লিভার–সংক্রান্ত জটিলতায় মারা গেছেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও অভিনেত্রী কারিনা কায়সার (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ভারতের চেন্নাইয়ে নেওয়া হয়েছিল। সেখানেই ১৫ মে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। চিত্রনাট্যকার ও অভিনেত্রী হিসেবে রেজাউর রহমানের তিনটি প্রকল্পে কাজ করেছিলেন কারিনা। প্রয়াত শিল্পীর সঙ্গে কাজের স্মৃতিচারণা করেছেন এই নির্মাতা।
২০১৮ সালের আগস্টের দিকে কারিনার সঙ্গে আমার পরিচয়। তখন ‘দেখো’ নামের নতুন একটি প্ল্যাটফর্মে একসঙ্গে কাজ করছিলাম। ওর একটি কনটেন্ট দেখে মুগ্ধ হয়েছিলাম। সেখান থেকেই বন্ধুত্ব। তখন কারিনার বয়স কত আর হবে—২৩ কী ২৪। ওর রসবোধ ও কাজের প্রতি একাগ্রতা আমাকে মুগ্ধ করেছিল। এরপর আমরা পুরো টিম ওকে নিয়মিত এখানে কাজ করার অনুরোধ করি। কত প্ল্যান করতাম দুজন। বয়স কম হলেও ভালো ভালো এত আইডিয়া দিত, সবাই অবাক হয়ে যেতাম, আরে, এভাবে তো ভেবে দেখিনি!
২০২০ সালের দিকে নিজেরা কিছু করার পরিকল্পনা করি। দুজন মিলে শুরু করি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ‘হাউস অব কেওস’। খুব একটা ভেবেচিন্তে শুরু করিনি। আসলে এটি ছিল আমাদের দুজনের একটি একান্ত ‘ক্রিয়েটিভ স্পেস’, যেখানে নিজেদের পরিকল্পনাগুলো স্বাধীনভাবে বাস্তবায়ন করা যায়। আস্তে আস্তে এটি আজকের চেহারা পায়।
হাউস অব কেওসের ব্যানারে গত কয়েক বছরে আমরা শতাধিক বিজ্ঞাপন, ডিজিটাল ক্যাম্পেইন ও বিভিন্ন কনটেন্ট নির্মাণ করি। চরকির ‘মিনিস্ট্রি অব লাভ’ প্রজেক্টের সিনেমা ৩৬-২৪-৩৬, ওয়েব সিরিজ ইন্টার্নশিপ থেকে সবশেষ হইচইয়ের সিনেমা একসাথে আলাদা—প্রতিটা কাজের পেছনে সবচেয়ে বেশি পরিশ্রম করেছে কারিনা। বিশেষ করে কোথাও যখন পিচ করতাম, ও এত সুন্দর করে গল্পটা বলত, উপস্থিত সবাই ভিজ্যুয়ালটা যেন সামনে দেখতে পেত।
কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবেও কারিনার একটা নাম ছিল। মিডিয়ার বাইরের মানুষদের কাছে যখন যেতাম, ওর ক্রেজটা টের পেতাম। ওর সোশ্যাল মিডিয়া কনটেন্ট এবং কমিউনিকেশনের বিষয়গুলো আমিই সামলেছি।
কারিনা নেই, এখনো আমার বিশ্বাস হচ্ছে না। কত কাজ বাকি রয়ে গেল। ৩ মে ওর শরীর খারাপ শুনে বাসায় গেলাম, প্রচণ্ড জ্বর। চিকিৎসক দেখানোর কথা বললে স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে বলল, ‘জ্বর হলে ডাক্তার লাগে নাকি!’ আড্ডা দিয়ে চলে এলাম। পরের দিনও অনলাইনে কিছু কথা হয়েছে। দুপুরের পর থেকে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেল। ভেবেছি, অসুস্থতায় শরীর ক্লান্ত, হয়তো ঘুমিয়ে আছে।
৫ মে ওর মা ফোনে জানান, ও অনেক বেশি অসুস্থ, রাত থেকে কিছুই খাচ্ছে না। সঙ্গে সঙ্গেই বাসায় গিয়ে দেখি শরীরের অবস্থা ভীষণ খারাপ। হাসপাতালে নিয়ে যাই। চিকিৎসকেরা ইমার্জেন্সি থেকে ওকে ভেতরে নিয়ে গেলেন। এরপর আইসিইউ থেকে লাইফ সাপোর্টে। এই শেষ। আর ফিরে আসবে না আমাদের কারিনা।
অনুলিখিত