উডি অ্যালেন দম্পতির সঙ্গে জেফরি এপস্টেইনের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের ইঙ্গিত মিলেছে। কোলাজ
উডি অ্যালেন দম্পতির সঙ্গে জেফরি এপস্টেইনের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের ইঙ্গিত মিলেছে। কোলাজ

এপস্টেইন যে প্রখ্যাত নির্মাতার মেয়েকে কলেজে ভর্তি হতে সাহায্য করেছেন

হলিউড নির্মাতা উডি অ্যালেন প্রযুক্তিবিমুখ হিসেবেই দীর্ঘদিন পরিচিত ছিলেন। ডিজিটাল প্রযুক্তির প্রতি তাঁর অনীহা ছিল প্রকাশ্য—এমনকি নিজের ছবির ডিজিটাল প্রিন্ট দিতেও রাজি হতেন না তিনি। তবে তাঁর পরিবারের অন্য সদস্যদের ক্ষেত্রে সেই অনীহা যে প্রযোজ্য ছিল না, তা নতুন করে সামনে এসেছে স্ত্রী সুন-ই প্রেভিনের জেফরি এপস্টেইনকে পাঠানো একাধিক ব্যক্তিগত ই–মেইল প্রকাশের পর।

সম্প্রতি ফাঁস হওয়া ই–মেইলগুলো থেকে উডি অ্যালেন দম্পতির ব্যক্তিগত জীবন এবং কুখ্যাত যৌন অপরাধী ও মানব পাচারকারী জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে তাঁদের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের ইঙ্গিত মিলেছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের নথিতে উঠে আসা এসব ই–মেইলে দেখা যায়, প্রেভিন কখনো নিজের, কখনো উডি অ্যালেনের পক্ষ থেকেও এপস্টেইনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। সেখানে তিনি সমসাময়িক নানা বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন এবং ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য অনুরোধও করেছেন।

কলেজে ভর্তিতে এপস্টেইনের ভূমিকা
২০১৭ সালের একটি ই–মেইল আদান-প্রদানে দেখা যায়, প্রেভিন এপস্টেইনকে ধন্যবাদ জানাচ্ছেন তাঁদের মেয়ে বেচেট অ্যালেনের নিউইয়র্কের বার্ড কলেজে ভর্তি হওয়ার ক্ষেত্রে সহায়তার জন্য। অভিযোগ অনুযায়ী, কলেজটির প্রেসিডেন্ট লিয়ন বটস্টেইনের সঙ্গে এপস্টেইনের ব্যক্তিগত সম্পর্কের সুবাদে এই সুযোগ তৈরি হয়।

একটি ই–মেইলে উডি অ্যালেনের স্ত্রী প্রেভিন লেখেন, ‘আমি মনে করি, বেচেটের জন্য ভালো হবে যদি সে আগে থেকে না জানে যে সে ভর্তি হয়ে গেছে। এতে সে আরও চেষ্টা করবে এবং বার্ডে সুযোগ পেলে সেটার মূল্য বুঝবে। আমাদের জন্য এটা করে দেওয়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। উডি বলেছে, বেচেট যদি একদিন স্কুলে ভালো করে, তাহলে তার কৃতিত্ব তোমারই।’

উডি অ্যালেন ও সুন-ই প্রেভিন। রয়টার্স

তবে বার্ড কলেজের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বেচেট অ্যালেন তাঁর যোগ্যতার ভিত্তিতেই ভর্তি হয়েছিলেন। কলেজ কর্তৃপক্ষের দাবি, প্রতিবছর প্রায় ৪০ শতাংশ আবেদনকারীই নিজ যোগ্যতায় সেখানে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পান। এপস্টেইনকে নিয়ে কলেজের এক মুখপাত্র নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেন, ‘তিনি ছিলেন একজন মিথ্যাবাদী, যিনি প্রতিদিন সূর্য ওঠার কৃতিত্বও নিজের ঘাড়ে নিতে চাইতেন।’

জেফরি এপস্টেইন

বিতর্কিত মন্তব্য ও #মিটু প্রসঙ্গ
ই–মেইলগুলোতে শুধু কলেজ ভর্তির বিষয় নয়, আরও বেশ কিছু বিতর্কিত মন্তব্যও উঠে এসেছে। ২০১৬ সালের একটি ই–মেইলে প্রেভিন কুখ্যাত রাজনীতিবিদ অ্যান্থনি ওয়াইনারের কেলেঙ্কারি নিয়ে মন্তব্য করেন। সেখানে তিনি এক নাবালিকা মেয়েকে দোষারোপ করে লেখেন, মেয়েটি নাকি ইচ্ছাকৃতভাবে ওয়াইনারকে ফাঁদে ফেলেছিল। এই মন্তব্য সামাজিক মাধ্যমে নতুন করে সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

টিমোথি শ্যালামেকে নিয়ে কটাক্ষ
২০১৮ সালের একটি ই–মেইলে প্রেভিন অভিনেতা টিমোথি শ্যালামেকে নিয়েও কটূক্তি করেন। তিনি লেখেন, ‘আমি খুশি যে ওই বদমাশ শ্যালামের ছবিটি ভালো রিভিউ পায়নি।’

এখানে তিনি ইঙ্গিত করেছিলেন উডি অ্যালেন পরিচালিত ছবি ‘আ রেইনি ডে ইন নিউইয়র্ক’-এর দিকে, যেখানে শ্যালামে অভিনয় করেছিলেন। ছবিটি সেই সময় #মিটু আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে ব্যাপক বিতর্কে পড়ে এবং শেষ পর্যন্ত অ্যামাজন সেটি মুক্তি না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

প্রেভিন আরও যোগ করেন, ‘না, আমি প্রতিহিংসাপরায়ণ নই,’—যদিও ই–মেইলের ভাষা সেই দাবির সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলেই মনে করছেন অনেকেই।

প্রতিক্রিয়া অনিশ্চিত
এই ই–মেইল প্রকাশের পর উডি অ্যালেন বা সুন-ই প্রেভিনের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। উডি অ্যালেনের প্রতিনিধিরাও মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেননি।

ভ্যারাইটি অবলম্বনে