চন্দন সিনহা, ইমরান মাহমুদুল ও কবির বকুল
চন্দন সিনহা, ইমরান মাহমুদুল ও কবির বকুল

আজ রাতে ‘ইমরান-শো: বকুল ও চন্দনে, গানের বন্ধনে’

ঈদ আয়োজনে তৃতীয়বারের মতো পর্দায় ফিরছে সংগীতবিচিত্রা ‘ইমরান-শো: বকুল ও চন্দনে, গানের বন্ধনে’। গানের সঙ্গে গল্প, স্মৃতি আর আড্ডার মেলবন্ধনে সাজানো এই বিশেষ পর্ব প্রচারিত হবে আজ সোমবার রাত ১০টা ৩০ মিনিটে এটিএন বাংলায়।

জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী ইমরান মাহমুদুলের উপস্থাপনায় এবারের আয়োজনে গীতিকবি কবির বকুলের লেখা এবং কণ্ঠশিল্পী চন্দন সিনহার কণ্ঠে পরিবেশিত হবে সাতটি গান। প্রেম, বেদনা ও সম্পর্কের নানা অনুভূতিকে কেন্দ্র করে গানগুলো সাজানো হয়েছে একটি সুনির্দিষ্ট ন্যারেটিভে, যা অনুষ্ঠানটিকে কেবল সংগীত পরিবেশনা নয়, বরং এক আবেগময় অভিজ্ঞতায় পরিণত করেছে।

এবারের পর্বে থাকছে বিশেষ চমকও। চন্দন সিনহার কণ্ঠে শোনা যাবে তিনটি নতুন গান। তাঁর গাওয়া দ্বৈত গানে কণ্ঠ দিয়েছেন দিলশাদ নাহার কনা ও আতিয়া আনিসা। পাশাপাশি চন্দনের একটি জনপ্রিয় গান নতুনভাবে পরিবেশন করেছেন সানিয়া সুলতানা লিজা। উপস্থাপনার পাশাপাশি ইমরান মাহমুদুল দর্শক উপস্থিতিতে গেয়েছেন চন্দনের আলোচিত গান ‘আমি নিঃস্ব হয়ে যাব’, যা অনুষ্ঠানে যোগ করেছে বাড়তি আবেগ।

গানের সঙ্গে গল্প, স্মৃতি আর আড্ডার মেলবন্ধনে সাজানো এই বিশেষ পর্ব প্রচারিত হবে আজ সোমবার রাত ১০টা ৩০ মিনিটে এটিএন বাংলায়।

চন্দন সিনহা জানান, এবারের পর্বে ভিন্নমাত্রা যোগ করেছে আরেকটি চমক—গীতিকবি কবির বকুলের কণ্ঠে শোনা যাবে তাঁরই লেখা একটি গান। মূলত গীতিকবি হিসেবে পরিচিত বকুলের এই পরিবেশনা দর্শকদের জন্য হবে বাড়তি আকর্ষণ।
প্রথমবারের মতো এই আয়োজনে যুক্ত হয়েছে দর্শক উপস্থিতি। গানের ফাঁকে আলাপচারিতায় অংশ নেবেন অভিনেতা মুকিত জাকারিয়া, নির্মাতা চয়নিকা চৌধুরী এবং গীতিকবি লিটন অধিকারী রিন্টু। তাঁদের কথায় উঠে আসবে শিল্পীজীবন, গানের পেছনের গল্প ও সৃষ্টির নানা দিক।

ঈদ আয়োজনে তৃতীয়বারের মতো পর্দায় ফিরছে সংগীতবিচিত্রা ‘ইমরান-শো: বকুল ও চন্দনে, গানের বন্ধনে’

অনুষ্ঠানটি নিয়ে ইমরান মাহমুদুল বলেন, দর্শকদের ভালোবাসাই তাঁকে তৃতীয়বারের মতো এই আয়োজনে যুক্ত করেছে। তাঁর ভাষায়, ‘বকুল ভাই ও চন্দনদার সঙ্গে আমার রসায়ন চমৎকার। তাই “ইমরান-শো”তে কাজটি সাবলীলভাবে করতে পারি।’
‘ইমরান-শো: বকুল ও চন্দনে, গানের বন্ধনে’–এর গ্রন্থনা, পরিকল্পনা ও পরিচালনা করেছেন কবির বকুল। গান, আড্ডা ও দর্শকদের অংশগ্রহণের সমন্বয়ে এবারের পর্বটি ঈদের টেলিভিশন আয়োজনে একটি বিশেষ সংযোজন হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এবারের পর্বে থাকছে বিশেষ চমকও। চন্দন সিনহার কণ্ঠে শোনা যাবে তিনটি নতুন গান। তাঁর গাওয়া দ্বৈত গানে কণ্ঠ দিয়েছেন দিলশাদ নাহার কনা ও আতিয়া আনিসা। পাশাপাশি চন্দনের একটি জনপ্রিয় গান নতুনভাবে পরিবেশন করেছেন সানিয়া সুলতানা লিজা।

বাংলা গানের ভান্ডারে কবির বকুল ও চন্দন সিনহার যৌথ কাজ বহুদিন ধরেই শ্রোতৃপ্রিয়। আশির দশকের মাঝামাঝি থেকে লেখালেখি শুরু করা কবির বকুল ১৯৮৮ সালে গীতিকবি হিসেবে যাত্রা শুরু করেন। ‘কেন এই নিঃসঙ্গতা’, ‘আসবার কালে আসলাম একা’, ‘কেউ প্রেম করে’ কিংবা সাম্প্রতিক সময়ে ভাইরাল ‘আজ মন খুশি মন উর্বশী’—এমন অসংখ্য জনপ্রিয় গান তাঁর কলমে সৃষ্টি হয়েছে। কাজের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি ছয়বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন।

চন্দন সিনহা

অন্যদিকে তিন দশকের বেশি সময় ধরে সংগীতের সঙ্গে যুক্ত চন্দন সিনহা ১৯৯৩ সালে আবদুল্লাহ আল মামুনের ‘শীর্ষবিন্দু’ ধারাবাহিকে কণ্ঠ দিয়ে যাত্রা শুরু করেন। নাটকের পাশাপাশি চলচ্চিত্রের গানেও তিনি সমান স্বচ্ছন্দ।

‘শীর্ষবিন্দু’, ‘জোয়ার ভাটা’, ‘ঘুম যদি না আসে’, ‘তোমারই ভালোবাসায়’, ‘তুমি কোথাও নাই’সহ তাঁর একাধিক অ্যালবাম শ্রোতাদের মধ্যে জনপ্রিয়। ‘পূর্ণদৈর্ঘ্য প্রেমকাহিনী’, ‘দরিয়া পাড়ের দৌলতি’ ও ‘গহীন বালুচর’সহ বেশ কিছু চলচ্চিত্রে প্লেব্যাক করেছেন তিনি।
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারেও রয়েছে তাঁর সাফল্য। ‘হৃদিতা’ চলচ্চিত্রে কবির বকুলের কথায় ইমরানের সুর-সংগীতে ‘ঠিকানাবিহীন তোমাকে’ গানের জন্য তিনি ২০২২ সালে সেরা গায়ক হিসেবে সম্মাননা পান। এর আগে ‘পূর্ণদৈর্ঘ্য প্রেমকাহিনী’ ছবির ‘তুমি আছ বলে তারা জ্বলে নেভে’ গানটির জন্যও এই স্বীকৃতি পেয়েছিলেন।
সব মিলিয়ে দীর্ঘদিনের সৃজনশীল এই দুই শিল্পীর রসায়ন, ইমরানের উপস্থাপনা এবং দর্শক অংশগ্রহণ—সবকিছু মিলিয়ে এবারের ‘ইমরান-শো’ ঈদ আয়োজনে হয়ে উঠতে যাচ্ছে ভিন্নমাত্রার এক সংগীত-অনুভব।