
বিশ্বখ্যাত ফ্যাশন ইতালীয় ডিজাইনার ও ভ্যালেন্তিনো ব্র্যান্ডের প্রতিষ্ঠাতা ভ্যালেন্তিনো গারাভানি মারা গেছেন। কিংবদন্তি এই ডিজাইনারের সঙ্গে যোগ আছে চলচ্চিত্রেরও। ২০০৬ সালের জনপ্রিয় সিনেমা ‘দ্য ডেভিল ওয়্যারস প্রাডা’–তে মেরিল স্ট্রিপ ও অ্যান হ্যাথাওয়ের সঙ্গে অভিনয় করেন তিনি।
১৯৩২ সালে জন্ম নেওয়া ভ্যালেন্তিনো গারাভানি সারা জীবনই মূলত নিজের প্রথম নামেই পরিচিত ছিলেন। ১৯৬০ সালে তিনি নিজের নামেই প্রতিষ্ঠা করেন বিলাসবহুল ফ্যাশন হাউস ‘ভ্যালেন্তিনো’। ষাটের দশকের শেষভাগে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ফার্স্ট লেডি জ্যাকি কেনেডি নিয়মিত তাঁর নকশার পোশাক পরতে শুরু করলে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পান তিনি।
ফ্যাশন ও তারকাদের জগতে সুপরিচিত ভ্যালেন্তিনো ২০০৬ সালে মুক্তি পাওয়া সিনেমা ‘দ্য ডেভিল ওয়্যারস প্রাডা’–তে অভিনেতা হিসেবে হাজির হন দর্শকের সামনে। ছবিতে তিনি প্যারিসে একটি ফ্যাশন শোর পেছনের দৃশ্যে ‘রানওয়ে’ ম্যাগাজিনের ক্ষমতাধর সম্পাদক মিরান্ডা প্রিস্টলি (মেরিল স্ট্রিপ) ও তাঁর টিমের সঙ্গে দেখা করেন। সেই দৃশ্যে তিনি মিরান্ডাকে বলেন, ‘মিরান্ডা, কেমন আছ? তোমাকে দেখে খুব ভালো লাগছে। আসার জন্য ধন্যবাদ। কালেকশনটা কেমন লেগেছে?’
এরপর ভ্যালেন্তিনো অ্যান হ্যাথাওয়ের অভিনীত চরিত্রের সঙ্গেও সৌজন্য বিনিময় করেন। সংক্ষিপ্ত হলেও এই উপস্থিতি সিনেমাটির অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত হয়ে ওঠে।
২০০৮ সালে ফ্যাশন দুনিয়া থেকে অবসর নেওয়ার আগে ভ্যালেন্তিনোর জীবন ও ক্যারিয়ার নিয়ে নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র ‘ভ্যালেন্তিনো: দ্য লাস্ট এম্পেরর’–এও তাঁকে দেখা যায়। নির্মাতা ম্যাট টারনাওয়ার সেখানে শুধু তাঁর ফ্যাশন–প্রভাবই নয়, ব্যবসায়িক ও ব্যক্তিগত জীবনও তুলে ধরেন। প্রামাণ্যচিত্রে ভ্যালেন্তিনোর দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক ও রোমান্টিক সঙ্গী জিয়ানকার্লো জিয়ামেত্তির কথাও উঠে আসে।
এই প্রামাণ্যচিত্রে অ্যান হ্যাথাওয়ে, গিনেথ প্যালট্রো, সারা জেসিকা পার্কার, উমা থারম্যান, এলিজাবেথ হার্লির মতো হলিউড তারকারা অংশ নেন। পাশাপাশি ফ্যাশনজগতের কিংবদন্তি কার্ল লাগারফেল্ড, টম ফোর্ড ও দোনাতেলা ভারসাচের মতো ব্যক্তিত্বরাও ছিলেন এতে।
হলিউড তারকাদের প্রিয় ডিজাইনার হিসেবে ভ্যালেন্তিনো নিয়মিতই লালগালিচার অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতেন। ২০০৮ সালের জানুয়ারিতে তাঁর শেষ রানওয়ে শোতেও ছিলেন অসংখ্য তারকা।
সেই শো নিয়ে পিপল ম্যাগাজিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রী ব্লেক লাইভলি বলেছিলেন, ‘আমি কাঁদতে শুরু করেছিলাম। অভিজ্ঞতাটা ছিল অসাধারণ। মনে হচ্ছিল, আমি ইতিহাসের অংশ হতে এসেছি।’
অভিনেত্রী উমা থারম্যানও বলেন, ‘এটা শেষ হতে দেখে খুব খারাপ লেগেছে। তিনি আমাদের সময়ের সবচেয়ে মার্জিত ডিজাইনারদের একজন।’
এন্টারটেইনমেন্ট উইকলি অবলম্বনে