
মাঠের এক কোণে হচ্ছিল গান, ‘চোখের আলোয় দেখেছিলেম, চোখের বাহিরে।’ গাইছিলেন সমাপ্তি রায়। ঢাকা থেকে পটুয়াখালী এসেছিলেন সমাপ্তি, ৩৫তম জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত সম্মেলনে অংশ নিতে। সমাপ্তি দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী। তিন বছর বয়স থেকেই তিনি চোখে দেখতে পান না। তখন থেকেই তিনি রবীন্দ্রনাথের গানে খুঁজেছেন আলো।
রবীন্দ্রসংগীতশিল্পী সমাপ্তির বাড়ি ফরিদপুরের পশ্চিম খাবাশপুরে। তিন বছরের সমাপ্তি টাইফয়েডে চোখের আলো হারান। কিন্তু হারাননি মনের আলো। রবীন্দ্রসংগীত নিয়ে খুব আগ্রহ ছিল তাঁর। ফরিদপুরে বসেই শিখতে থাকেন রবীন্দ্রসংগীত। নিয়মিত তালিম নেন কয়েকজন শিল্পীর কাছ থেকে। এখন রবীন্দ্রজগতে অনেকেই সমাপ্তিকে কমবেশি চেনেন।
পটুয়াখালীতে অনুষ্ঠিত জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত সম্মেলনের ৩৫তম বার্ষিক অধিবেশনের শেষ দিন গত রোববার বিকেলে মাকে সঙ্গে নিয়ে অনুষ্ঠানে আসেন সমাপ্তি। সন্ধ্যায় তিনি মঞ্চে রবীন্দ্রসংগীত পরিবেশন করেন।
সমাপ্তি জানান, তিনি রবীন্দ্রসংগীত সম্মেলনে পরপর তিনবার পুরস্কৃত হয়ে অনন্যমান অর্জন করেছেন। পেয়েছেন একটি তানপুরাও। সমাপ্তি বলেন, ‘আমার নিজের জগৎটা যদিও অন্ধকার, এই পৃথিবীর রূপ আমি দেখতে পাই না। কিন্তু গান গেয়ে মানুষের মনে আনন্দ দিতে চাই, রবীন্দ্রনাথের আলোয় আলোকিত করতে চাই সবাইকে।’