অস্কারজয়ী স্প্যানিশ অভিনেতা হাভিয়ের বারদেমে অনেক দিন ধরেই ফিলিস্তিনে চলমান ইসরায়েলের আগ্রাসন নিয়ে সোচ্চার। এবার অস্কারের মঞ্চে দাঁড়িয়ে যুদ্ধবিরোধী বক্তব্য দিয়ে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন। সেরা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র পুরস্কার ঘোষণা করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘যুদ্ধ নয়, মুক্ত হোক ফিলিস্তিন।’ তার এই বক্তব্যের পরপরই অডিটোরিয়ামে উপস্থিত দর্শকদের কাছ থেকে জোরালো করতালি শোনা যায়।
এ মন্তব্যের মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত প্রসঙ্গ আবারও উঠে আসে। সাম্প্রতিক সময়ে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপ এবং ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাত নিয়ে বিশ্বজুড়ে বিতর্ক চলছে। সেই প্রেক্ষাপটেই অস্কারের মঞ্চে বারদেমের মন্তব্য অনেকের নজর কেড়েছে।
এর আগেও ফিলিস্তিন ইস্যুতে সরব হয়েছেন এই স্প্যানিশ অভিনেতা। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, গাজায় যা ঘটছে, সেটিকে তিনি গণহত্যা হিসেবে দেখেন। আন্তর্জাতিক গণহত্যা গবেষক সংস্থা আইএজিএসের বক্তব্যও তিনি উল্লেখ করেন। বারদেমের মতে, পরিস্থিতি থামাতে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক চাপ বাড়ানো দরকার।
চলতি পুরস্কার মৌসুমে রাজনৈতিক বক্তব্যও বেশ আলোচনায় রয়েছে। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বেশ কয়েকজন তারকা যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসননীতি নিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। লালগালিচায় ‘আইস আউট’ লেখা ব্যাজ পরে উপস্থিত হন অনেক শিল্পী।
এই উদ্যোগে অংশ নেওয়া তারকাদের মধ্যে ছিলেন বলি আইলিশ, মার্ক রাফালো, জাস্টিন বিবার, লেডি গাগা, সামুয়েল এল জ্যাকসন।
এদিকে বছরের শুরুতে সানড্যান্স উৎসবেও যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসননীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদে অংশ নেন অনেক তারকা। এবারের অস্কার অনুষ্ঠানে সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন জনপ্রিয় কৌতুক অভিনেতা কোনান ও’ব্রায়েন। সাধারণত অন্য সঞ্চালকদের মতো তিনি খুব বেশি রাজনৈতিক মন্তব্য করেন না।
তবে উদ্বোধনী বক্তব্যেই দর্শকদের সতর্ক করে দেন, ‘আজকের অনুষ্ঠান কিছুটা রাজনৈতিক হতে পারে।’ এ সময় তিনি মজা করে বলেন, যাঁরা এতে অস্বস্তি বোধ করবেন, তাঁরা চাইলে বিকল্প একটি অনুষ্ঠানে যেতে পারেন, যেটি নাকি সঞ্চালনা করবেন কিড রক। ও’ব্রায়েনের এ মন্তব্য আসলে যুক্তরাষ্ট্রের রক্ষণশীল সংগঠন টার্নিং পয়েন্ট ইউএসএয়ের একটি বিকল্প অনুষ্ঠানের প্রতি ইঙ্গিত। চলতি বছরের সুপার বোল উপলক্ষে তারা কিড রকসহ কয়েকজন শিল্পীকে নিয়ে একটি বিকল্প হাফটাইম কনসার্টের আয়োজন করেছিল। কৌতুকের ছলে বলা এই মন্তব্যে অডিটোরিয়ামে হাসির রোল পড়ে যায়। অনেকেই এটিকে সমসাময়িক রাজনীতি নিয়ে অস্কারের মঞ্চে হালকা ব্যঙ্গ হিসেবেই দেখছেন।
ভ্যারাইটি অবলম্বনে