এনটিভিতে আজ বৃহস্পতিবার রাত ৮টা ২০ মিনিটে দেখানো হবে ধারাবাহিক নাটক ‘শহরবাস’। এ ছাড়া সপ্তাহের শুক্র ও শনিবার এই দুই দিন একই সময়ে দেখানো হচ্ছে নাটকটি। মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘শহরবাসের ইতিকথা’ উপন্যাসের ছায়া অবলম্বনে এই নাটকের রচয়িতা মাসুম রেজা ও পরিচালক আরিফ খান। নাটকের অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন সানজিদা প্রীতি। নাটকটিসহ অন্যান্য প্রসঙ্গে কথা হলো তাঁর সঙ্গে

‘শহরবাস’ নাটকে অভিনয়ের প্রস্তাব যখন পেয়েছিলেন, কোন দিকটি দেখে আপনি কাজটি করতে আগ্রহী হয়েছেন?
প্রথমত এটা মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাসের ছায়া অবলম্বনে তৈরি হচ্ছে। পরিচালক আরিফ ভাইয়ের সঙ্গেও কাজের অভিজ্ঞতা আছে। তাঁর সঙ্গে এক ঘণ্টার নাটকে যেমন করেছি, তেমনি চাঁদফুল অমাবস্যা ধারাবাহিকেও অভিনয় করেছি। দারুণ একটা কমফোর্ট লেভেল আছে। তা ছাড়া পারিবারিক গল্প। চরিত্রটাও বেশ ইন্টারেস্টিং—এসব ভেবেই করা অভিনয় করা।
এবারকার কাজের অভিজ্ঞতা কেমন?
মাত্র তো নাটকের প্রথম কিস্তি শেষ করলাম। এখনো ডিফারেন্ট কিছু ঘটেনি, বলার মতো তেমন কিছু না।
‘শহরবাসের ইতিকথা’ আগে পড়ার সুযোগ হয়েছিল?
অনেক আগে পড়া হয়েছিল। ছায়া অবলম্বনে বলতে, গল্পটুকুই শুধু এই নাটকে অনুসরণ করার চেষ্টা করা হয়েছে। অনেক কিছু তো চেঞ্জ করতে হয়েছে, যেহেতু সময়টা ভিন্ন। সে কারণে অনেক কিছুর বদল হয়েছে, শুধু মূল ভাবনাটা এক আছে।
অভিনয়শিল্পীদের বলতে শুনি, সাহিত্যধর্মী কাজের ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জটা একটু বেশি থাকে।
যেহেতু টাইম ফ্রেমটার বদল হয়েছে, তাই সামাজিক, অর্থনৈতিক ও পারিপার্শ্বিক ব্যাপারও বদলে গেছে। এত আগের মূল্যবোধের সঙ্গে খাপ খাওয়ানোটা কষ্টসাধ্য মনে হচ্ছে এই নাটকের ক্ষেত্রে। তবে অনেক সময় সাহিত্যধর্মী কাজ করলে আমরা ওই সময়কাল ধরার চেষ্টা করি। তখন বিষয়টা একটু সহজ হয়। যখন টাইমটা বদল করতে হয়, তখন তো চিন্তাধারাও বদলে ফেলতে হয়।
নতুন কাজকর্ম কী করছেন?
টেলিভিশনের নাটক তো এখন কম করা হচ্ছে। অনেক দিন পর শহরবাস–এর শুটিং করলাম। দুই-তিন বছর ওটিটির কাজই বেশি করা হয়েছে। চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেছি। গেল বছর মুক্তি পেয়েছে মৃধা বনাম মৃধা। ১৯৭১ সেইসব দিনগুলো ছবির সব কাজ শেষ, সেটা মুক্তির অপেক্ষায় আছে। এর বাইরে আরও কিছু কাজ করছি।
নতুন ছবিতে অভিনয়ের কথাবার্তা কি চলছে?
একটা ছবিতে অভিনয়ের ব্যাপারে কথাবার্তা হয়েছে। যেহেতু আমরা এখনো শুটিংয়ে যাইনি, তাই এটা নিয়ে আপাতত কিছু বলব না। গল্পটাই শুধু ফাইনাল হয়েছে।
অনেকে ওটিটি ও টেলিভিশনের কাজের নানা পার্থক্যের কথা বলেন। ইদানীং টেলিভিশনের কাজে যত্ন কমও বলে থাকেন।
যত্ন কম, সেটা বলব না। তবে টেলিভিশনে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ কমে গেছে। সব দিক থেকেই তো টেলিভিশনে সীমাবদ্ধতা অনেক বেশি। বাজেট যেমন কম থাকে, তেমনি গল্প নিয়েও বিধিনিষেধ বেশি। ওটিটিতে অনেক নতুন গল্প নিয়ে কাজ করা যায়। তারপরও টেলিভিশনে সীমাবদ্ধতা নিয়ে কাজ করা হলে আন্তরিকতা ও যত্নটাই বেশি।
কিন্তু স্বাধীনতা ও বাজেট যে কম।
অল্প সময়ের মধ্যে কাজ করতে গেলে তো অনেক কিছুতে আপস করতে হয়। বাজেট কম থাকে, তাই তাড়াহুড়া বেশি থাকে। আমাদের সবারই কিন্তু টেলিভিশন চ্যানেল থেকে কাজের শুরু। টেলিভিশনের কাজে আগ্রহ হারানোর বিষয়ে শিল্পীদের দিক থেকেও কোনো কারণ দেখি না। কিন্তু কিছু নীতিমালা বদল করতে হবে। টেলিভিশনকেও তো ওটিটির সঙ্গে পাল্লা দিতে হবে।
আপনি সাধারণত কোনো কাজ শুরুর আগে কোন বিষয়ে গুরুত্ব দেন বেশি?
সবকিছুকে গুরুত্ব দিই। পরিচালক কে, গল্প কেমন, আমার চরিত্র কেমন, শুটিং পরিবেশ কেমন থাকবে।
দীর্ঘ সময় ধরে অভিনয় করছেন। কোনো চরিত্রের প্রতি আলাদা কোনো ভালো লাগা রয়েছে?
কোনো চরিত্রের প্রতি ভালো লাগাটা ওভাবে আসলে চিন্তা করি না। যে চরিত্রটার প্রস্তাব পরিচালকের কাছ থেকে এল, সেটা ভালো করে করতে পারলাম কি না, সেটাই আসলে বিষয়। যত ভালো চরিত্রই হোক, আমি যদি ঠিকমতো করতে না পারি, তখন কী হবে।
যেকোনো চরিত্রের প্রস্তাব পাওয়ার পর প্রস্তুতিটা কীভাবে নিয়ে থাকেন?
প্রস্তুতি বলতে, পরিচালক যা চান সে অনুযায়ী নেওয়ার চেষ্টা করি। আমি কী ধরনের চরিত্র করব, সেটা তো আমি নির্ধারণ করছি না, যেহেতু আরেকজন নির্ধারণ করছে। তাই যেটাই আমার কাছে আসবে, সেটা আমি কত দূর করতে পারব, সেটার ডিরেকশন ডিরেক্টর না দিলে আমি কেমনে করব।