁকে ফোন করে মুরাদের সঙ্গে কথা বলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করতেন। পরে তাঁরা সতর্ক করে বলেন, রাত ১১টার দিকে তাঁদের ফোন এলে যেন তিনি রিসিভ না করেন, কারণ, তখন মুরাদ তাঁদের সামনেই থাকতেন। তিনি বলেন, ‘সবাইকে বলেছি উনি (মুরাদ হাসান) আমাকে ডিস্টার্ব করছেন। কিন্তু সবাই বলতেন, উনি তো মন্ত্রী, আমরা কী করব?’

ভিডিওতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রসঙ্গও টানেন মাহি। তাঁর ভাষ্যমতে, ‘আমি যদি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে কথা বলতে পারতাম, তাহলে অবশ্যই বিষয়টি জানাতাম। আমি বিশ্বাস করি, তিনি ব্যবস্থা নিতেন। কিন্তু তাঁর কাছে পৌঁছাতে না পারায় আমাকে বিষয়টি ভদ্রভাবে সামলাতে হয়েছে।’

মাহি আরও বলেন, ‘অনেকে বলছেন, উনি (মুরাদ হাসান) গালিগালাজ করলেও আমি হেসে কথা বলেছি। আমি কী করতাম? আমি যদি গালিগালাজ করতাম, পরে আমার কোনো ক্ষতি হলে তার দায়িত্ব কে নিত?’

স্বামী রাকিব সরকারের সঙ্গে মাহিয়া মাহি

ভিডিও বার্তার শেষ দিকে মাহি দাবি করেন, তিনি একা নন; দেশের মিডিয়া অঙ্গনের আরও অনেক নারীও মুরাদ হাসানের আচরণের কারণে বিব্রত বা হয়রানির শিকার হয়েছেন। তাঁর মতে, চলচ্চিত্রশিল্পী, সংবাদ উপস্থাপক ও সংগীতশিল্পীসহ বিভিন্ন অঙ্গনের অনেক নারী একই ধরনের অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন।