
হাসিখুশি, প্রাণবন্ত এক তরুণী। কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে সামাজিক মাধ্যমে পরিচিত মুখ কারিনা কায়সার। অভিনয় আর গল্প বলার জগতে ধীরে ধীরে নিজের জায়গাও তৈরি করছিলেন। কিন্তু সেই হাসির আড়ালেই নীরবে বাসা বেঁধেছিল জটিল রোগ। শরীর খারাপ লাগলেও শুরুতে বুঝতে পারেননি পরিস্থিতি এতটা ভয়াবহ হয়ে উঠবে। কয়েক দিনের ব্যবধানে অবস্থার অবনতি হতে হতে এখন তিনি লাইফ সাপোর্টে। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে বিদেশে নিতে চায় পরিবার, কিন্তু সেই চিকিৎসা ব্যয় সামলাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন বাবা জাতীয় দলের সাবেক ফুটবলার কায়সার হামিদ। তাই সরকার ও সবার কাছে সহযোগিতার আবেদন জানিয়েছেন তিনি।
আজ শনিবার বিকেলে প্রথম আলোকে কায়সার হামিদ বলেন, ‘আমরা তাকে চিকিৎসার জন্য ভারত বা সিঙ্গাপুরে নেওয়ার চেষ্টা করছি, কিন্তু এতে বিশাল অঙ্কের টাকার প্রয়োজন। এর আগে আমার আরেক ভাই ব্রেন ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন, দুই বছর তাঁর চিকিৎসায় পরিবারের অনেক টাকা সেখানে খরচ হয়েছে। এখন এ মুহূর্তে এত টাকা জোগাড় করা আমাদের জন্য প্রায় অসম্ভব।’
কায়সার হামিদ আরও বলেন, ‘জমি বিক্রি করে টাকার সংস্থান করার চেষ্টা করছি। কিন্তু এতে কিছুটা সময়ের প্রয়োজন। জানি না, সরকারিভাবে কোনো সাহায্য পাব কি না। সরকারসহ সাধারণ সবার কাছে আমি সহায়তা চাই। এই মুহূর্তে আমার মেয়েকে সুস্থ করে তোলাটাই আমাদের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ, তাই সবার সহায়তা এখন খুব দরকার।’
লিভার-সংক্রান্ত জটিলতায় এক সপ্তাহ ধরে হাসপাতালে ভর্তি আছেন কারিনা কায়সার। আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল শুক্রবার রাতে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়।
এর আগে আজ দুপুরে কারিনার অসুস্থতা নিয়ে কায়সার হামিদ জানান, কারিনার ফ্যাটি লিভার ছিল। কয়েক দিন ধরেই শরীর খারাপ লাগছিল। হাসপাতালে আনার পর চিকিৎসকেরা জানান, তাঁর শরীরে ইনফেকশন হয়েছে। এর মধ্যে আবার হেপাটাইটিস এ-তেও আক্রান্ত হন তিনি। পরে গতকাল তাঁর লিভার ফেইলিউর হলে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়।
অভিনয়ের পাশাপাশি চিত্রনাট্যকার হিসেবেও পরিচিতি পেয়েছেন কারিনা কায়সার। তাঁর উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে ‘ইন্টার্নশিপ’ ও ‘৩৬-২৪-৩৬’।