‘রাম তেরি গঙ্গা মইলি’ সিনেমায় মন্দাকিনি। আইএমডিবি
‘রাম তেরি গঙ্গা মইলি’ সিনেমায়  মন্দাকিনি। আইএমডিবি

‘অশ্লীলতা মনে হয়নি’, ‘রাম তেরি গঙ্গা মইলি’র বিতর্কিত ঝরনার দৃশ্য নিয়ে মন্দাকিনী


রাজ কাপুরের ‘রাম তেরি গঙ্গা মইলি’ ছবির সেই ঝরনার দৃশ্য। সাদা শাড়ি পরা নায়িকা মন্দাকিনী, শরীর বেয়ে গড়িয়ে পড়ছে পানি। ১৯৮৫ সালে মুক্তির পর থেকে বলিউডের অন্যতম আলোচিত ও বিতর্কিত দৃশ্য হয়ে আছে এটি। ছবির আরেকটি দৃশ্য—শিশুকে কোলে নিয়ে মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানোর দৃশ্য—নিয়েও কম আলোচনা হয়নি। এত বছর পর সেই দুই দৃশ্যের পেছনের গল্প বললেন মন্দাকিনী। তাঁর দাবি, দৃশ্যগুলোতে তিনি কোনো অশ্লীলতা দেখেননি; বরং রাজ কাপুরের ভাবনায় ছিল পবিত্রতা।

সম্প্রতি এএনআইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মন্দাকিনী ফিরে দেখেছেন ‘রাম তেরি গঙ্গা মইলি’র শুটিংয়ের দিনগুলো। ছবিটি ছিল রাজ কাপুরের শেষ পরিচালিত সিনেমা। শুটিং শুরুর সময় মন্দাকিনীর বয়স ছিল মাত্র ১৬ বছর।

‘রাজ কাপুরের কাছ থেকে কোনো অশ্লীলতা অনুভব করিনি’
‘রাম তেরি গঙ্গা মইলি’–তে মন্দাকিনী অভিনয় করেছিলেন গঙ্গা চরিত্রে। ছবির গল্পে গঙ্গা একজন সরল, নিষ্পাপ তরুণী, যার জীবনে নানা ঘটনা ঘটে। ঝরনার দৃশ্যটি নিয়ে এত বছর পরও আলোচনা হয়। অনেকের কাছে এটি ছিল সাহসী দৃশ্য আবার কেউ কেউ একে অশ্লীলতার উদাহরণ হিসেবে দেখেছেন।

তবে মন্দাকিনীর অভিজ্ঞতা ছিল ভিন্ন। তাঁর ভাষ্য, রাজ কাপুর যেভাবে দৃশ্যটি বুঝিয়েছিলেন, তাতে অস্বস্তি বা অশ্লীলতার কোনো অনুভূতি তৈরি হয়নি।
অভিনেত্রী বলেন, ‘রাজ কাপুরের কাজ করার ধরন এমন ছিল যে তাঁকে কোনো প্রশ্নই করতে হতো না। তিনি এত ভালোবাসা ও কোমলতার সঙ্গে কাজ করাতেন, যেন পরিবারের কেউ আপনাকে কিছু বুঝিয়ে দিচ্ছেন। আমি কোথাও কোনো অশ্লীলতা অনুভব করিনি। কোনো ঘৃণ্য বা অস্বস্তিকর অনুভূতিও হয়নি।’
মন্দাকিনীর মতে, পুরো ছবির মূল ভাবনাই ছিল পবিত্রতা। তিনি বলেন, ‘ছবিতে দেখানো হয়েছিল, কীভাবে গঙ্গাকে অপবিত্র করার চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু তারা সফল হয়নি।’

‘একটু অস্বস্তি হচ্ছিল’
ঝরনার দৃশ্যের শুটিংয়ের সময় নিজের বয়স ও অভিজ্ঞতার কথাও জানিয়েছেন মন্দাকিনী। তিনি বলেন, তখন তিনি খুবই তরুণী ছিলেন এবং ছোট একটি জায়গা থেকে এসে সিনেমায় কাজ শুরু করেছিলেন। ফলে এ ধরনের দৃশ্য কীভাবে দর্শকের কাছে ধরা দেবে, তা পুরোপুরি বুঝতে পারেননি।

মন্দাকিনী বলেন, ‘রাজ কাপুর আমার সামনে ছিলেন। একটু অস্বস্তি হচ্ছিল বলে আমি শাড়িটা কয়েকটি পরতে ভাঁজ করে নিয়েছিলাম। তিনি বলেছিলেন দ্বিগুণ করে নিতে, তা–ই নিয়েছিলাম। ব্যস, দৃশ্যটি হয়ে গেল।’

অভিনেত্রীর কথায়, ওই বয়সে তিনি দৃশ্যটির ভবিষ্যৎ প্রভাব সম্পর্কে খুব বেশি ভাবেননি। পরবর্তী সময়ে দৃশ্যটি যেভাবে আলোচিত হয়েছে, সেটিও তাঁর কাছে ছিল ভিন্ন এক অভিজ্ঞতা।

‘রাম তেরি গঙ্গা মইলি’ সিনেমার দৃশ্য। আইএমডিবি

আলোচিত আরেকটি দৃশ্য
‘রাম তেরি গঙ্গা মইলি’র আরেকটি বহুল আলোচিত দৃশ্য ছিল শিশুকে কোলে নিয়ে মন্দাকিনীর স্তন্যপান করানোর দৃশ্য। এ দৃশ্য নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে নানা আলোচনা রয়েছে। সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রী স্পষ্ট করেছেন, দৃশ্যটি ধারণের সময় বাস্তবে কোনো শিশুকে স্তন্যপান করানো হয়নি।

মন্দাকিনী জানান, ক্যামেরার বিশেষ কৌশল ব্যবহার করে দৃশ্যটি তৈরি করা হয়েছিল। তিনি একটি খোলামেলা গলার পোশাক পরেছিলেন এবং শিশুকে কাছাকাছি ধরে রেখেছিলেন। ক্যামেরার নির্দিষ্ট অ্যাঙ্গেল ও ফ্রেমিংয়ের কারণে পর্দায় এমন মনে হয়েছিল, যেন তিনি শিশুকে বুকের দুধ খাওয়াচ্ছেন।
অর্থাৎ দৃশ্যটির দৃশ্যমান প্রভাব তৈরি হয়েছিল পোশাক, শিশুকে ধরে রাখার ভঙ্গি এবং ক্যামেরার অবস্থানের সমন্বয়ে।

‘রাম তেরি গঙ্গা মইলি’ সিনেমার দৃশ্য। আইএমডিবি

ঝরনার দৃশ্যের পুনরাবৃত্তিতে রাজি হননি
‘রাম তেরি গঙ্গা মইলি’ মুক্তির পর ছবিটি সাফল্য পায়। মন্দাকিনীর অভিনয় এবং ঝরনার দৃশ্য তাঁকে ব্যাপক পরিচিতি এনে দেয়। এরপর বিভিন্ন ছবির নির্মাতারা তাঁকে একই ধরনের দৃশ্যে অভিনয়ের প্রস্তাব দিতে থাকেন।

কিন্তু মন্দাকিনী সেসব প্রস্তাবে রাজি হননি। তিনি জানান, অনেক নির্মাতা তাঁকে সেই আলোচিত ঝরনার দৃশ্যের মতো কিছু করার জন্য চাপ দিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি নিজের সিদ্ধান্তে অটল ছিলেন এবং পরবর্তী কোনো ছবিতে দৃশ্যটির পুনরাবৃত্তি করেননি।
অভিনেত্রীর মতে, কোনো দৃশ্যের সাফল্য কেবল তার সাহসী উপস্থাপনার ওপর নির্ভর করে না। গল্প, নির্মাতার ভাবনা এবং দৃশ্যের প্রাসঙ্গিকতাই আসল। একটি দৃশ্য তখনই প্রভাব ফেলতে পারে, যখন সেটি শক্তিশালী গল্পের অংশ হয়ে ওঠে।

‘রাম তেরি গঙ্গা মইলি’র পর মন্দাকিনীর ক্যারিয়ার
১৯৮৫ সালে মুক্তি পাওয়া ‘রাম তেরি গঙ্গা মইলি’ ছিল মন্দাকিনীর ক্যারিয়ারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছবিগুলোর একটি। রাজ কাপুর পরিচালিত এই সিনেমায় তাঁর অভিনয় দর্শকের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে। ঝরনার দৃশ্যের কারণে ছবিটি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হলেও মন্দাকিনী বলিউডে নিজের জায়গা তৈরি করতে সক্ষম হন।

পরবর্তী সময়ে তিনি মিঠুন চক্রবর্তী ও গোবিন্দর মতো অভিনেতাদের সঙ্গে কাজ করেন। তাঁর অভিনীত ছবির তালিকায় রয়েছে ‘তেজাব’ও। অনিল কাপুর ও মাধুরী দীক্ষিত অভিনীত এ ছবিতেও তিনি অভিনয় করেছিলেন।

২০২৩ সালে ‘দ্য কপিল শর্মা শো’–তে অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়েছিলেন মন্দাকিনী। সেখানে বর্ষা উসগাঁওকর ও সংগীতা বিজলানির সঙ্গে তিনি অংশ নেন অনুষ্ঠানে। সঞ্চালক কপিল শর্মার সঙ্গে নিজের অভিনয়জীবনের নানা অভিজ্ঞতাও ভাগ করে নেন।