
রোববার সন্ধ্যার কথা বলছি। জাতীয় নাট্যশালার মূল মিলনায়তনটি প্রায় পূর্ণ। সন্ধ্যা ৭টায় শব্দযন্ত্রে ভরাট গলায় ভেসে আসছে নজরুল কাব্যকথা। মঞ্চে ছড়িয়ে পড়েছে আলোর প্রভা। শুরু হলো নজরুলের কবিতা ও সংগীত নিয়ে শিল্পীদের কোলাজধর্মী নৃত্য পরিবেশনা।
নজরুলের এক হাতে যদি থাকে ‘রণতূর্য’ তবে আরেক হাতে ‘বাঁশরী’। তাইতো তিনি মায়াবী কণ্ঠে গেয়েছেন ‘মোর প্রিয়া হবে এসো রাণী’, ‘মোরা আর জনমে হংসমিথুন ছিলাম।’ এভাবেই নজরুলের রোমান্টিক হৃদয় বাঙালিকে ভাসিয়ে দিয়েছে চিরকালের গানে। নজরুলের কাব্যে ঐতিহ্য ও পুরাণ যেন হাত ধরাধরি করে চলেছে। নজরুলের পঞ্চ সত্তার সমন্বয় কবিতা ও গান নিয়ে কোলাজধর্মী নৃত্য ‘বাঁশরী ও তূর্য হাতে কবি’।
রোববার জাতীয় নাট্যশালায় পরিবেশিত হয় এটি। পরিবেশন করে চট্টগ্রামের ওড়িষী অ্যান্ড টেগোর ড্যান্স মুভমেন্ট সেন্টার। অপূর্ব নৃত্য আর সঙ্গে একের পর এক নজরুলের গান। বিচিত্র সেসব গান। ‘নমো নমো নমো বাংলাদেশ মম’, ‘এ কি অপরূপ রূপে মা তোমায়’, ‘রিম ঝিম ঘন দেয়া’, ‘কারার ঐ লৌহ কপাট’, ‘শিকল পরা ছল মোদের’, ‘জাগো নারী জাগো বহ্নিশিখা’, ‘মোরা আর জনমে হংসমিথুন ছিলাম’, ‘কে দিল খোঁপাতে ধুতুরা ফুল’, ‘হলুদ গাঁদার ফুল’, ‘মোরা ঝঞ্ঝার মতো উদ্দাম’—এমনি চমৎকার ব্যঞ্জনাময় সংগীত মূর্ছনার সঙ্গে সঙ্গে শিল্পীদের চোখ ধাঁধানো ছন্দময় মুদ্রা সৌষ্ঠব, পরিশীলিত পরিবেশনা দর্শক মোহাবিষ্ট হয়ে উপভোগ করেছে। বিশেষ করে প্রমা অবন্তীর একক পরিবেশনা অনেকটা সময় দর্শকের মনে থাকবে। এক বসায় দর্শক পেয়েছে নজরুলের পঞ্চসত্ত্বার পরিচয়।
প্রায় ১ ঘণ্টার এ আয়োজনে নৃত্য পরিবেশন করেন প্রমা অবন্তী, স্বপন বড়ুয়া, তন্বী, নিবিড়, জয়ীতা, সঙ্গী, হিয়া, রিয়া, তুষি, স্মিতা, কান্তা, পারমিতা, পৃথা, শর্বাণী, দিহান, প্রিয়া, জুঁই, মার্টিনা, সঙ্গীতা, মৈত্রী, দিবা, দীপা, তুর্ণী, মৌরি, ইমরান, মামুন, অলি, আবীর, নাজমুল, কুমকুম, শওকতসহ এক দল নৃত্যশিল্পী।
চট্টগ্রামের ওডিশি অ্যান্ড টেগোর ড্যান্স মুভমেন্ট সেন্টারের ষোড়শ বর্ষপূর্তি উপলক্ষে দলটি ঢাকার শিল্পকলা একাডেমির মূল মিলনায়তনে দুই দিনের অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। আগের দিন শনিবার এ দলের নৃত্যশিল্পীরা ওডিশি নৃত্য পরিবেশন করে মুগ্ধ করেন দর্শক। এদিন ছয়জন বরেণ্য নৃত্যশিল্পীকে জানানো হয় সম্মাননা।
এ আয়োজনে সহযোগিতা করছে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়, শিল্পকলা একাডেমি ও ভারতীয় সহকারী হাই কমিশন, চট্টগ্রাম।