
‘ওরে সালেকা ওরে মালেকা’, ‘আলাল ও দুলাল’ ও ‘বাংলাদেশ’ শিরোনামে গান তিনটির অংশবিশেষে কণ্ঠ দিলেন তিন গায়িকা মেহরীন, আলিফ আলাউদ্দিন ও আরমিন মুসা। বাংলাদেশ টেলিভিশনের ঈদুল আজহার ‘আনন্দমেলা’য় প্রচারিত হবে মেডলিটি।
প্রয়াত পপ সম্রাট আজম খানকে ট্রিবিউট করে তাঁর তিনটি গানের অংশবিশেষ নিয়ে পাঁচ মিনিটের একটি মেডলি তৈরি হলো। ‘ওরে সালেকা ওরে মালেকা’, ‘আলাল ও দুলাল’ ও ‘বাংলাদেশ’ শিরোনামে গান তিনটির অংশবিশেষে কণ্ঠ দিলেন তিন গায়িকা মেহরীন, আলিফ আলাউদ্দিন ও আরমিন মুসা। বাংলাদেশ টেলিভিশনের ঈদুল আজহার ‘আনন্দমেলা’য় প্রচারিত হবে মেডলিটি।
এরই মধ্যে গান তিনটির রেকর্ডিং ও ভিডিও ধারণ শেষ হয়েছে। এর আগে মঞ্চ বা রেকর্ডিং—কোথাও আজম খানের কোনো গান গাননি এই তিন শিল্পী। প্রথম তাঁর গানে কণ্ঠ দিতে পেরে তিনজনই দারুণ খুশি।
মেহরীন জানান, আজম খানের গান শুনে বড় হয়েছি। তাঁর গান স্টুডিওতে গিয়ে গাইবেন ভাবেননি কখনো। তিনি বলেন, ‘বিটিভি থেকে পুরোনো দিনের ব্যান্ডের গান চেয়েছিল। আজম ভাইকে সম্মান জানানোর জন্য আমরা তিনজনই তাঁর তিনটি গান বেছে নিয়েছি। পরে বিটিভিও অনুমতি দিয়েছে। আজম ভাইয়ের গান গাইতে পেরে আমরা তিনজনই তাঁর ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে গেলাম।’
মেহরীন জানান, শোনার সময় আজম ভাইয়ের গানের কথা ও সুর মনে হয় সহজ। কিন্তু গাইতে গিয়ে বেশ বেগ পেতে হয়েছে। বলেন, ‘আজম ভাইয়ের গানের মধ্যে অনেক এনার্জি আছে, অন্তর্নিহিত আলাদা ভাব আছে। গান তিনটির সুরের কিছু কিছু জায়গায় আজম ভাইয়ের মতো করে তুলে আনা আমার জন্য অতটা সহজ ছিল না। তারপরও সঠিকভাবে গাওয়ার চেষ্টা করেছি।’
আলিফ আলাউদ্দিন জানান, মুক্তিযুদ্ধ–পরবর্তী আজম খানেরা ‘উচ্চারণ’ দিয়ে ব্যান্ড সংগীতের যাত্রা শুরু করেন। তাঁদের গান শুনেই পপ ঘরানার বাংলা গান শোনার আগ্রহ জন্মেছে এ দেশের সংগীতপ্রেমীদের। আজম খান ব্যান্ড সংগীতের ইতিহাসের অংশ। তিনি বলেন, ‘তাঁর গান এভাবে গাওয়ার সুযোগ হয়নি আগে। গাওয়ার পর অন্য রকমের ভালো লাগা কাজ করছে নিজের মধ্যে।’
আজম খানের গান গাইতে পেরে রোমাঞ্চিত আরমিন মুসা, ‘বাংলাদেশে ব্যান্ড সংগীতের আইডল আজম খান। এটি আমার সংগীত জীবনের একটি স্মরণীয় ঘটনা হয়ে থাকবে।’
মেডলিটির নতুন সংগীতায়োজন করেছেন ফোয়াদ নাসের বাবু। তিনি বলেন, ‘নতুন সংগীতায়োজনটা আজম ভাইয়ের মূল গানের মিউজিকের মতো করেই করা। পাশাপাশি মূল গানের বাদ্যযন্ত্রগুলোর মতো এখানেও সে ধরনের বাদ্যযন্ত্র ব্যবহারের চেষ্টা করা করেছি।’
আনন্দ মেলা অনুষ্ঠানটির অন্যতম প্রযোজক এল রুমা আক্তার বলেন, ‘আজম খানের গান সব প্রজন্মের মধ্যেই বেঁচে থাকবে, এটা আমাদের চাওয়া। তাঁকে সম্মান জানানোর জন্য ঈদের এই বিশেষ ম্যাগাজিন অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে তাঁর গান রেখেছি আমরা।’