নেদারল্যান্ডসে বাঁধনদের সংগ্রামের গল্প, যা লিখলেন মেহজাবীন

বাঁধন ও মেহজাবীন চৌধুরী। ছবি: কোলাজ
বাঁধন ও মেহজাবীন চৌধুরী। ছবি: কোলাজ

নেদারল্যান্ডসের রটারড্যাম আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নেওয়া মানেই শুধু লালগালিচার ঝলক নয়, এর পেছনে রয়েছে নীরব পরিশ্রম আর প্রতিদিনের ছোট ছোট সংগ্রামের গল্প। উৎসবে নিতে গিয়ে আজমেরী হক বাঁধনদের প্রতিদিনই হোস্টেল থেকে ভেন্যু পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার পথ হেঁটে যেতে হচ্ছে। তীব্র শীত, হিমাঙ্কের কাছাকাছি তাপমাত্রা আর কনকনে বাতাস—তারপরও সবকিছু উপেক্ষা করেই দেশের ঐতিহ্যবাহী পোশাকে দেশকে তুলে ধরছেন।

সেই অনুভূতির কথা জানিয়ে বাঁধন নেদারল্যান্ডস থেকে প্রথম আলোকে জানান, নেদারল্যান্ডসে প্রতিদিন তাঁদের হোস্টেল থেকে ভেন্যু পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার হেঁটে যেতে হতো। তাপমাত্রা প্রায় হিমাঙ্কের কাছাকাছি, আর বরফশীতল বাতাসের মধ্যে এই হাঁটা ছিল কঠিন।

আজমেরী হক বাঁধন। ছবি: শিল্পীর সৌজন্যে

এই অভিনেত্রী বলেন, ‘আমরা উৎসবে সব সময় চেয়েছি বাংলাদেশের সংস্কৃতিকে তুলে ধরতে। কখনো শাড়ি পরে, কখনো বাংলাদেশের অন্য পোশাকে হাজির হয়েছি। এভাবে এক কিলোমিটার শাড়ি পরে, ওভারকোট গায়ে, এই শীতের মধ্যে উৎসবের ভেন্যুতে যাওয়াটা কঠিন ছিল। এখানকার শীত মোটেও সহজ নয়।’

এই উৎসবে তাঁদের ‘মাস্টার’ সিনেমা বিগ স্ক্রিন প্রতিযোগিতা বিভাগে পুরস্কার জয় করেছে। এটা দেশের জন্য সম্মান উল্লেখ করে বাঁধন আরও বলেন, ‘আমরা দেশের জন্য সম্মান অর্জন করেছি। কিন্তু আমরা দেশের কোনো পর্যায় থেকে কোনো সহায়তা পাইনি। হেঁটে আমাদের উৎসবে যেতে হয়েছে। কারণ, একেক দেশের উৎসব একেকভাবে সহায়তা করে। কোনো উৎসব থাকার, যাতায়াতসহ সব রকম সহায়তা করে। সেখানে রটারড্যামে আমাদের নিজ খরচে আসতে হয়েছে।’

‘মাস্টার’ পুরস্কার জয় করে। ছবি: বাঁধনের সৌজন্যে

এদিকে বাঁধন ফেসবুকে পোস্ট করেছেন নেদারল্যান্ডসের রাস্তায় শাড়ি পরে হেঁটে আসার ভিডিও। সেই ভিডিও ধারণ করেছেন আরেক অভিনেতা নাসির উদ্দিন খান। তাঁকে ভিডিওতে বলতে শোনা যায়, ‘রটারড্যামে “মাস্টার” সিনেমার শেষ শোতে অ্যাটেন্ড করার জন্য শাড়ি ধরে হেঁটে আসছেন আজমেরী হক বাঁধন।’
বাঁধন এই ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘তবুও, জীবন অবিশ্বাস্যভাবে সুন্দর মনে হয়। কারণ এমন অস্বস্তিকর, চ্যালেঞ্জে ভরা মুহূর্তগুলোই যাত্রাকে আরও অর্থবহ করে তোলে। এই ঠান্ডা, দীর্ঘ পথচলা, সৌন্দর্য ও আত্মবিশ্বাস নিয়ে নিজেকে উপস্থাপনের চেষ্টা—সবকিছুই ধীরে ধীরে স্মৃতি হয়ে যায়, গল্প হয়ে যায়, নীরব এক শক্তিতে পরিণত হয়। আমি জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত, প্রতিটি অভিজ্ঞতা থেকে একটু একটু করে আরও মানুষ হয়ে উঠেছি।’

আজ চলচ্চিত্র উৎসবের শেষ দিন। তার আগেই আজ তাঁরা দেশের উদ্দেশে যাত্রা করবেন। তিনি বলেন, ‘আমরা তো দেশকে তুলে ধরার জন্য আসি। অনেক কষ্ট করতে হয়। এসব ঘটনা নিয়ে কোনো অভিমান নেই। কিন্তু ঘটনাগুলো কষ্ট দেয়। আমি পরিচালকের সঙ্গে কথা বলে চেষ্টা করেছিলাম স্পনসর নেওয়ার, সেটার সুযোগ হয়নি। আমাদের কষ্টগুলো দেখার কেউ নেই।’

পরিচালকের সেলফিতে বাঁধন, মমরা। ছবি: বাঁধনের সৌজন্যে

বাঁধনের এই ফেসবুক পোস্ট ভক্তদের সঙ্গে ভাগাভাগি করেছেন আরেক অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী। তিনি লিখেছেন, ‘এই ভিডিওটি হয়তো একটি মজা করে ধারণ করা। কিন্তু এর পেছনে যে কষ্ট, পরিশ্রম আর লড়াই আছে, তা বোঝা যায়। আমাদের শিল্পীরা সীমিত সুযোগ আর নানা বাধার মধ্যেও নিজেদের সেরাটা দিয়ে কাজ করছেন এবং দেশের জন্য সম্মান বয়ে আনছেন। যখন কোনো সিনেমা আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পায়, তখন শিল্পীদের জন্য অন্তত ভালো যাতায়াত আর থাকার ব্যবস্থা দেশের পক্ষ থেকে করে দেওয়া উচিত।’

দেশের সরকারের পক্ষ থেকে এই সুযোগ দেওয়াটা বাড়তি কোনো চাওয়া নয় বলে মনে করেন মেহজাবীন চৌধুরী। তিনি আরও লেখেন, ‘এটা কোনো বাড়তি চাওয়া নয়, এটা ন্যূনতম সম্মান। আমি আশা করি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখবেন এবং আমাদের শিল্পীদের পাশে দাঁড়াবেন, যেন তাঁরা সম্মান আর স্বাচ্ছন্দ্যের সঙ্গে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করতে পারেন। আশা করি খুব দ্রুতই এই জায়গাটায় পরিবর্তন আসবে।’

‘মাস্টার’ সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন রেজওয়ান শাহরিয়ার সুমিত। ছবিতে আরও অভিনয় করেছেন ফজলুর রহমান বাবু, লুৎফর রহমান জর্জ, নাসির উদ্দিন খান, জাকিয়া বারী মম, শরীফ সিরাজ।