
দুই বছর আগে শুটিংবাড়িতে বিস্ফোরণে শরীরের ৩৫ শতাংশ পুড়ে যায়। হাত ও শরীরের পুড়ে যাওয়া সেই ক্ষত মেকআপ দিয়ে ঢেকে আবার ক্যামেরার সামনে এসে দাঁড়িয়েছেন শারমিন আঁখি। সুস্থ হয়ে কাজে ফেরা, কাজ নিয়ে অভিনেত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন মনজুরুল আলম।
এখন কেমন আছেন?
শারমিন আঁখি: শরীরের অবস্থা এখন আগের চেয়ে অনেক ভালো। দুই বছর তো হয়েই গেল। এখন আর অসুস্থতা নিয়ে ভাবি না বা ভাবতে হয় না। ভালো আছি আলহামদুলিল্লাহ।
নিয়মিত অভিনয় করতে পারছেন?
শারমিন আঁখি: আর কত দিন বসে থাকব। ফিরতে তো হবেই। এখন মনে হচ্ছে নিয়মিত কাজ করতে পারব। তবে যেহেতু দীর্ঘদিন কাজ করিনি, একটা গ্যাপ তৈরি হয়েছে। এই সময়ে শরীরের ওপরে অনেক বড় একটা ধকল গেছে। যে কারণে তাড়াহুড়া নেই, একটু ধীরে চলো নীতিতেই এগোচ্ছি।
শুটিংয়ে কোনো অস্বস্তি...
শারমিন আঁখি: আমার দুই হাতেই এখনো দাগ। কোথাও সাদা, কোথাও কালো। ন্যাচারালি এই দাগ যেতে আরও অনেক সময় লাগবে। সার্জারিও অনেক ব্যয়বহুল। আর আমার স্কিন এখনো সার্জারি সহ্য করার মতো তৈরি নয়। তবে শুটিংয়ের জন্য এই দাগ আমার বাধা নয়, বরং আমাকে সাহস দেয়। আমি শুটিংয়ে যাই, দুই হাতে মেকআপ নিই, বিষয়টা একটু সময়সাপেক্ষ। যে কারণে নির্মাতার কাজের যেন কোনো ক্ষতি না হয়, সেটা মাথায় রেখে কল টাইমের মিনিমাম এক ঘণ্টা আগে শুটিং সেটে গিয়ে জীবনযুদ্ধে নেমে পড়ি। এভাবে চলে যাচ্ছে আমার শুটিংয়ের দিনকাল।
বঙ্গতে আপনার অভিনীত ‘ফাইভ গো ওয়াইল্ড’ মুক্তি পেয়েছে। দেখে মনে হয়েছে বড় পরিসরে কাজ করতে হয়েছে। কোনো সমস্যা হয়নি?
শারমিন আঁখি: এই কনটেন্ট আমার জন্য অনেক বড় চ্যালেঞ্জিং ছিল। অভিনয় আমার জন্য কোনো বাধা হয়নি। কিন্তু এখানে একটি আইটেম সং রয়েছে, যার জন্য ১০ দিন আগে থেকে রিহার্সাল করতে হয়েছে, শারীরিক অবস্থার কারণে গানের সঙ্গে পারফরম্যান্স তুলনামূলক বেশি কঠিন ছিল। হঠাৎ কাজে ফেরার পর এত বড় একটি চাপ নিতে পারব কি না, সেটাই ভাবাচ্ছিল। এটাকেই আমি বড় চ্যালেঞ্জ মনে করেছিলাম। সে তুলনায় অন্য কাজের চেয়ে এ কাজে দ্বিগুণ মনোযোগ দিতে হয়েছে। আমি সফল হয়েছি। এটা অনেক বড় পাওয়া।
‘পিরিত কাঁডলের আডা’ আইটেম গানে ৫ তরুণের সঙ্গে আপনার পরিবেশনায় দর্শকের প্রতিক্রিয়া কী?
শারমিন আঁখি: ওই যে একটা কথা আছে না, ‘নিন্দুকেরে বাসি আমি সবার চেয়ে ভালো’, যারা নিন্দা করবে, সমালোচনা করবে, তাদের কাজ ওইটাই। আমার কাজ অভিনয় করে যাওয়া। চরিত্রের প্রয়োজনে তো সব ধরনের কাজই করতে হয়। এত কিছু ভেবে কাজ করলে তো আর কাজের বৈচিত্র্য আসবে না। আলাদা উপস্থাপনার জন্যই গানটি দর্শকদের নজর কেড়েছে।
কাজটির পরিচালক আপনার স্বামী রাহাত কবির। স্বামীর সঙ্গে কাজে কি বাড়তি স্বাধীনতা বা সুবিধা পাওয়া যায়?
শারমিন আঁখি: আমরা দুজন এক সেটে থাকলে কাজের জায়গায় শতভাগ পেশাদার থাকার চেষ্টা করি। এ কারণে বাড়তি স্বাধীনতা কিংবা কম স্বাধীনতা, এ বিষয়গুলো আসেই না। আর দশটা সেটে যেভাবে কাজ করতে হয়, সেভাবেই কাজ করি। বরং স্বামী পরিচালক হওয়ার কারণে ভালো অভিনয়ের বাড়তি দায়িত্ব নিতে হয়। পারফরম্যান্সের ক্ষেত্রে দায়িত্বটা আরও বেড়ে যায়। বাড়তি মনোযোগ দিতে হয়। কেউ যেন এটা নিয়ে কথা না বলতে পারে।
দুর্ঘটনায় না পড়লে ক্যারিয়ারে ভালো একটা অবস্থায় থাকতেন, এমনটা কি কখনো মনে হয়?
শারমিন আঁখি: ক্যারিয়ারে কোথায় যেতে পারতাম, এটা আমি কখনোই ভাবি না। বরং যেভাবে আছি, ভালো আছি। দীর্ঘ এক যুগের বেশি ক্যারিয়ারে চাওয়া–পাওয়ার আর নতুন কিছু নেই। যত দিন কাজ করে যেতে পারব, করে যাব। সুস্থ হয়ে দর্শকদের জন্য যদি কিছু কাজ করে যেতে পারি, সেটাই আমার প্রাপ্তির খাতায় যোগ হবে। বলতে পারেন, আমি অতীত নয়, ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবি।
ফেরার ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ কী ছিল?
শারমিন আঁখি: শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় আইটেম গানে নাচতে পারব কি না, কোনো জটিলতা তৈরি হবে কি না, এটাই ভাবাচ্ছিল। কারণ, এ ক্ষেত্রে প্রচুর শক্তির দরকার হয়। তবে মনোবল হারাইনি। আমার কাছে এটাই মনে হচ্ছিল, দুই বছর ধরে যুদ্ধ করছি, এখন আর ভয় পেলে চলবে না। যে যুদ্ধ জয় করেছি, সেখানে আর ভয় পাই না। কাজটাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবেই নিয়েছি। এটাই মনে হলো, জয়ের পাল্লাটাকে আরেকটু ভারী করি। শেষ পর্যন্ত মনে হয়েছে, আমি পেরেছি। আমি পারব।
কোনো পরিচালকের কাজ দেখে কি মনে হয়েছে, যদি ওনার প্রকল্পে কাজ করতে পারতাম...
শারমিন আঁখি: অনেক নির্মাতার কাজই তো ভালো লাগে। কিন্তু সে ইচ্ছার কথা বলে কী লাভ হবে? আমার জন্য দুঃখজনক হচ্ছে, নির্মাতারা কখনোই আমাকে নিয়ে আলাদা করে ভাবেন না। যদি ভাবতেন, তাহলে আমি যেভাবে ফিরেছি, যেভাবে হার না মেনে কাজ করে যাচ্ছি, সেখানে সহায়তা করতেন। নির্মাতাদেরই উচিত ছিল আমাকে একটু সুযোগ দেওয়া। এ নিয়ে আফসোস নেই। ভালো গল্প, ভালো চরিত্রের অপেক্ষায় থাকি। যে ডাকবে, তার কাজেই অভিনয় করব।