
গত শুক্রবার মুক্তি পাওয়া ‘এখানে রাজনৈতিক আলাপ জরুরি’ সিনেমায় অভিনয় করেছেন মডেল কেয়া আল জান্নাহ। আহমেদ হাসান পরিচালিত ছবিতে তাঁর অভিনয় পছন্দ করছেন দর্শক। তিনি করছেন একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের কাজ। গতকাল শনিবার দুপুরে তাঁর সঙ্গে কথা বলেছে প্রথম আলো।
‘এখানে রাজনৈতিক আলাপ জরুরি’ আপনার প্রথম চলচ্চিত্র?
কেয়া আল জান্নাহ: আমি মূলত বিজ্ঞাপনচিত্রে কাজ করি। কাস্টিং ডিরেক্টরদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ থাকে। বিভিন্ন কাজের আগে তাঁরা আমাকে ডেকে নেন। (আহমেদ হাসান) সানিদের অফিসে একটি বিজ্ঞাপনচিত্রের অডিশন দিতে গিয়েছিলাম। কাজটি হয়নি, তবে আমার অভিনয় তাঁদের ভালো লেগেছিল। সে কারণেই হয়তো পরে আমার ডাক পড়ে। যখন সিনেমার অডিশন চলছিল, দেখেছি, সমসাময়িক কিংবা আমার চেয়ে অভিজ্ঞ অভিনয়শিল্পীরাও এসেছেন। তাঁদের দেখে মনে হচ্ছিল, আমি কেন এসেছি, আমার তো টিকে থাকারই কথা নয়। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে টানা তিন দিন তিনবার আমার অডিশন নেওয়া হয়। তখনই মনে হয়েছিল, নিশ্চয়ই কিছু একটা হতে যাচ্ছে।
সিনেমায় অভিনয়ের জন্য চূড়ান্ত হওয়ার পর কেমন লেগেছিল?
কেয়া আল জান্নাহ: সত্যি বলতে, সুযোগ পাওয়ার পর একেবারেই বাক্রুদ্ধ ছিলাম। আমার মনে হয়েছে, সানিদের টিমটা পড়ুয়া, জানাশোনাও ভালো। তাই এই টিমের সঙ্গে কাজ করলে কিছু শেখা যাবে। অভিনয়ে (আজাদ আবুল কালাম) পাভেল ভাই আমার কাছে কিংবদন্তিতুল্য। তাঁর সঙ্গে দুই মিনিট কথা বলাও অনেক বড় পাওয়া। তিনি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অভিনয়ের ক্লাস ও কর্মশালা করান। তাঁর মেয়ের চরিত্রে অভিনয় করার সুযোগে শুটিংয়ের ফাঁকে বই, সিনেমা নিয়ে কথা হয়েছে, যেন আমার জন্য একটা কর্মশালাই হয়ে গেল। মাত্র চার দিনে একটা দারুণ শিক্ষাসফর হয়েছে। (এ কে আজাদ) সেতু ভাই ও (ইমতিয়াজ) বর্ষণ ভাইয়ের কাছ থেকেও অনেক কিছু শিখেছি। এ সিনেমায় অভিনয় করতে গিয়ে বুঝেছি, কীভাবে চরিত্রে ঢুকতে হয় আবার কীভাবে চরিত্র থেকে বের হতে হয়। এ জায়গাটাই সবচেয়ে বড় শিক্ষা।
অভিনয় নিয়ে আপনার পরিকল্পনা কী?
কেয়া আল জান্নাহ: মনে হয়েছে, ভয়েস মডিউলেশন নিয়ে কাজ করা খুব দরকার। শুক্রবার সিনেমা দেখার পর বিষয়টা আরও স্পষ্ট হয়েছে। আমি সাধারণ দর্শকদের সঙ্গে বসে সিনেমাটা দেখেছি। তখন কিছু দর্শক সরাসরি বলেছিলেন, ছবিটা ভালো, শিল্পী বাছাইও ভালো হয়েছে, তবে আমার চরিত্রটা তাঁদের মতে জমেনি। তাঁদের মতে, কণ্ঠে সমস্যা ছিল। এমন প্রতিক্রিয়া শুনে আমার কিন্তু ভালোই লেগেছে। এতে নিজের উন্নতির জায়গাটা বোঝা যায়। আমার কণ্ঠটা একটু বেশি চাইল্ডিশ শোনাচ্ছিল। যদিও চরিত্র অনুযায়ী সেটাও এক অর্থে মানানসই ছিল। এর আগে বাংলালিংকের একটি বিজ্ঞাপনচিত্র প্রচারের পর অনেকেই বলেছিলেন, আমার দুঃখী দুঃখী চেহারাটা ভালো লাগে। সব মিলিয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, এমন গল্পে কাজ করব, যেখানে অভিনয়ের সুযোগ থাকবে, আবেগ এক্সপ্লোর করা যাবে।
বাংলাদেশে আপনার প্রিয় অভিনয়শিল্পী কে?
কেয়া আল জান্নাহ: জয়া আহসানকে আমার ভীষণ ভালো লাগে। তাঁর অভিনয় খুব সহজাত। কিছুদিন আগে পিপলু আর খান ভাইয়ের বানানো ‘জয়া আর শারমীন’ দেখেছি। মনে হয়েছে, চরিত্রটা জয়া আহসান ছাড়া অন্য কেউ করতে পারতেন না। তিনি যে চরিত্রে অভিনয় করেন, সে চরিত্রই হয়ে ওঠেন। আমার কাছে মনে হয়, তিনি অভিনয় করছেন না, তিনি চরিত্রটায় বাঁচছেন।
বিনোদন অঙ্গনে কাজের ক্ষেত্রে পরিবার থেকে কী ধরনের সহযোগিতা পান?
কেয়া আল জান্নাহ: আমি একজন সিঙ্গেল মাদার। আমার ছেলের বয়স সাড়ে পাঁচ বছর। ছেলেকে বড় করার ক্ষেত্রে আমার পরিবার অসাধারণ সহযোগিতা করেছে। শুটিংয়ে যাওয়ার সময় আব্বা-আম্মা, ভাই-বোন, ভাবির কাছে ছেলেকে রেখে যেতে হয়। এই সহযোগিতা আমার জন্য অনেক বড় শক্তি। আমার পরিবারের চৌদ্দগুষ্টিতে কেউ বিনোদন অঙ্গনে কাজ করেনি। সিঙ্গেল মাদার হিসেবে একটা আলাদা সংগ্রাম তো আছেই। ছেলেকেও বুঝিয়ে কাজে যেতে হয়। তবে কয়েক বছরের অভ্যাসে সে–ও বুঝে গেছে, তার মা কাজ করে, শুটিংয়ের কারণে কয়েক দিন ঢাকার বাইরে থাকতে হয়।
নতুন কোনো কাজ করছেন?
কেয়া আল জান্নাহ: একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে কাজ করছি। এটি উৎসবের জন্য নির্মিত হচ্ছে। সালজার আহমেদ পরিচালিত ছবিটির নাম ‘বোবা’। প্রায় ২০ মিনিট দৈর্ঘ্যের এ ছবিতে আমি একমাত্র চরিত্রে অভিনয় করেছি।
বিনোদন অঙ্গনে শুরুটা কীভাবে?
কেয়া আল জান্নাহ: ২০১৬ সালে লালমাটিয়া কলেজে বিবিএ থার্ড ইয়ারে পড়ার সময় আগ্রহ থেকে সুপারমডেল প্রতিযোগিতায় অংশ নিই এবং সেরা দশে জায়গা করে নিই। কয়েক বছর পর স্টিল ফটোশুটের মডেল হিসেবে কাজ শুরু করি। এরপর ধীরে ধীরে বিজ্ঞাপনচিত্রে আসা। আমার প্রথম বিজ্ঞাপনচিত্র ছিল আদনান আল রাজীবের সঙ্গে ‘দেশাল’-এর একটি বিজ্ঞাপন, সম্ভবত ২০২১ বা ২০২২ সালে।
অভিনয় নিয়ে আপনার স্বপ্ন কী?
কেয়া আল জান্নাহ: অভিনয় আমার প্যাশন। এখন আমি এটা খুব ভালোবাসা ও গুরুত্ব দিয়ে করছি। ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রে কাজ করতে চাই। অভিনয়কে পুরোপুরি পেশা হিসেবে নিতে চাই। এমন কাজ করতে চাই যেন মানুষের মুখে মুখে আমার নাম থাকে—এটাই আমার স্বপ্ন।