বাদশা। শিল্পীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
বাদশা। শিল্পীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

গানে নারীদের আপত্তিকরভাবে উপস্থাপন, ক্ষমা চাইলেন বাদশা

কয়েক সপ্তাহ ধরে বিতর্কে জর্জরিত বাদশা। র‌্যাপারের সদ্য মুক্তিপ্রাপ্ত ‘টাটিরি’ গানের কথা এবং দৃশ্যায়ন নিয়ে নিন্দার ঝড় বয়ে গিয়েছে দেশজুড়ে। গানের দৃশ্যায়নে নারীদের আপত্তিকরভাবে তুলে ধরায় আইনি জটিলতায় পড়েছেন বাদশা। বিতর্কের স্ফুলিঙ্গ জ্বলে উঠেছে বাদশার গানের কথাতেও। এর জেরে গায়কের বিরুদ্ধে একাধিক এফআইআর দায়ের হয়েছে হরিয়ানায়। এমনকি বাদশাকে তলব করা হয় সংশ্লিষ্ট রাজ্যের নারী কমিশনের পক্ষ থেকেও। মঙ্গলবার তারই পরিপ্রেক্ষিতে কমিশনের দ্বারস্থ হয়ে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে নিয়েছেন বাদশা। শুধু তা–ই নয়, ‘প্রায়শ্চিত্তের পণ’ও করেছেন র‌্যাপার।

মামলার শুনানির জন্য মঙ্গলবার কমিশনের দপ্তরে হাজির হন বাদশা। সেখানে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নারী কমিশনের চেয়ারপারসন বিজয়া রাহাতকরও। কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নারীদের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করে এমন কনটেন্টকে কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। এর পরিপ্রেক্ষিতেই বাদশাকে নির্দেশ দেওয়া হয়, ভবিষ্যতে যাতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে। শুনানির সময় বাদশা ছাড়াও বিতর্কিত ওই মিউজিক ভিডিওর পরিচালক জোবান সান্ধু, মহাবীর সিং এবং প্রযোজক হিতেন উপস্থিত ছিলেন কমিশনের দপ্তরে। সেখানেই সংশ্লিষ্ট ইস্যুতে লিখিতভাবে ক্ষমা চেয়ে নেন অনুতপ্ত বাদশাসহ টিমের অন্যরা।

বাদশা। শিল্পীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

শুধু তা–ই নয়, বাদশা কথা দেন, খুব শিগগিরি নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে গান বাঁধবেন তিনি। নারী কমিশনকে তিনি বলেন, ‘এবার থেকে নারী ও সমাজের সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করব। আগামী চার মাসের মধ্যে নারী ক্ষমতায়ন–বিষয়ক একটি ইতিবাচক গান উপহার দেব সকলকে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের কোনো কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত থাকব না।’

বাদশার সেই বিতর্কিত গানের মিউজিক ভিডিওর শুরুতেই দেখা যায়, কাঁধের ব্যাগ নামিয়ে স্কুলছাত্রীরা নাচতে শুরু করেছে। তার সঙ্গে অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি এবং নেপথ্যে গানের চটুল কথা। আর এহেন যৌন ইঙ্গিতমূলক গানে আপত্তি তুলে বাদশার বিরুদ্ধে পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছিল হরিয়ানা নারী কমিশন। অন্যদিকে মুলায়ম সিং যাদবের পূত্রবধূ অপর্ণা যাদবও উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগীকে একটি চিঠি লিখে সংশ্লিষ্ট রাজ্যে বাদশার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির আবেদন করেছিলেন।

১ মার্চ ‘টাটিরি’ গানটি নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে গানটি প্রকাশ করেন বাদশা। যদিও প্রথমটিতে এই হরিয়ানভি গান শুনে অনুরাগীরা উল্লাস প্রকাশ করেছিলেন, তবে দিন কয়েক কাটতে না কাটতেই নিন্দার ঝড় শুরু হয়। কেন? কারণ, গানের কথা ও দৃশ্যে নারীদের ‘ভোগ্যপণ্য’ হিসেবে দেখানোর অভিযোগে রে-রে করে উঠেছে শ্রোতৃমহল।

ওই মিউজিক ভিডিওর গোড়াতেই দেখা যায়, কাঁধের ব্যাগ নামিয়ে স্কুলছাত্রীরা নাচতে শুরু করেছে। তার সঙ্গে অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি এবং নেপথ্যে গানের চটুল কথা। এমন যৌন ইঙ্গিতমূলক গানে আপত্তি তুলে বাদশার বিরুদ্ধে পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছিল হরিয়ানা নারী কমিশন। পরে একাধিক প্ল্যাটফর্ম থেকে বাদশার বিতর্কিত ‘টাটিরি’ গানের ৮৫৭টি লিংকও সরিয়ে নেয় হরিয়ানা পুলিশ। এবার নারী কমিশনে হাজিরা দিয়ে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছিলেন বাদশা।

হিন্দুস্তান টাইমস অবলম্বনে