ট্রাম্প-সমর্থিত সেভ আমেরিকা অ্যাক্ট নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে সমালোচনার ঝড়। মেরিল স্ট্রিপও তাতে যোগ দিলেন। ১ এপ্রিল ‘দ্য লেট শো উইথ স্টিফেন কোলবার্ট’-এ তিনি বলেন, আইনটি পাস হলে বিবাহিত নারীরা ভোট দিতে ভোগান্তির মুখে পড়বেন।
এদিন অনুষ্ঠানের একেবারে শেষ দিকে সঞ্চালক স্টিফেন কোলবার্ট মেরিল স্ট্রিপকে জিজ্ঞেস করেন—বিনোদনজগৎ, সিনেমা বা সামগ্রিকভাবে বিশ্বের কোনো বিষয় নিয়ে এমন কিছু আছে কি, যা নিয়ে কথা বলতে চেয়েছিলেন কিন্তু বলা হয়নি। অভিনেত্রী তখন বলেন, ‘হ্যাঁ। যদি সেভ আমেরিকা অ্যাক্ট পাস হয়, তাহলে যেসব বিবাহিত নারী তাঁদের নাম পরিবর্তন করেছেন, তাঁদের সবাইকে গিয়ে রেজিস্ট্রারের কাছে প্রমাণ দিতে হবে—তাঁরা আসলে তাঁরাই।’
মেরিল স্ট্রিপ আরও বলেন, ‘আমি যতটুকু বুঝি—নভেম্বরে ভোট দিতে গেলে যদি জন্মসনদের নাম আর ভোটার তালিকার নাম না মেলে, তাহলে আপনাকে অযোগ্য ঘোষণা করা হতে পারে। সবারই তখন প্রমাণ দিতে হবে…।’ এই সময় স্টুডিওতে উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে থেকে ‘বু’ ধ্বনি শোনা যায়, যা তাঁর বক্তব্যকে কিছুক্ষণের জন্য থামিয়ে দেয়। তিনি খানিকটা দুষ্টুমিভরা দৃষ্টিতে দর্শকদের দিকে তাকান।
স্ট্রিপ সরাসরি ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম না বললেও তাঁর বার্তা স্পষ্ট। তিনি বলেন, ‘এটা ভীষণ ঝামেলার বিষয়। যেসব নারী বিয়ের পর পদবি পরিবর্তন করেছেন, তাঁদের ভোটার তালিকার নাম ও জন্মসনদের নাম আলাদা। ফলে রেজিস্ট্রারের কাছে গিয়ে পরিচয় প্রমাণ করতে হবে। অন্যথায় ভোটকেন্দ্র থেকে তাঁদের ফিরিয়ে দেওয়া হতে পারে। আমি মনে করি, এই সময়ে নারীদের আরও সোচ্চার হওয়া উচিত। তাঁদের মতামত গুরুত্বপূর্ণ।’
এই আইন চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদে পাস হয়। প্রস্তাবিত এই আইনে ভোটারদের নাগরিকত্ব প্রমাণে আগের স্বঘোষণার বদলে আনুষ্ঠানিক নথিপত্র প্রদর্শন বাধ্যতামূলক করা হবে। যাঁদের বৈধ মার্কিন পাসপোর্ট নেই, তাঁদের জন্মসনদ ও পরিচয়পত্র মিলিয়ে দেখাতে হবে। ফলে বিয়ের পর পদবি পরিবর্তন করা নারীদের জন্য এই প্রক্রিয়া জটিল হয়ে উঠতে পারে।
তবে বিলটি এখনো সিনেটে আটকে আছে, যেখানে এটি এগিয়ে নিতে ৬০ ভোট প্রয়োজন। ডেমোক্র্যাটদের সমর্থন পেতে সংশোধনপ্রক্রিয়া চলছে, পাশাপাশি রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাদের ওপর চাপও অব্যাহত রয়েছে।
একই দিনে ডোনাল্ড ট্রাম্প ডাকযোগে ভোট নিয়ে আবারও কঠোর অবস্থান নেন। তিনি একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন, যেখানে ‘যাচাইকৃত’ ভোটার ছাড়া অন্য কারও ডাকযোগে ভোট দেওয়ার সুযোগ সীমিত করার কথা বলা হয়েছে।
স্ট্রিপের এটাই প্রথম ট্রাম্পের বিরোধিতা নয়; ২০১৬ সালে তিনি ট্রাম্পের বেশ ধারণ করে মঞ্চে ব্যঙ্গাত্মক পরিবেশনা করেছিলেন। পরের বছর গোল্ডেন গ্লোব অ্যাওয়ার্ডসে আজীবন সম্মাননা গ্রহণের সময় ট্রাম্পের একটি আচরণের তীব্র সমালোচনা করেন।
তিনি বলেন, এক নির্বাচনী প্রচারণায় ট্রাম্প এক প্রতিবন্ধী সাংবাদিককে ব্যঙ্গ করেন; যে দৃশ্য তাঁকে ভীষণভাবে নাড়া দিয়েছিল। ‘যে ব্যক্তি দেশের সবচেয়ে সম্মানিত আসনে বসার দাবি করছেন, তিনি এমন একজনকে ব্যঙ্গ করছেন—যাঁর ক্ষমতা, প্রভাব ও প্রতিরোধের সামর্থ্য তাঁর চেয়ে অনেক কম। সেই দৃশ্য আমার হৃদয় ভেঙে দিয়েছিল,’ বলেছিলেন তিনি।
ফক্স নিউজ, ডেইলি বিস্ট অবলম্বনে