তানিম নূর। ছবি: পরিচালকের সৌজন্যে
তানিম নূর। ছবি: পরিচালকের সৌজন্যে

হল থেকে ৮ কোটি টাকার বেশি ওঠানো কঠিন

এসেছে বনলতা এক্সপ্রেস সিনেমার ফার্স্টলুক ও টিজার। গত বৃহস্পতিবার ১ মিনিট ২১ সেকেন্ড দৈর্ঘ্যের টিজারটি প্রকাশের পরই সাড়া ফেলেছে। উৎসব-এরপর এই সিনেমা নিয়েই ঈদে ফিরছেন তানিম নূর। সিনেমার পোস্ট প্রোডাকশন, মুক্তি, পরবর্তী সিনেমাসহ নানা প্রসঙ্গে প্রথম আলোর মুখোমুখি হলেন পরিচালক। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন মনজুরুল আলম

প্রশ্ন

সিনেমার কাজ কত দূর?

তানিম নূর: আমাদের সিনেমার কাজ একদমই শেষের দিকে। ডাবিং, মিউজিক, সাউন্ড শেষের দিকে। এক সপ্তাহের মধ্যে সিনেমাটি আমরা সেন্সরে জমা দেব।

প্রশ্ন

পোস্ট প্রোডাকশনের কাজ কোথায় করছেন?

তানিম নূর: পোস্টের সব কাজ সব সময় দেশেই করি। আমি কখনোই দেশের বাইরে কোনো কাজ করি না। কিছু ক্ষেত্রে কালারের কাজ হয়তো বাইরে করি।

প্রশ্ন

অনেকেই তো পোস্ট প্রোডাকশনের কাজ করতে বাইরে যান!

তানিম নূর: সিনেমার কাজ করতে আমার দেশের বাইরে যাওয়ার প্রয়োজন পড়ে না। আমার কাছে মনে হয় টেকনিক্যালি সব সুবিধা এখানে রয়েছে। মেধাবী মানুষও আছে। সম্পাদনা, সাউন্ড, মিউজিকসহ সব কাজের সুবিধা এখানে আছে। উৎসব-এও কালারের কিছু কাজ ছাড়া সব কাজ দেশেই করেছিলাম। আমার দেশের বাইরে যাওয়ার প্রয়োজন পড়ে না।

প্রশ্ন

সিনেমা মুক্তির আগে কোনো বিষয় নিয়ে চিন্তিত?

তানিম নূর: না, তেমন চিন্তা করছি না। সবকিছু সুন্দরভাবে হয়েছে। সবাই খুব আন্তরিক ছিলেন। দারুণভাবে শুটিং শেষ করেছি।

প্রশ্ন

উৎসব সিনেমার সফলতার চাপ...

তানিম নূর: আগের ছবির কথা বললে, চিন্তা তো অবশ্যই হয়। দর্শকই তো চূড়ান্ত বিচারক। উৎসব-এর কারণে আমরা বেশি আশাবাদী। এবারও আমাদের প্রত্যাশা, সিনেমাটি দর্শকদের ভালো লাগবে।

প্রশ্ন

প্রচারণা নিয়ে কী ভাবছেন?

তানিম নূর: আমরা প্রচারণায় নতুনত্ব আনতে চাই। কদিন আগে আমাদের ক্যারেক্টার লুক প্রকাশ পেয়েছে। দর্শক সেগুলোর প্রশংসা করেছেন। আজ (গতকাল) টিজার প্রকাশ পেল। সেটা নিয়েও দর্শক প্রশংসা করছেন। দর্শকদের সরাসরি কানেক্ট করতে চাই। যে কারণে আমরা কিছু আউটডোর প্রোগ্রাম করব। বিলবোর্ড করার পরিকল্পনা রয়েছে। কিন্তু রোজার কারণে অনেক কিছুই করা যায় না। পরিকল্পনা করে শিগগির পুরো টিম নেমে পড়ব।

প্রশ্ন

বর্তমান ঢালিউড সিনেমার বাজার কাজের ক্ষেত্রে কোনো প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে?

তানিম নূর: বড় বাজেটের সিনেমা করলেই চিন্তা ভর করে। আমাদের সিনেমার বাজার এতটাই সংকুচিত যে বলার মতো নয়। এখানে একটা ছবি যতই হিট করুক, প্রযোজকের ৭-৮ কোটি টাকা ঘরে তোলা যায় না। হল থেকে ৮ কোটি টাকার বেশি ওঠানো কঠিন। ক্ষণবিশেষে ব্যতিক্রম ঘটনা ঘটে। আর বলতে গেলে সব আয় মাল্টিপ্রেক্সগুলো থেকেই আসে। সিঙ্গেল হল থেকে আয় খুব একটা আসে না। ওটিটি রাইট, টিভি রাইট থেকেও অল্প আয় আসে। আবার বিদেশের বাজার থেকে বড় অংশ আসে। যে কারণে বাজেট ও বাজার পরিকল্পনা করেই সিনেমা বানাতে হয়।

প্রশ্ন

গত বছর উৎসব নিয়ে কচ্ছপের গতিতে হেঁটেছিলেন, এবার মুক্তি নিয়ে পরিকল্পনা কী?

তানিম নূর: উৎসব-এর জন্য স্বল্পসংখ্যক হল আমরা কখনোই চাইনি। বরং আমাকে অল্প কয়েকটি স্ক্রিন দেওয়া হয়েছিল। সেখান থেকেই সিনেমাটি মেরিট দিয়ে একসময় সবচেয়ে বেশি হল পায়। দেখুন, কোনো প্রযোজকই চান না, কমসংখ্যক হলে তাঁর সিনেমা মুক্তি পাক। এবারও আমরা চাই, বনলতা এক্সপ্রেস দেশের সবচেয়ে বেশি হলে মুক্তি পাক। ঈদে তো বেশ চাপ থাকে। তবে উৎসব-এর সারপ্রাইজিং থেকে এবার মনে হচ্ছে ভালো সংখ্যক হল পাব।

প্রশ্ন

আপনার সিনেমাটি তারকাবহুল, এটা কি ব্যবসায়িক চিন্তা থেকে?

তানিম নূর: ব্যবসায়িক কোনো চিন্তা থেকে আমি একসঙ্গে এত তারকাকে কাস্টিং করিনি। যাঁদের কাস্ট করেছি, তাঁরা এই মুহূর্তে দেশের মেধাবী শিল্পী। কে না চাইবে মোশাররফ, চঞ্চল, রাজ, বাঁধন, দিনারদের নিয়ে কাজ করতে? আমার সিনেমার সবাই গুণী অভিনয়শিল্পী। আপনি যদি সিনেমার ব্যবসায়িক বিচারের কথা বলেন, তাহলে সিনেমায় কিন্তু একমাত্র শাকিব খান ছাড়া অন্য কারও নামে খুব একটা সিনেমা চলে না। ব্যতিক্রম তো রয়েছেই। শাকিব খানের কথা নির্দ্বিধায় বলা যায়। প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকেও দর্শক তাঁর সিনেমা দেখতে আসেন। গল্পের প্রয়োজনেই আমার চরিত্রগুলো দরকার ছিল।

প্রশ্ন

এবার শুটিংয়ে সবচেয়ে বেশি চ্যালেঞ্জিং কী ছিল?

তানিম নূর: এবার সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং ছিল ট্রেন বানানো এবং সেই ট্রেনের মধ্যে শুটিং করে সেটাকে ফুটিয়ে তোলা। ঝুঁকিপূর্ণ মনে হচ্ছিল। পরে আরামে কাজটা করেছি। কোনো দুর্ঘটনা হয়নি, শিডিউল নিয়ে কোনো জটিলতা ছিল না। শিল্পীরা সবাই দারুণ সাহায্য করেছেন। তাঁরাও কাজটি নিয়ে উৎসাহী ছিলেন।

প্রশ্ন

হ‌ুমায়ূন আহমেদের উপন্যাসটির কপিরাইট কবে নিয়েছিলেন?

তানিম নূর: অনেকেই মনে করেন, উপন্যাসটির কপিরাইট অনেক আগে নিয়েছি। এটা আসলে গত বছর আগস্টে নেওয়া। পরপরই শুটিং শুরু করেছি।

প্রশ্ন

‘কিছুক্ষণ’ উপন্যাসটি কেন আপনার কাছে বিশেষ মনে হলো?

তানিম নূর: সিনেমায় ট্রেনের আলাদা একটা স্পেস আছে। ট্রেন নিয়ে বহু সিনেমা আছে। সিনেমার ইতিহাসে প্রথম যে ছবি, সেখানেও ট্রেন আছে। নানাভাবে সিনেমায় ট্রেনের ব্যবহার এসেছে। মূলত স্পেস, গল্প ও থিমের কারণে এটি আমার পছন্দ ছিল। এই গল্পের মধ্য দিয়ে প্রতীকীভাবে হ‌ুমায়ূন আহমেদ বাংলাদেশকেই বোঝাতে চেয়েছেন। গল্পের মধ্য দিয়ে ছোট একটি বাংলাদেশের চিত্র ফুটে ওঠে। আমাদের ঝগড়াঝাটি হবে, মতের মিল ও অমিল হবে, তারপরও মিলেমিশে থাকতে হবে।

প্রশ্ন

পরবর্তী সিনেমা নিয়েও শুনলাম ভাবছেন...

তানিম নূর: ক্যারিয়ারে সব সময়ই সিনেমা করে যেতে চেয়েছি। সেই সুযোগ এখন পেয়েছি। এখন নিয়মিত সিনেমা করে যাব। আমার যত গল্পভাবনা ছিল, সব নিয়ে একের পর এক সিনেমা বানাব। বছরে দুটি সিনেমাও বানাতে পারি। বনলতা এক্সপ্রেস রিলিজ করি। দেখি কীভাবে দর্শক গ্রহণ করেন। তাঁরপরে পরবর্তী সিনেমার ঘোষণা দেব।