অ্যাকশন-থ্রিলার থেকে অ্যানিমেশন সিনেমা—সবই আছে বাংলাদেশি দর্শকের পছন্দের তালিকায়। নেটফ্লিক্সে কোন সিনেমা ও সিরিজ দেখছেন দেশি দর্শকেরা? চলুন জেনে নেওয়া যাক শীর্ষ পাঁচ সিনেমা ও সিরিজের কথা।
সিনেমা
‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’
বাংলাদেশি দর্শকের পছন্দের তালিকার শীর্ষে রয়েছে আদিত্য ধরের ‘ধুরন্ধর’ সিনেমার সিক্যুয়েলটি। বক্স অফিসে প্রায় তিন হাজার কোটি রুপি ব্যবসা করার পর চলতি মাসেই ওটিটিতে এসেছে সিনেমাটি। ওটিটিতে যুক্ত হয়েছে ছবিটির বাড়তি কিছু অংশ। ছবির গল্প পাকিস্তানের লিয়ারি শহরের অপরাধ সাম্রাজ্যকে কেন্দ্র করে, যা ধ্বংস করতে সেখানে হাজির হন ভারতীয় গুপ্তচর হামজা (রণবীর সিং)। তারকাবহুল এ ছবিতে আরও আছেন আর মাধবন, সঞ্জয় দত্ত, অর্জুন রামপাল, সারা অর্জুন।
‘কর্তব্য’
তালিকার দুইয়ে আছে ‘কর্তব্য’। নেটফ্লিক্সের এই নতুন ওয়েব সিনেমায় আবার পুলিশের চরিত্রে সাইফ আলী খান। একই প্ল্যাটফর্মে এর আগে ‘সেক্রেড গেমস’ সিরিজে পুলিশের চরিত্রে অভিনয় করে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছিলেন অভিনেতা। এবারের সিনেমায় তিনি অভিনয় করেছেন এমন এক পুলিশের চরিত্রে, যার লড়াই শুধু অপরাধীদের সঙ্গে না। বিপদের মুখে তার পরিবার, চারদিক থেকে ঘনিয়ে আসছে হুমকি, আর দায়িত্ব পালনের পথে তাকে নিতে হচ্ছে কঠিন ও অস্বস্তিকর সিদ্ধান্ত। পুলকিত পরিচালিত সিনেমাটিতে আরও অভিনয় করেছেন রসিকা দুগল, সঞ্জয় মিশ্র, সৌরভ দ্বিবেদী, জাকির হুসেন ও মনীশ চৌধুরী।
‘সোয়্যাপড’
অ্যানিমেশন সিনেমাটিতে পরিচয়, সম্পর্ক ও জীবনের অদ্ভুত মোড়কে ভিন্নধর্মী গল্পে তুলে ধরা হয়েছে। মুক্তির পর থেকেই সিনেমাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় আসে এর অভিনব কনসেপ্ট ও আবেগঘন উপস্থাপনার কারণে। সিনেমার গল্প মূলত দুই ভিন্ন স্বভাব ও ভিন্ন জীবনের মানুষের হঠাৎই জীবন ‘অদলবদল’ হয়ে যাওয়াকে কেন্দ্র করে। এক অদ্ভুত পরিস্থিতিতে তারা একে অন্যের বাস্তবতায় ঢুকে পড়ে এবং বুঝতে শুরু করে, বাইরে থেকে নিখুঁত মনে হওয়া জীবনও ভেতরে–ভেতরে কত জটিল হতে পারে। সম্পর্ক, মানসিক চাপ, সামাজিক প্রত্যাশা ও আত্মপরিচয়ের সংকট—সবকিছু মিলিয়ে এটি হয়ে উঠেছে এক সমকালীন মানবিক গল্প। ন্যাথান গ্রেনো পরিচালিত সিনেমাটি রয়েছে তালিকার তিন নম্বরে।
গত ২৪ এপ্রিল মুক্তি পেয়েছিল এই কোরীয় হরর সিরিজটি। এটিই এখন বাংলাদেশ থেকে নেটফ্লিক্সে সবচেয়ে বেশি দেখা সিরিজের তালিকার শীর্ষে রয়েছে। ডার্ক ফ্যান্টাসি-মিস্ট্রি সিরিজ, যেখানে ইচ্ছা, অপরাধবোধ, প্রতিশোধ আর মানবিক দুর্বলতাকে ঘিরে তৈরি হয়েছে রহস্যময় গল্প। সিরিজের মূল ভাবনা, যদি মানুষের মনের গভীর ইচ্ছাগুলো সত্যি হতে শুরু করে, তাহলে কী ঘটবে? গল্পে দেখা যায়, কয়েকজন তরুণ-তরুণীর জীবনে রহস্যজনকভাবে এমন এক শক্তি আসে, যা তাদের গোপন ইচ্ছাকে বাস্তবে রূপ দিতে পারে। কিন্তু সেই ইচ্ছা পূরণের সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় ভয়াবহ পরিণতি। কেউ প্রতিশোধ নেয়, কেউ ক্ষমতা চায়, কেউ হারানো সম্পর্ক ফিরে পেতে চায়। আর এসব ইচ্ছাই ধীরে ধীরে তাদের জীবনকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেয়। পার্ক ইওন-সেও পরিচালিত সিরিজটিতে অভিনয় করেছেন জেওন সো-ইয়ং, কাং মি-না, বায়েক সান-হো।
‘ট্রাপ’
তালিকার চারে রয়েছে ২০২৪ সালের সিনেমা ‘ট্রাপ’। এম নাইট শ্যামলনের মনস্তাত্ত্বিক থ্রিলার সিনেমাটির কেন্দ্রীয় চরিত্র কুপার অ্যাবট একজন আপাতদৃষ্টিতে সাধারণ ও দায়িত্বশীল বাবা। তাঁর কিশোরী মেয়েকে নিয়ে জনপ্রিয় পপ তারকা লেডি রেভেনের কনসার্টে যান তিনি। কিন্তু ধীরে ধীরে প্রকাশ পায়, পুরো কনসার্ট ভেন্যু আসলে পুলিশের সাজানো একটি বিশাল ফাঁদ। কারণ, সেখানে উপস্থিত আছে ভয়ংকর এক সিরিয়াল কিলার! এরপর শুরু হয় পাল্টাপাল্টি মনস্তাত্ত্বিক খেলা—একদিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, অন্যদিকে ধরা না পড়তে মরিয়া এক সিরিয়াল কিলার। সিনেমাটিতে কুপারের চরিত্রে অভিনয় করেছেন জশ হার্টনেট।
‘ধুরন্ধর’
তালিকার পাঁচ নম্বরে রয়েছে আদিত্য ধরের ‘ধুরন্ধর’। মুক্তির কয়েক মাস পার হয়ে গেলেও সিনেমাটির জনপ্রিয়তা এখনো অটুট। সম্প্রতি সিনেমাটির দ্বিতীয় কিস্তি এসেছে নেটফ্লিক্সে। মনে করা হয়েছে, অনেক দর্শকই দুই কিস্তি একসঙ্গে দেখছেন। সে কারণেই আবার টপ চার্টের শীর্ষ পাঁচে চলে এসেছে সিনেমাটি।
সিরিজ
‘ইফ উইশেজ কুড কিল’
গত ২৪ এপ্রিল মুক্তি পেয়েছিল এই কোরীয় হরর সিরিজটি। এটিই এখন বাংলাদেশ থেকে নেটফ্লিক্সে সবচেয়ে বেশি দেখা সিরিজের তালিকার শীর্ষে রয়েছে। ডার্ক ফ্যান্টাসি-মিস্ট্রি সিরিজ, যেখানে ইচ্ছা, অপরাধবোধ, প্রতিশোধ আর মানবিক দুর্বলতাকে ঘিরে তৈরি হয়েছে রহস্যময় গল্প। সিরিজের মূল ভাবনা, যদি মানুষের মনের গভীর ইচ্ছাগুলো সত্যি হতে শুরু করে, তাহলে কী ঘটবে? গল্পে দেখা যায়, কয়েকজন তরুণ-তরুণীর জীবনে রহস্যজনকভাবে এমন এক শক্তি আসে, যা তাদের গোপন ইচ্ছাকে বাস্তবে রূপ দিতে পারে। কিন্তু সেই ইচ্ছা পূরণের সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় ভয়াবহ পরিণতি। কেউ প্রতিশোধ নেয়, কেউ ক্ষমতা চায়, কেউ হারানো সম্পর্ক ফিরে পেতে চায়। আর এসব ইচ্ছাই ধীরে ধীরে তাদের জীবনকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেয়। পার্ক ইওন-সেও পরিচালিত সিরিজটিতে অভিনয় করেছেন জেওন সো-ইয়ং, কাং মি-না, বায়েক সান-হো।
‘গ্লোরি’
১ মে এসেছে স্পোর্টস থ্রিলার সিরিজটি। করন অংশুমান ও কনিষ্ক ভার্মা পরিচালিত সিরিজটিতে অভিনয় করেছেন দিব্যেন্দু, পুলকিত সম্রাট ও সুভিন্দর ভিকি। হরিয়ানার এক ছোট শহরের বক্সিং দুনিয়াকে ঘিরে এগিয়েছে গল্প। দেশের হয়ে অলিম্পিকে পদক জয়ের স্বপ্ন দেখা তরুণ বক্সার নিহাল সিংয়ের রহস্যজনক মৃত্যুর পর শুরু হয় টান টান উত্তেজনা। সেই মৃত্যুর তদন্ত করতে গিয়ে দুই ভাই জড়িয়ে পড়ে পরিবার, ক্ষমতা, প্রতিশোধ আর পুরোনো গোপন ক্ষতের জালে। সিরিজে বক্সিং শুধু খেলা নয়, বরং ক্ষমতা ও আধিপত্যের প্রতীক। রিঙের লড়াইয়ের বাইরেও এখানে চলছে মানসিক যুদ্ধ, পারিবারিক দ্বন্দ্ব আর বেঁচে থাকার সংগ্রাম।
‘বার্লিন অ্যান্ড দ্য লেডি উইথ অ্যান আরমিন’
আলোচিত স্প্যানিশ সিরিজ ‘মানি হাইস্ট’-এর স্পিন-অফ ‘বার্লিন’-এর দ্বিতীয় মৌসুম এটি। সমালোচকদের কাছে সেভাবে পাত্তা না পেলেও বাংলাদেশি দর্শকেরা বেশ পছন্দ করছেন এটি। রয়েছে তালিকার তিন নম্বরে। সিরিজটির কেন্দ্রে আছেন বার্লিন, অর্থাৎ আন্দ্রেস দে ফনোলোসা, যিনি আবারও তাঁর দল নিয়ে নামেন এক দুর্ধর্ষ ডাকাতি অভিযানে। এবার লক্ষ্য লেওনার্দো দা ভিঞ্চির বিখ্যাত শিল্পকর্ম চুরি করা। ঘটনাস্থল স্পেনের ঐতিহাসিক শহর সেভিল। তবে এটি শুধু শিল্পকর্ম চুরির গল্প নয়। ক্ষমতাবান ডিউক ও তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে বার্লিনের ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব, প্রেম, প্রতিশোধ ও মানসিক টানাপোড়েন সিরিজটিকে আরও নাটকীয় করে তোলে। নির্মাতারা অ্যাকশন ও আবেগকে একসঙ্গে মিশিয়েছেন। সিরিজটিতে বার্লিন চরিত্রে ফিরেছেন পেড্রো অলোনসো। আরও আছেন মিশেল জেনার, ত্রিস্টান উলেয়া।
‘ডেভিল মে ক্রাই’
জনপ্রিয় জাপানি ভিডিও গেম অবলম্বনে নির্মিত অ্যানিমেশন সিরিজটির শো রানার আদি শঙ্কর। ২০০১ সালে প্রথম গেম প্রকাশের পর থেকেই এর স্টাইলিশ যুদ্ধ, ডার্ক ফ্যান্টাসি আবহ এবং প্রধান চরিত্র দান্তের কারণে সিরিজটি গেমারদের কাছে কাল্ট মর্যাদা পায়। পরে এটি অ্যানিমে, উপন্যাস ও ওয়েব সিরিজেও রূপ নেয়। সিরিজটির কেন্দ্রে আছেন দান্তে—অর্ধেক মানুষ, অর্ধেক দানব। তাঁর বাবা স্পার্ডা ছিলেন এক শক্তিশালী দানব, যিনি মানবজাতিকে রক্ষা করতে দানবদের বিরুদ্ধেই যুদ্ধ করেছিলেন। দান্তে বড় হয়ে দানবশিকারিতে পরিণত হন। বিভিন্ন শহরে রহস্যময় হত্যাকাণ্ড, অতিপ্রাকৃত শক্তি ও দানবীয় আক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করতে দেখা যায় তাঁকে। স্টাইলিশ অ্যাকশনের কারণেই জনপ্রিয়তা পেয়েছে সিরিজটি।
‘মাই রয়্যাল নেমেসিস’
ওটিটিতে সাধারণ থ্রিলার বা ডার্ক ঘারানার কাজ জনপ্রিয়তা পেলেও তালিকায় আছে কমেডি সিরিজও। বাংলাদেশ থেকে সবচেয়ে বেশি দেখা সিরিজের তালিকার পাঁচে রয়েছে এটি। কোরীয় সিরিজটি মুক্তি পেয়েছে ৮ মে। হান তায়ে-সেওপ পরিচালিত সিরিজটিতে অভিনয় করেছেন লিম জি-ইওন, হেও নাম-জুন ও জং সেওগ-জো।
সিরিজটির কাহিনি আবর্তিত হয়েছে এক রাজপরিবারের উত্তরাধিকার সংকটকে ঘিরে। একদিকে আছেন ক্ষমতাবান কিন্তু আবেগ লুকিয়ে রাখা যুবরাজ, অন্যদিকে বিদ্রোহী ও বুদ্ধিমান এক তরুণী, যিনি রাজপ্রাসাদের গোপন ষড়যন্ত্রের মধ্যে জড়িয়ে পড়েন।
প্রথমে দুজন একে অপরের শত্রু হলেও ধীরে ধীরে তাঁদের সম্পর্ক জটিল হয়ে ওঠে। রাজনৈতিক প্রতারণা, ক্ষমতার লড়াই এবং ব্যক্তিগত প্রতিশোধের মধ্যেও তৈরি হয় প্রেমের সম্পর্ক। সিরিজটিতে ঐতিহাসিক আবহের সঙ্গে আধুনিক রোম্যান্স ও রহস্য মিলিয়ে উপস্থাপন করা হয়েছে।
নেটফ্লিক্স ও আইএমডিবি অবলম্বনে