গতকাল প্রথম আলো কার্যালয়ে মিউজিক@ডেস্ক আয়োজনে সংগীত পরিবেশন করেন ইমন চৌধুরী ও তাঁর দল বেঙ্গল সিম্ফনি। ছবি: প্রথম আলো
গতকাল প্রথম আলো কার্যালয়ে মিউজিক@ডেস্ক আয়োজনে সংগীত পরিবেশন করেন ইমন চৌধুরী ও তাঁর দল বেঙ্গল সিম্ফনি। ছবি: প্রথম আলো

‘প্রিয় মানুষদের সামনে গান করতে পেরে আনন্দিত হয়েছি’

কাজের ফাঁকে প্রতি মাসে কর্মীদের আনন্দ দিতে প্রথম আলোর নিয়মিত আয়োজন ‘মিউজিক@ডেস্ক’। এ আয়োজনে গতকাল প্রথম আলো কার্যালয়ের কর্মীদের গান শোনান ইমন চৌধুরী ও তাঁর দল বেঙ্গল সিম্ফনি। শুরুতে শিল্পী ও তাঁর দলকে প্রথম আলোর কর্মীদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন প্রথম আলোর হেড অব কালচারাল প্রোগ্রাম কবির বকুল। করতালি দিয়ে তাঁদের বরণ করে নেন প্রথম আলোর কর্মীরা।
এবারের আয়োজনে ছিল পাঁচটি গান। শুরুতেই শোনানো হয় হাশিম মাহমুদের লেখা ‘দেখা না দিলে বন্ধু কথা কইয়ো না’ গানটি। কোক স্টুডিওর আলোচিত এই গান যৌথভাবে গেয়ে শোনান ইমনের ব্যান্ডের সদস্য এরফান মৃধা শিবলু ও আলেয়া বেগম। গানটি শেষ হলেও যন্ত্রানুসঙ্গের তালে তালে মেতে ওঠেন শ্রোতারা। গান শেষে কথা বলেন ইমন চৌধুরী। ‘কাজের ফাঁকে আপনাদের গান শোনাতে পারছি, এটা অনেক আনন্দের। আপনারা গান শুনতে এসেছেন, এ জন্য ধন্যবাদ। আশা করি, আমাদের আরও মিষ্টি কিছু গান আপনাদের ভালো লাগবে,’ বলেন তিনি।

গতকাল প্রথম আলো কার্যালয়ে মিউজিক@ডেস্ক আয়োজনে সংগীত পরিবেশন করেন ইমন চৌধুরী ও তাঁর দল বেঙ্গল সিম্ফনি। ছবি: প্রথম আলো

‘এবার “প্রাণ ধরিয়া মারো টান” গানটি আমরা গাইব’—ইমনের কথা শেষ না হতেই শ্রোতাদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে উচ্ছ্বাস। এটির গীতিকার অতনু তিয়াস। বোঝা গেল গানটি উপস্থিত প্রায় সবার পছন্দের। এটা বুঝতে পেরে গানের মাঝে একসময় মাইক্রোফোন থেকে মুখ সরিয়ে নেন ইমন চৌধুরী শ্রোতাদের উদ্দেশে বললেন, ‘আপনাদের পছন্দের মানুষের জন্য গানটি উৎসর্গ করলাম। এবার সবাই একসঙ্গে গানটি গাইব।’ ইমন তাল ধরিয়ে দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রথম আলোর কর্মীরাও গাইতে থাকেন।

তৃতীয় গান ‘তোমায় আমি ধরতে পারি বাজি’ লাইনগুলো বলার সঙ্গে সঙ্গেই উপস্থিত সবাই উচ্ছ্বাস প্রকাশ করলেন। যেন আবারও পছন্দের গান। বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে গানটি গেয়েছিলেন সবাই। এর মাঝেই ইমন চৌধুরী বললেন, ‘আমাদের প্রথম গান “দেখা না দিলে বন্ধু কথা কইয়ো না” গানটির সিকুয়েল এই গান, “তোমায় আমি ধরতে পারি বাজি।” গানটির কথা ও সুর হাশিম মাহমুদের।’

গতকাল প্রথম আলো কার্যালয়ে মিউজিক@ডেস্ক আয়োজনে সংগীত পরিবেশন করেন ইমন চৌধুরী ও তাঁর দল বেঙ্গল সিম্ফনি। ছবি: প্রথম আলো

ইমন চৌধুরী, আলেয়া বেগম ছাড়াও গানের দলের বিশেষ আকর্ষণ ছিলেন এরফান মৃধা শিবলু। তিনি এর আগে আলোচনায় এসেছিলেন হাওয়া সিনেমায় অভিনয় করে। এবার তাঁরা সেই সিনেমার জনপ্রিয় গান ‘আটটা বাজে দেরি করিস না’ মুখে তুলে নেন। বিশেষভাবে বলতে হয় এই গানের আগে বিশেষ বাদ্যযন্ত্রের ব্যবহার, যা মুগ্ধ করে শ্রোতাদের। গান শেষ হলেও দীর্ঘ সময় শ্রোতাদের আটকে রাখে গানের শেষ অংশের সংগীত। গানটির গীতিকার ও সুরকার ভারতের বীরভূমের শিল্পী মনিরুদ্দিন আহমেদ। সিনেমায় গানটির সংগীতায়োজন করেছিলেন ইমন চৌধুরী। সেই সময় তুমুল আলোচিত হয় গানটি।

বিভিন্ন আয়োজনে এই গান বহুবার গেয়েছেন এরফান মৃধা। তবে এবারের অভিজ্ঞতা নাকি ছিল একেবারেই আলাদা। এ নিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রথম আলোর যেকোনো আয়োজন সব সময় নিজের মনে হয়। যে কারণে মনটা ভালো থাকে। কারণ, এখানকার সবাই আমার কাছের মানুষ, ভালোবাসার মানুষ। তাঁরা সময় করে গান শুনতে এসেছেন এটা দেখে ভালো লেগেছে। ব্যস্ত মানুষদের কিছুটা সময় গানের মধ্য দিয়ে বিনোদন দিতে পারছি, এটা ভেবেই ভালো লাগছে।’

গতকাল প্রথম আলো কার্যালয়ে মিউজিক@ডেস্ক আয়োজনে সংগীত পরিবেশন করেন ইমন চৌধুরী ও তাঁর দল বেঙ্গল সিম্ফনি। ছবি: প্রথম আলো

শেষ গান হিসেবেও বেছে নেওয়া হয় হাওয়া সিনেমায় ব্যবহৃত ‘সাদা সাদা কালা কালা’ গানটি। গানটির কথা ও সুর হাশিম মাহমুদের। ইমন চৌধুরীর সংগীতায়োজনে গানটিতে কণ্ঠ দিয়ে রাতারাতি অভিনেতা থেকে গায়ক হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছিলেন এরফান মৃধা। ৪ মিনিটের শেষ গানটি ৮ মিনিটে গিয়ে শেষ হয়। গানটি পরিবেশনা শেষে ইমন চৌধুরী বলেন,‘অসাধারণ কিছু মানুষের সামনে গান করাটা সব সময়ই আনন্দের ও সৌভাগ্যের। ভালোবেসে আমাদের আমন্ত্রণ জানানোর জন্য ধন্যবাদ। প্রিয় মানুষদের সামনে গান করতে পেরে আনন্দিত হয়েছি।’

গান শেষে সংগীতশিল্পী ও কুশলীদের আবারও ধন্যবাদ দেন কবির বকুল। এ সময় তিনি ডেকে নেন প্রথম আলোর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক আনিসুল হককে। তিনি বলেন, ‘অসম্ভব সুন্দর কিছু গান আমরা শুনলাম। আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ আমাদের গান শোনানোর জন্য। আমাদের জন্য আপনারা আরও ভালো গান করে যাবেন, সেটাই প্রত্যাশা।’

গানের সঙ্গে সংগত করেন মিম ও অন্তরা (কোরাস), সুমন (ভোকাল ও বাঁশি), বুলেট (কি–বোর্ড) মিঠুন দে (বেজ গিটার), লিংকন (অ্যাকুয়াস্টিক গিটার), লিটন (ড্রামস ও তবলা), সজল (ঢোল)। এ ছাড়া আরও ছিলেন দস্তগীর, নদী–সেলিম ও আশিক (ওয়্যারলেস মাইক্রোফোন)। কাজের ফাঁকে কর্মীদের বিনোদনের জন্য প্রথম আলোর নিয়মিত আয়োজন মিউজিক@ডেস্ক এবার ছিল ১৬তম আয়োজন।