আট দশকের দীর্ঘ ক্যারিয়ারের ১২ হাজারের বেশি গান গেয়েছেন আশা ভোসলে। ড্যান্স নাম্বার, পপ থেকে রোমান্টিক গানে পাওয়া গেছে তাঁকে। বিস্তৃত ভান্ডার থেকে তাঁর সেরা ১০ গান বেছে নেওয়া মুশকিল। তবে কাজটা সহজ করে দিয়েছেন তিনি নিজেই। এক সাক্ষাৎকারে নিজের সেরা ১০ গান পছন্দ করেছিলেন আশা ভোসলে।
১. ‘ইয়ে কায়া জাগা হাই দোস্তন’ ও ‘ইন আনখন কি মাস্তি কে’
আশা ভোসলে নিজের সেরা ১০ গানের তালিকার শীর্ষে রেখেছিলেন ‘উমরাও জান’ সিনেমার গান দুটিকে। মোহাম্মদ জহুর খৈয়ামের সুরে তিনি স্বাভাবিকের চেয়ে নিচু স্বরে গেয়েছিলেন—যা গানগুলোকে দিয়েছে এক রহস্যময়, আবেগঘন আবহ। চরিত্রে ঢুকতে পরিচালক মুজারফর আলী তাঁকে উপন্যাস পড়তে দেন—এই প্রস্তুতিই গানে এনে দেয় অভিনব গভীরতা।
২. ‘জুঠে ন্যায়না’
১৯৯১ সালে মুক্তি পাওয়া ‘লেকিন’ সিনেমার গানটিকে নিজের পছন্দের দুইয়ে রেখেছেন আশা ভোসলে। হৃদয়নাথ মঙ্গেশকরের সুরে এই গান ছিল তাঁর জন্য এক চ্যালেঞ্জ। ক্লাসিক্যাল ঘরানার জটিলতা, দীর্ঘ রাতের রেকর্ডিং—সব মিলিয়ে এটি হয়ে ওঠে তাঁর প্রিয় একটি সৃষ্টির স্মৃতি। সিনেমাটিতে এই একটি গানই গেয়েছিলেন তিনি, অন্যগুলোতে কণ্ঠ দিয়েছিলেন তাঁর বোন লতা মঙ্গেশকর।
৩. ‘কালি ঘাটা ছায়ে’
১৯৫৯ সালে মুক্তি পাওয়া ‘সুজাতা’ সিনেমার গান এটি। এস ডি বর্মনের সুরে গাওয়া গানটিকে আশা বলতেন ‘সাধারণভাবে অসাধারণ’। অভিনেত্রী নূতনের অভিনয় গানের আবেগকে যেন আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল।
৪. ‘আয়ে মেহেরবান’
ও পি নায়ারের সুরে গানটি আশার কণ্ঠে হয়ে ওঠে কালজয়ী। ১৯৫৮ সালে মুক্তি পাওয়া ‘হাওড়া ব্রিজ’ সিনেমার গানটিতে পর্দায় মধুবালার উপস্থিতি গানটিকে অন্য মাত্রা দেয়—আশার মতে, ‘দর্শনেই অর্ধেক কাজ সারা।’
৫. ‘শোখ নজর কি বিলিয়া’
প্রখ্যাত সুরকার মদন মোহনের সঙ্গে লতা মঙ্গেশকরের হিট গানের সংখ্যা বেশি, আশার সে তুলনায় কম। তবে এ গানটি ছিল ব্যতিক্রম। ‘ও কৌন থি’ সিনেমার গানটির স্কেটিং রিঙ্কে চিত্রায়ন আলাদা বিশেষত্ব তৈরি করে।
৬. ‘রোজ রোজ আখো তলে’
‘জিবা’ সিনেমার গানটির কথা কে না জানে। স্বামী আর ডি বর্মনের সুরে গানটি গেয়েছিলেন আশা। তিনি বলতেন, পঞ্চমের (আর ডি বর্মনের ডাকনাম) অনেক গানই সময়মতো মূল্যায়ন হয়নি। এটি তেমনই একটি অবমূল্যায়িত রত্ন।
৭. ‘চেইন সে হামকো কাভি’
‘প্রাণ জায়ে পার বচান না জায়ে’ সিনেমার গানটিকে আশা বলতেন দুঃখের মুহূর্তের ‘উপশম’। গানের লিরিকস তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের কষ্টের প্রতিফলন—যা গায়কিতে এনে দেয় সত্যিকারের আবেগ।
৮. ‘সাজনা হ্যায় মুঝে’
‘সওদাগর’ সিনেমার গানটিতে সুর করেছিলেন রবীন্দ্র জৈন। মেলোডিয়াস এবং চিত্রায়ণেও ছিল আবেগময় আবেদন, যা তাঁকে ভীষণভাবে ছুঁয়ে গিয়েছিল।
৯. ‘কাতরা কাতরা’, ‘ছোটি কি কাহানি সে’ ও ‘মেরা কুছ সামান’
গুলজার পরিচালিত ‘ইজাজত’ সিনেমার সবগুলো গানই গেয়েছিলেন আশা ভোসলে। আর ডি বর্মনের সুরে সিনেমার গানগুলো ব্যাপক প্রশংসিত হয়। গানগুলোর মধ্যে এ তিনটি আশার একটু বেশিই প্রিয়। ‘ডাবল ভয়েস ইফেক্ট’ ব্যবহার করে ‘কাতরা কাতরা’ তৈরি করা হয়েছিল, যা সেই সময়ে ছিল একেবারে নতুন পরীক্ষা। গুলজারের জটিল লিরিকস নিয়ে রেকর্ডিংয়ের সময় নানান বিতর্কও হয়েছিল।
১০. ‘রাজ কি বাত হ্যায়’
রোশনের সুরে এই কাওয়ালি গানটি ছিল আশা ভোসলের অন্যতম প্রিয়। এমনকি বড় বোন লতা মঙ্গেশকরও এই গান পছন্দ করতেন।এটি ১৯৬৩ সালে মুক্তি পাওয়া ‘দিল হি তো হ্যায়’ সিনেমার।
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস অবলম্বনে