‘বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আমি আরও বেশি ঝুঁকি নিতে শিখেছি’

অভিনেত্রী কোর্টেনি কক্স। ছবি: ইনস্টাগ্রাম
অভিনেত্রী কোর্টেনি কক্স। ছবি: ইনস্টাগ্রাম

হলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী কোর্টেনি কক্সের আজ জন্মদিন। ১৫ জুন তিনি পা দিলেন ৬১ বছরে। বিশ্বজুড়ে কোটি দর্শকের কাছে তিনি পরিচিত ‘ফ্রেন্ডস’ সিরিজের মনিকা গেলার চরিত্রের জন্য। তবে কোর্টেনির যাত্রা শুধু একটি জনপ্রিয় টিভি চরিত্রে সীমাবদ্ধ নয়, পেছনে রয়েছে সংগ্রাম, আত্মসন্দেহ, ব্যর্থতার ভয় আর নিজেকে নতুন করে আবিষ্কারের গল্প।

মডেলিং থেকে অভিনয়ে
এই অভিনেত্রী ১৯৬৪ সালের ১৫ জুন যুক্তরাষ্ট্রের আলাবামার বার্মিংহামে জন্মগ্রহণ করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থাপত্যবিদ্যা পড়লেও সেই পথ শেষ করেননি। নিউইয়র্কে গিয়ে মডেলিং শুরু করেন। তাঁর বড় সুযোগ আসে ১৯৮৪ সালে। তিনি মিউজিক ভিডিওতে অভিনয় করে আলোচনায় আসেন। সেই সময় বেশ কয়েকটি মিউজিক ভিডিও থেকে ৩৫০ ডলার পারিশ্রমিক পেয়েছিলেন। পারিশ্রমিক কম হলেও এই কাজগুলো দিয়েই দর্শকদের কাছে পরিচিতি পেতে থাকেন। এরপর ‘ফ্যামিলি টাইস’ সিরিজে অভিনয় করে টেলিভিশনে নিজের অবস্থান তৈরি করেন।

অভিনেত্রী কোর্টেনি কক্স। ছবি: এএফপি

‘ফ্রেন্ডস’ বদলে দেয় জীবন
১৯৯৪ সালে শুরু হয় টিভি ইতিহাসের অন্যতম জনপ্রিয় সিরিজ ‘ফ্রেন্ডস’। এতে মনিকা গেলার চরিত্রে দর্শক পছন্দের তারকা হয়ে যান। শুধু হলিউডেই নয়, বিশ্বজুড়ে তারকা হয়ে ওঠেন। সিরিজটি টানা ১০ বছর সম্প্রচারিত হয় এবং আজও নতুন প্রজন্মের দর্শকের কাছে সমান জনপ্রিয়। ‘ফ্রেন্ডস’-এর সাফল্যের পর অনেক অভিনেতা বড় পর্দায় সফল হতে পারেননি। কোর্টেনিও সেই চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হন। তবে তিনি থেমে থাকেননি। সিনেমাতেও নিয়মিত অভিনয় করতে থাকেন।

যা ছিল বড় বাধা
বাইরে থেকে আত্মবিশ্বাসী মনে হলেও কোর্টেনি কক্স নিজেই স্বীকার করেছেন যে জীবনের দীর্ঘ সময় তিনি ‘ইমপোস্টার সিনড্রোমে’ ভুগেছেন। অর্থাৎ নিজের সাফল্যকে প্রাপ্য মনে হতো না। ২০২৪ সালে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেছিলেন, ‘যখন আমি তরুণ ছিলাম, তখন নিজেকে অনেক সময় একজন “ইমপোস্টার” মনে হতো। দীর্ঘ সময় আমার আত্মবিশ্বাস ছিল না।’ বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি এখন আরও আত্মবিশ্বাসী হয়েছেন। এখন তিনি ঝুঁকি নিতে ভয় পান না এবং নিজের সিদ্ধান্তে বেশি আস্থা রাখেন। যে কারণে দেরিতে ৩৯ বছর বয়সে মা হয়েছেন।

অভিনেত্রী কোর্টেনি কক্স। ছবি: ইনস্টাগ্রাম

ব্যক্তিগত জীবনের কঠিন সময়
কোর্টেনির ব্যক্তিগত জীবনও সহজ ছিল না। অভিনেতা ডেভিড আর্কুয়েটের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়েছিল। তাঁদের এক মেয়ে রয়েছে। কিন্তু তাঁদের মধ্যে বিচ্ছেদ হয়। দীর্ঘ সম্পর্ক বিচ্ছেদের পর দুজনই সন্তানের অভিভাবক হিসেবে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখেছেন। এ ছাড়া বয়স, সৌন্দর্য ও হলিউডের অবাস্তব প্রত্যাশা নিয়েও তাঁকে সমালোচনার মুখোমুখি হতে হয়েছে। একাধিক সাক্ষাৎকারে তিনি স্বীকার করেছিলেন, ‘অতীতে নিজের চেহারা নিয়ে অতিরিক্ত উদ্বিগ্ন ছিলাম। সেই সিদ্ধান্তগুলোর জন্য আজও আফসোস হয়।’

আয় ও সম্পদের পরিমাণ
কোর্টেনি কক্সের মোট সম্পদের পরিমাণ বর্তমানে প্রায় ১৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। তাঁর আয়ের বড় উৎস ‘ফ্রেন্ডস’ থেকে দীর্ঘমেয়াদি রয়্যালটি, যা এখনো তিনি পান। এ ছাড়া চলচ্চিত্র ও টেলিভিশনে অভিনয়, প্রযোজনা আর ব্যবসা থেকেও তিনি আয় করেন।

অভিনেত্রী কোর্টেনি কক্স। ছবি: ইনস্টাগ্রাম

যা বারবার বলেন
একসময় ঝুঁকি নিতে ভয় পেলেও বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কক্স নিজেকে বদলে ফেলেন। বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে সেগুলোই ঘুরেফিরে এসেছে। তিনি একবার বলেছিলেন, ‘বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আমি আরও বেশি ঝুঁকি নিতে শিখেছি। এখন আমি কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণে ভয় পাই না।’ এ ছাড়া তাঁর উল্লেখযোগ্য উক্তির মধ্যে রয়েছে, ‘একসময় এসে মানুষ নিজের সময়ের মূল্য বুঝতে শেখে। আমি এখন সময় সম্পর্কে অনেক সচেতন। ভালো কাজগুলো এখন করতে চাই।’ এ ছাড়া তাঁর পছন্দের উক্তি, ‘যদি কোনো কিছু করতে না চাই, এখন আমি “না” বলতে পারি। যা আগে পারতাম না।’
আইএমডিবি অবলম্বনে

অভিনেত্রী কোর্টেনি কক্স। ছবি: ইনস্টাগ্রাম