‘হ্যামনেট’ সিনেমা ও অস্কার হাতে জেসি বাকলি। কোলাজ
‘হ্যামনেট’ সিনেমা ও অস্কার হাতে জেসি বাকলি। কোলাজ

সন্তান হারানো মায়ের চরিত্রে অভিনয়, মা দিবসেই অস্কার জিতলেন

অস্কারে ইতিহাস গড়লেন জেসি বাকলি। একাডেমি অ্যাওয়ার্ডসের এবারের আসরে ‘হ্যামনেট’ সিনেমায় অসাধারণ অভিনয়ের জন্য তিনি জিতেছেন সেরা অভিনেত্রীর অস্কার পুরস্কর। এর মধ্য দিয়ে তিনি হয়ে গেলেন অস্কারের ইতিহাসে প্রথম আইরিশ অভিনেত্রী, যিনি এই বিভাগে পুরস্কার জিতলেন।

এটি ছিল জেসি বাকলির ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় অস্কার মনোনয়ন। এর আগে তিনি ‘দ্য লস্ট ডটার’ সিনেমার জন্য সেরা পার্শ্ব অভিনেত্রীর বিভাগে মনোনীত হয়েছিলেন। তবে এবার তিনি শুধু মনোনীতই নন, পুরস্কারও জিতে নিয়েছেন দাপটের সঙ্গে।

পুরস্কার মৌসুমে একের পর এক সাফল্য
অস্কারের আগে থেকেই পুরস্কার–দৌড়ে এগিয়ে ছিলেন বাকলি। তিনি জিতেছিলেন বাফটা, গোল্ডেন গ্লোবস, ক্রিটিক চয়েস অ্যাওয়ার্ডস ও অ্যাক্টরস অ্যাওয়ার্ডসে সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কারসহ বড় বড় সম্মাননা। ফলে অস্কারের মঞ্চেও তাঁর জয়ের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি বলেই মনে করা হচ্ছিল। তবু নিজের নাম ঘোষণার মুহূর্তে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি তিনি। মঞ্চে উঠে প্রথমেই ধন্যবাদ জানান সহমনোনীত অভিনেত্রীদের—রোজ বার্ন, কেট হাডসন, রেনাতে রেইনসভে ও এমা স্টোনকে। তিনি বলেন, ‘আপনাদের শিল্প আর হৃদয় আমাকে অনুপ্রাণিত করে। ভবিষ্যতে আপনাদের প্রত্যেকের সঙ্গে কাজ করতে চাই।’

অস্কার হাতে জেসি বাকলি। এএফপি

পরিবারকে ধন্যবাদ, মেয়েকে ভালোবাসা
বাকলি জানান, তাঁর পুরো পরিবারই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিল। মঞ্চ থেকে দর্শকসারিতে থাকা মা–বাবাকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের স্বপ্ন দেখতে শিখিয়েছেন আপনারা। কখনো প্রত্যাশার সীমায় আটকে থাকতে বলেননি।’
স্বামী ফ্রেডি সরেনসেনের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, ‘তুমি অসাধারণ একজন বাবা এবং আমার সবচেয়ে ভালো বন্ধু।’ তাঁদের আট মাসের ছোট মেয়েটি অবশ্য অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিল না। মজা করে বাকলি বলেন, ‘ও হয়তো এখন কিছুই বুঝছে না, হয়তো স্তন পান করার কথা ভাবছে। তবে তাঁর মা অস্কার জিতেছে—এটা কিন্তু বড় ব্যাপার।’

এবারের সম্মাননার একটি বিশেষ তাৎপর্যও ছিল। কারণ, যুক্তরাজ্যে সেই দিনটি ছিল মাদার্স ডে। তাই পুরস্কারটি তিনি উৎসর্গ করেন মায়েদের। তাঁর ভাষ্যে, একজন মায়ের হৃদয়ের সুন্দর ‘বিশৃঙ্খলাপূর্ণ’; তাদের জন্য এই পুরস্কার।

‘হ্যামনেট’ সিনেমার দৃশ্য। আইএমডিবি

‘হ্যামনেট’ চলচ্চিত্রে আবেগঘন অভিনয়
‘হ্যামনেট’ চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেছেন অস্কারজয়ী নির্মাতা ক্লোয়ি ঝাও। ঐতিহাসিক কাহিনিনির্ভর এই ছবিতে বাকলি অভিনয় করেছেন অ্যাগনেস চরিত্রে, যিনি এক দরিদ্র লাতিন শিক্ষককে ভালোবেসে বিয়ে করেন। পরে যিনি বিশ্বখ্যাত নাট্যকার উইলিয়াম শেক্‌সপিয়ার হিসেবে পরিচিত হন। ছবিতে শেক্‌সপিয়ারের চরিত্রে অভিনয় করেছেন পল মেসক্যাল। গল্পে দেখা যায়, তাঁদের তিন সন্তানের মধ্যে একমাত্র ছেলে হ্যামনেট প্লেগে মারা যায়। সেই শোক ও পারিবারিক ট্র্যাজেডিই পরে শেক্‌সপিয়ারের বিখ্যাত নাটক ‘হ্যামলেট’ রচনার অনুপ্রেরণা হয়ে ওঠে।

গত বছর এই ছবির প্রিমিয়ারের পর থেকেই জেসি বাকলির অভিনয় ব্যাপক প্রশংসা কুড়ায়। অনেক সমালোচক তখনই বলেছিলেন, এটি হতে পারে তাঁর ক্যারিয়ারের বড় মোড়। এর আগে ‘ওমেন টকিং’ ও  ‘ওয়ার্ল্ড রোজ’-এ অভিনয় করে সমালোচকদের নজর কেড়েছিলেন তিনি। সবশেষ চলতি বছরই মুক্তি পেয়েছে জেসি অভিনীত সিনেমা ‘দ্য ব্রাইড’। ছবিতে তাঁর সহ-অভিনেতা ক্রিশ্চিয়ান বেল।

অস্কারের মঞ্চে এই জয়ের মধ্য দিয়ে জেসি বাকলি শুধু নিজের ক্যারিয়ারের নতুন অধ্যায়ই খুললেন না; বরং আইরিশ সিনেমার ইতিহাসেও লিখে দিলেন নতুন এক মাইলফলক।

ভ্যারাইটি অবলম্বনে