‘মাই লাইফ উইথ দ্য ওয়াল্টার বয়েজ’-এর দৃশ্য। আইএমডিবি
‘মাই লাইফ উইথ দ্য ওয়াল্টার বয়েজ’-এর দৃশ্য। আইএমডিবি

প্রথমবারের মতো ঘনিষ্ঠ দৃশ্যে অভিনয়, অভিনেত্রী বললেন...

‘মাই লাইফ উইথ দ্য ওয়াল্টার বয়েজ’-এর তৃতীয় মৌসুমে জ্যাকি হাওয়ার্ড যেন আগের চেয়ে অনেক পরিণত। আর চরিত্রটির এই নতুন অধ্যায় ফুটিয়ে তুলতে গিয়ে অভিনেত্রী নিকি রদ্রিগেজেরও হয়েছে একেবারে নতুন অভিজ্ঞতা—প্রথমবারের মতো তাঁকে অভিনয় করতে হয়েছে ঘনিষ্ঠ দৃশ্যে।

৬ আগস্ট নেটফ্লিক্সে মুক্তি পেয়েছে সিরিজটির তৃতীয় মৌসুম। এবারের গল্পে জ্যাকি ও কোল ওয়াল্টারের সম্পর্ক পৌঁছেছে গুরুত্বপূর্ণ একপর্যায়ে। কিন্তু দুজনের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার পার্থক্য ধীরে ধীরে তাঁদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি করে। মৌসুমের শেষেও তাই তাঁদের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ থেকে যায় অনিশ্চিত। চতুর্থ মৌসুমের কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে তৃতীয় মৌসুমের শেষ দৃশ্যের সেই চুম্বন নিয়ে মুখ খুলেছেন নিকি রদ্রিগেজ।

জ্যাকি ও কোলের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ
প্রথম দুই মৌসুমে জ্যাকি আটকে ছিল কোল ও অ্যালেক্স ওয়াল্টারের মধ্যকার টানাপোড়েনে। দ্বিতীয় মৌসুমের শেষে কোল ও জ্যাকি একে অপরের প্রতি ভালোবাসার কথা জানান। তৃতীয় মৌসুমে অবশেষে তাঁদের সম্পর্ক আরও গভীর হয়। একপর্যায়ে দুজন ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা করেন। জ্যাকি চরিত্রের এই পরিবর্তন নিয়ে নিকি বলেন, ‘এটা জ্যাকির একেবারে নতুন একটি দিক।’

এটি নিকিরও প্রথম যৌনদৃশ্যের অভিনয়। তবে তাঁর কাছে সেটিকে অন্য দৃশ্যের তুলনায় আলাদা বা অস্বাভাবিক কিছু মনে হয়নি; বরং তাঁর প্রধান মনোযোগ ছিল, দুটি ঘনিষ্ঠ দৃশ্যের মধ্যে জ্যাকির আবেগের পার্থক্য কীভাবে তুলে ধরা যায়।
নিকির ভাষায়, দুটি দৃশ্য একই রকম হলেও আসলে আলাদা। প্রথমটি ছিল অনেকটাই মুহূর্তের আবেগে ঘটে যাওয়া ঘটনা। আর দ্বিতীয়টির ক্ষেত্রে জ্যাকি ও কোল দুজনেই নিজেদের সিদ্ধান্ত সম্পর্কে সচেতন ছিলেন। নিকির মতে, গল্পে দুই ধরনের অভিজ্ঞতা দেখানোর সুযোগ পাওয়াটা ভালো হয়েছে।

কিন্তু ভালোবাসার গল্পে বাধা
জ্যাকি ও কোলের সম্পর্ক অবশ্য বেশি দিন মসৃণ থাকে না। জ্যাকির চাচা রিচার্ড এবং শৈশবের বন্ধু এলিয়ট কোলকে বোঝাতে থাকেন, কোলের কারণে জ্যাকির স্বপ্ন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। জ্যাকির দীর্ঘদিনের স্বপ্ন প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া। কোলকে তাঁরা বোঝান, জ্যাকির জীবনে তিনি যেন বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছেন। একপর্যায়ে কোল জ্যাকির সঙ্গে সম্পর্ক ভেঙে ফেলেন—কিন্তু বিচ্ছেদের প্রকৃত কারণ তাঁকে জানান না।

তৃতীয় মৌসুমের অন্যতম প্রধান বিষয় হয়ে ওঠে জ্যাকির এই দ্বন্দ্ব—একদিকে কোল ও সিলভার ফলসের প্রতি ভালোবাসা, অন্যদিকে আইভি লিগে পড়ার বহুদিনের স্বপ্ন।
রিচার্ড ও এলিয়টকে দর্শকের কাছে হয়তো জ্যাকির ভালোবাসার পথে বাধা হিসেবে মনে হতে পারে। কিন্তু নিকি তাঁদের অবস্থান পুরোপুরি ভুল মনে করেন না; বরং তিনি নিজেই চান, জ্যাকি প্রিন্সটনে যাক। ‘সত্যি বলতে, আমি জ্যাকিকে প্রিন্সটনে দেখতে চাই। কারণ সিলভার ফলসে আসার সময় সেটাই ছিল তার মূল স্বপ্ন ও লক্ষ্য,’ বলেন নিকি।
অভিনেত্রী জানান, শুরু থেকেই তিনি জ্যাকিকে নিজের স্বপ্ন অনুসরণ করতে দেখতে চেয়েছেন।

‘মাই লাইফ উইথ দ্য ওয়াল্টার বয়েজ’-এর দৃশ্য। আইএমডিবি

‘জ্যাকিকে একটা বেছে নিতে হবে কেন?’
তবে জ্যাকির জীবনে সবচেয়ে বড় সমস্যা কোথায়, সেটিও নিকি স্পষ্ট করেছেন। তাঁর মতে, জ্যাকির সামনে এমনভাবে পরিস্থিতি তৈরি করা হচ্ছে, যেন তাঁকে জীবনের একটি পথ বেছে নিতে হবে—কোল, নাকি প্রিন্সটন।

কিন্তু নিকির বিশ্বাস, দুটিই একসঙ্গে সম্ভব। ‘তোমাকে একটা বেছে নিতেই হবে—এমন তো নয়! তুমি দুটিই পেতে পারো!’ জ্যাকির উদ্দেশে এমনটাই বলতে চান নিকি।
তাঁর মতে, আদর্শ পরিস্থিতিতে জ্যাকি নিজের পড়াশোনা, ক্যারিয়ার ও ভবিষ্যৎ নিয়ে মনোযোগী থাকতে পারেন। একই সঙ্গে সিলভার ফলসের যে বিষয়গুলো তাঁকে আনন্দ দেয়, সেগুলোকেও জীবনে ধরে রাখতে পারেন।
নিকি বলেন, দুটি পথই জ্যাকির জন্য ভালো। তবে তিনি আবারও জানান, জ্যাকিকে প্রিন্সটনে দেখতে চান।

শেষ দৃশ্যের সেই চুম্বন—আসলে কী?
তৃতীয় মৌসুমের শেষ দিকে গল্প আরও জটিল হয়ে যায়। কোল জ্যাকির সঙ্গে সম্পর্ক ঠিক করার চেষ্টা করতে গিয়ে একটি ভয়াবহ গাড়ি দুর্ঘটনার শিকার হন। অন্যদিকে জ্যাকির কমিউনিটি সেন্টারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ঘটে আরেকটি নাটকীয় ঘটনা। এলিয়ট জ্যাকিকে চুমু খান। দর্শকের কাছে মুহূর্তটি দেখে মনে হতে পারে, জ্যাকি হয়তো কোলকে ছেড়ে এলিয়টের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু নিকি রদ্রিগেজ বলছেন, বিষয়টি মোটেও এত সরল নয়।

তাঁর ব্যাখ্যা, এটি মূলত একটি ভুল–বোঝাবুঝি। নিকির মতে, জ্যাকি ওই মুহূর্তে পুরোপুরি অপ্রস্তুত ছিলেন। তৃতীয় মৌসুমজুড়েই তিনি কোলকে নিয়ে এতটাই ব্যস্ত ছিলেন যে অন্য কাউকে প্রেমের সম্ভাবনা হিসেবে দেখার সুযোগই তাঁর হয়নি।
এলিয়টের ক্ষেত্রে জ্যাকির অনুভূতিও আলাদা। তিনি এলিয়টকে মূলত এমন একজন পরিচিত মানুষ হিসেবে দেখেন, যাঁর জীবন তাঁর নিজের পুরোনো স্বপ্নের কথা মনে করিয়ে দেয়। এলিয়ট এমন একটি জীবনযাপন করছেন, যেটি জ্যাকি একসময় নিজের জন্য কল্পনা করেছিলেন।

নিকি জানান, জ্যাকি এরই মধ্যে এলিয়টকে বলেছিলেন, তিনি নতুন কোনো সম্পর্কে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত নন। তাই শেষ দৃশ্যের চুম্বনকে পারস্পরিক প্রেমের প্রকাশ হিসেবে দেখাটা ঠিক হবে না।

‘আমি মনে করি, জ্যাকি পুরোপুরি অপ্রস্তুত হয়ে যায়। সত্যি বলতে, আমি মনে করি, এটা পুরোপুরি ভুল–বোঝাবুঝি,’ বলেন নিকি।

‘মাই লাইফ উইথ দ্য ওয়াল্টার বয়েজ’-এর পোস্টার। আইএমডিবি

চতুর্থ মৌসুমে কী হবে?
তৃতীয় মৌসুম শেষ হয়েছে অনেক প্রশ্ন রেখে। কোল ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাসে ভর্তি হয়েছেন। আর জ্যাকি প্রিন্সটনে নিজের আবেদন আরও শক্তিশালী করতে গ্রিসে যাওয়ার কথা ভাবছেন। এরই মধ্যে চতুর্থ মৌসুমের কাজও শুরু করে দিয়েছেন অভিনয়শিল্পীরা। কিন্তু সামনে বড় একটি চ্যালেঞ্জ। গল্পের মূল চরিত্রগুলো যদি ভিন্ন ভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে চলে যায়, তাহলে তাঁদের সম্পর্ক ও গল্প কীভাবে এগিয়ে নেওয়া হবে? চতুর্থ মৌসুমের পর সিরিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে অবশ্য নিকির কাছে এখনো স্পষ্ট কোনো তথ্য নেই।

তবে চরিত্রগুলোকে কয়েক বছর পরের সময়ে দেখানোর সম্ভাবনাটি তাঁর কাছে বেশ আকর্ষণীয় মনে হয়।

‘তাদের কয়েক বছর পর দেখতে কেমন লাগবে এবং তখন তাদের সম্পর্কের সমীকরণ কীভাবে কাজ করবে বা করবে না—সেটা দেখতে আমার ভালো লাগবে। তবে সত্যি বলতে, আমি নিজেও জানি না,’ বলেন অভিনেত্রী।

পেজ সিক্স অবলম্বনে