বিয়ন্সে। রয়টার্স ফাইল ছবি
বিয়ন্সে। রয়টার্স ফাইল ছবি

৩৫টি গ্র্যামি, ১ বিলিয়ন ডলারের মালিক, বিয়ন্সে মানেই যেন ইতিহাস

তাঁকে শুধু পপ তারকা বললে কম বলা হয়। তিনি গায়িকা, নৃত্যশিল্পী, গীতিকার, প্রযোজক, অভিনেত্রী, ব্যবসায়ী এবং সাংস্কৃতিক প্রভাবের এক বিশাল নাম। তিন দশকের বেশি সময় ধরে বিনোদনজগতে রাজত্ব করা বিয়ন্সে নোলস-কার্টার আজ এমন এক অবস্থানে পৌঁছেছেন, যেখানে তাঁর প্রতিটি অ্যালবাম, প্রতিটি মঞ্চ পরিবেশনা কিংবা নতুন কোনো সিদ্ধান্ত বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দেয়।
‘ক্রেজি ইন লাভ’, ‘সিঙ্গেল লেডিস’, ‘হালো’, ‘ফরমেশন’, ‘ব্রেক মাই সোল’ কিংবা সাম্প্রতিক ‘টেক্সাস হোল্ড’এম’—প্রজন্ম বদলালেও বদলায়নি বিয়ন্সের প্রভাব। একসময় মেয়েদের ব্যান্ড ডেস্টিনিজ চাইল্ডের সদস্য হিসেবে যাত্রা শুরু করা সেই কিশোরী আজ বিশ্বের সবচেয়ে সফল সংগীতশিল্পীদের একজন।

আজ ৪ সেপ্টেম্বর বিয়ন্সের জন্মদিন। ১৯৮১ সালের এই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের হিউস্টনে জন্মেছিলেন বিয়ন্সে নোলস। ৪৫ বছরে পা দেওয়া এই শিল্পীর জীবন যেন এক দীর্ঘ গল্প—স্বপ্ন দেখা, কঠোর পরিশ্রম, ব্যর্থতা থেকে শেখা, ভালোবাসা, বিতর্ক, ব্যক্তিগত সংকট আর একের পর এক ইতিহাস গড়ার গল্প।

শুরুটা ছিল ছোটবেলায়
সংগীতের সঙ্গে বিয়ন্সের সম্পর্ক খুব ছোট বয়স থেকেই। মাত্র ৯ বছর বয়সে তিনি যোগ দেন একটি কিশোরী গানের দলে। সেই দলের নাম ছিল ‘গার্লস টাইম’। নব্বইয়ের দশকের শুরুতে টেলিভিশনের প্রতিভা অনুসন্ধান অনুষ্ঠান ‘স্টার সার্চ’-এ অংশ নিয়েছিল দলটি।

সেই পথ অবশ্য খুব সহজ ছিল না। প্রতিযোগিতায় সাফল্য না পাওয়ার অভিজ্ঞতাও ছিল। কিন্তু থেমে যাননি বিয়ন্সে। সময়ের সঙ্গে বদলাতে থাকে দলের সদস্য ও পরিচয়। শেষ পর্যন্ত সেই দলই হয়ে ওঠে ‘ডেস্টিনিজ চাইল্ড’।
আর সেখান থেকেই শুরু হয় ইতিহাস।

নব্বইয়ের দশকের শেষ দিকে ডেস্টিনিজ চাইল্ড হয়ে ওঠে বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় মেয়েদের ব্যান্ডগুলোর একটি। ‘নো নো নো’, ‘বিলস বিলস বিলস’, ‘সে মাই নেম’, ‘সারভাইভার’—একটির পর একটি গান তাদের তারকাখ্যাতির শীর্ষে নিয়ে যায়।
দলের মধ্যে শুরু থেকেই আলাদা করে নজর কেড়েছিলেন বিয়ন্সে। তাঁর কণ্ঠ, মঞ্চে উপস্থিতি এবং নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা তাঁকে অন্যদের চেয়ে আলাদা করে তুলেছিল।
ডেস্টিনিজ চাইল্ড শুধু বিয়ন্সের ক্যারিয়ারের শুরু নয়, তাঁর ভবিষ্যতের ভিত্তিও তৈরি করে দিয়েছিল। দলগতভাবে কাজ করা, প্রতিযোগিতার চাপ সামলানো, মঞ্চে দর্শকের মন জয় করা—সবকিছুই তিনি শিখেছিলেন এই সময়।

একা পথচলা, আর প্রথম বড় সাফল্য
২০০৩ সাল। বিয়ন্সের একক ক্যারিয়ারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বছর। প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম একক অ্যালবাম ‘ডেঞ্জারাসলি ইন লাভ’। আর অ্যালবামটি যেন ঘোষণা করে দেয়—বিয়ন্সে আর শুধু কোনো সফল মেয়েদের ব্যান্ডের সদস্য নন, তিনি নিজেই একজন সুপারস্টার।

অ্যালবামের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ছিল ‘ক্রেজি ইন লাভ’। র‍্যাপার জে-জেডকে নিয়ে করা গানটি মুহূর্তেই বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। গানটির সংগীত, নাচ আর ভিডিও—সব মিলিয়ে বিয়ন্সের নতুন পরিচয় তৈরি হয়।

সেই অ্যালবামের সাফল্য গ্র্যামির মঞ্চেও প্রতিফলিত হয়েছিল। এক রাতেই পাঁচটি গ্র্যামি জিতে সংগীতজগতে নিজের শক্ত অবস্থানের জানান দেন তিনি।
এরপর আর পেছনে তাকাতে হয়নি। ‘বি’ডে’, ‘আই অ্যাম...সাশা ফিয়ার্স’, ‘ফোর’—একটির পর একটি অ্যালবামে বিয়ন্সে নিজেকে নতুনভাবে তুলে ধরেছেন। ‘ইরিপ্লেসেবল’, ‘সিঙ্গেল লেডিস’, ‘হালো’, ‘রান দ্য ওয়ার্ল্ড (গার্লস)’—এসব গান তাঁকে বিশ্ব পপ সংগীতের অবিচ্ছেদ্য অংশ করে তুলেছে।
বিশেষ করে ‘সিঙ্গেল লেডিস’ শুধু একটি হিট গান ছিল না; গানটির নাচ হয়ে ওঠে বিশ্বজুড়ে সাংস্কৃতিক ঘটনা।

বিয়ন্সে মানেই নিজেকে নতুন করে আবিষ্কার
অনেক শিল্পী জনপ্রিয়তার একটি নির্দিষ্ট ফর্মুলা ধরে রাখেন। বিয়ন্সের সবচেয়ে বড় শক্তি সম্ভবত এখানেই—তিনি কখনো একই জায়গায় দীর্ঘদিন দাঁড়িয়ে থাকেন না।
২০১৩ সালে বিয়ন্সে হঠাৎই প্রকাশ করেন নিজের নামে অ্যালবাম ‘বিয়ন্সে’। কোনো দীর্ঘ প্রচারণা নয়, কোনো প্রচলিত বিপণনকৌশল নয়—হঠাৎই পুরো অ্যালবাম প্রকাশ।
সংগীতবাজারে সেটি ছিল একধরনের বিপ্লব।
এরপর আসে ‘লেমনেড’।

গ্র্যামি হাতে বিয়ন্সে। রয়টার্স

২০১৬ সালের এই অ্যালবামকে অনেকেই বিয়ন্সের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে ব্যক্তিগত ও শিল্পসমৃদ্ধ কাজগুলোর একটি হিসেবে বিবেচনা করেন। প্রেম, বিশ্বাসভঙ্গ, রাগ, কষ্ট, ক্ষমা ও আত্মমর্যাদার গল্প—সব মিলিয়ে ‘লেমনেড’ শুধু গান নয়, ছিল এক নারীর আবেগের জটিল যাত্রা।

ব্যক্তিগত জীবনের নানা প্রশ্নও উঠে এসেছিল অ্যালবামটিকে ঘিরে। বিশেষ করে স্বামী জে-জেডের সঙ্গে বিয়ন্সের সম্পর্ক নিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনা শুরু হয়।
কিন্তু বিয়ন্সে কখনো সরাসরি সব প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার পথে হাঁটেননি; বরং নিজের শিল্পের মধ্য দিয়েই তিনি কথা বলেছেন।
সেখানেই হয়তো বিয়ন্সের বিশেষত্ব—তাঁর ব্যক্তিগত জীবনও শেষ পর্যন্ত শিল্পে রূপ নেয়।

‘হোমকামিং’: কোচেল্লায় ইতিহাস
২০১৮ সালে সংগীত উৎসব কোচেল্লার মঞ্চে বিয়ন্সের পরিবেশনা আরেকটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত।
বিয়ন্সে ছিলেন কোচেল্লার প্রধান শিল্পী হিসেবে মঞ্চে ওঠা প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী।
তবে এটি শুধু একটি কনসার্ট ছিল না; যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহাসিক কৃষ্ণাঙ্গ কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃতি, সংগীত এবং নৃত্যের প্রতি ছিল তাঁর শ্রদ্ধাঞ্জলি।
পরে সেই পরিবেশনা নিয়ে তৈরি হয় নেটফ্লিক্সের প্রামাণ্যচিত্র ‘হোমকামিং’।
সমালোচকদের কাছে সেটি শুধু একটি কনসার্ট ফিল্ম নয়, আধুনিক পপ সংস্কৃতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্পকর্ম হিসেবে বিবেচিত হয়।

নতুন যুগের বিয়ন্সে: ‘রেনেসাঁ’
২০২২ সালে প্রকাশিত ‘রেনেসাঁ’ বিয়ন্সেকে আবার নতুন এক জগতে নিয়ে যায়। ড্যান্স,  ডিসকো সংগীতের নানা উপাদান নিয়ে তৈরি অ্যালবামটি ছিল মুক্তি, আনন্দ ও নাচের উদ্‌যাপন।
‘ব্রেক মাই সোল’ গানটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। আর ‘রেনেসাঁ’ প্রমাণ করে, চার দশক বয়স পেরিয়ে গেলেও বিয়ন্সে এখনো পপ সংস্কৃতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চালিকা শক্তিগুলোর একজন।
এই অ্যালবামের মাধ্যমে বিয়ন্সে যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম সাতটি স্টুডিও অ্যালবাম দিয়ে টানা শীর্ষস্থানে অভিষেক করা নারী শিল্পী হিসেবেও অনন্য কৃতিত্ব গড়েন।
এরপর শুরু হয় বিশাল রেনেসাঁ ওয়ার্ল্ড ট্যুর। বিশ্বজুড়ে আলোচিত এই সফর বিয়ন্সের ক্যারিয়ারের আরেকটি আর্থিক ও সাংস্কৃতিক সাফল্য। সফরটি প্রায় ৬০ কোটি ডলার আয় করেছিল বলে জানিয়েছে ফোর্বস।

মার্কিন পপ তারকা বিয়ন্সে

দেশি গানের জগতে ঢুকে নতুন ইতিহাস
২০২৪ সালে বিয়ন্সে আবার সবাইকে চমকে দেন। প্রকাশ করেন ‘কাউবয় কার্টার’। এবার তাঁর গন্তব্য কান্ট্রি সংগীত। যুক্তরাষ্ট্রের সংগীতের এই ধারা দীর্ঘদিন ধরে মূলধারায় মূলত শ্বেতাঙ্গ শিল্পীদের সঙ্গে যুক্ত ছিল। কিন্তু বিয়ন্সে মনে করিয়ে দেন, কান্ট্রি সংগীতের ইতিহাসেও কৃষ্ণাঙ্গ শিল্পীদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে।
‘টেক্সাস হোল্ড’এম’ প্রকাশের পর বিয়ন্সে কান্ট্রি সংগীতের চার্টেও নতুন ইতিহাস গড়েন।
২০২৫ সালের গ্র্যামি পুরস্কারে ‘কাউবয় কার্টার’ বিয়ন্সেকে এনে দেয় ক্যারিয়ারের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত পুরস্কার—অ্যালবাম অব দ্য ইয়ার।

দীর্ঘ ক্যারিয়ারে এর আগে বহুবার মনোনয়ন পেলেও এ বিভাগে জয় পাননি বিয়ন্সে।
সেই রাতে বিয়ন্সে জেতেন তিনটি গ্র্যামি। এর মধ্যে ছিল অ্যালবাম অব দ্য ইয়ার, বেস্ট কান্ট্রি অ্যালবাম এবং মাইলি সাইরাসকে নিয়ে করা ‘আইআই মোস্ট ওয়ান্টেড’-এর জন্য বেস্ট কান্ট্রি ডুয়ো/গ্রুপ পারফরম্যান্স।
‘কাউবয় কার্টার’-এর জন্য বেস্ট কান্ট্রি অ্যালবাম জিতে বিয়ন্সে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ শিল্পী হিসেবে এই বিভাগে ইতিহাস গড়েন।

৩৫ গ্র্যামি, ৯৯ মনোনয়ন
পুরস্কারের হিসাবে বিয়ন্স এখন সংগীতের ইতিহাসে এক অনন্য নাম। বর্তমানে তাঁর গ্র্যামি পুরস্কারের সংখ্যা ৩৫। আর মোট মনোনয়ন ৯৯টি।
গ্র্যামির ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি পুরস্কার পাওয়া শিল্পী বিয়ন্সে নোলসই। একই সঙ্গে সবচেয়ে বেশি গ্র্যামি মনোনয়ন পাওয়ার রেকর্ডও তাঁর।

২০০০ সালে ডেস্টিনিজ চাইল্ডের সদস্য হিসেবে গ্র্যামির সঙ্গে তাঁর যাত্রা শুরু। তারপর দুই দশকের বেশি সময় ধরে একের পর এক বিভাগে পুরস্কার জিতেছেন তিনি।
২০২৩ সালে ‘রেনেসাঁ’র মাধ্যমে গ্র্যামির সবচেয়ে বেশি পুরস্কার জয়ের রেকর্ড নিজের করে নেন বিয়ন্সে। দুই বছর পর ‘কাউবয় কার্টার’ দিয়ে সেই রেকর্ড আরও শক্ত করেন।
২০২৫ সালের গ্র্যামির পর বিয়ন্সের সংগ্রহে ৩৫টি পুরস্কার ও ৯৯টি মনোনয়ন—সংখ্যা দুটি এখন গ্র্যামির ইতিহাসে সর্বোচ্চ।

বিয়ন্সে। রয়টার্স ফাইল ছবি

জে-জেডের সঙ্গে প্রেম, বিয়ে ও সংসার
বিয়ন্সের ব্যক্তিগত জীবনের সবচেয়ে আলোচিত অধ্যায় অবশ্য জে-জেড। দুজনের সম্পর্কের শুরু সংগীতের মাধ্যমে। ২০০২ সালে জে-জেডের সঙ্গে কাজ করার পর ধীরে ধীরে তাঁদের ঘনিষ্ঠতা বাড়ে।

২০০৩ সালে ‘ক্রেজি ইন লাভ’ প্রকাশের পর এই জুটি পপ সংস্কৃতির অন্যতম আলোচিত দম্পতিতে পরিণত হয়।
২০০৮ সালে বিয়ে করেন তাঁরা। তবে বিয়ন্সে ও জে-জেড সব সময়ই নিজেদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে খুব সতর্ক ছিলেন। বিয়ের খবরও দীর্ঘ সময় গোপন রেখেছিলেন তাঁরা।

তাঁদের তিন সন্তান—বড় মেয়ে ব্লু আইভি কার্টার, আর যমজ সন্তান রুমি ও স্যার কার্টার।
ব্লু আইভি এখন নিজেও বিনোদনজগতের পরিচিত মুখ। ছোট বয়সেই গ্র্যামি জয়ের ইতিহাসে জায়গা করে নিয়েছে সে।

বিয়ন্সের পরিবার এখন তাঁর শিল্পীজীবনেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। মঞ্চে সন্তানদের উপস্থিতি থেকে শুরু করে অ্যালবামের গল্প—মাতৃত্ব ও পারিবারিক অভিজ্ঞতা তাঁর কাজের নানা জায়গায় ফিরে এসেছে।

ঝড়ও এসেছে সংসারে
তবে বিয়ন্সে ও জে-জেডের সম্পর্ক সব সময় রূপকথার মতো ছিল না। ২০১৪ সালে একটি লিফটের ভিডিও ফাঁস হওয়ার পর তাঁদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। ভিডিওতে বিয়ন্সের বোন সোলাঞ্জকে জে-জেডের সঙ্গে উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে দেখা যায়।
এরপর ‘লেমনেড’ অ্যালবামে বিশ্বাসভঙ্গ ও সম্পর্কের সংকট নিয়ে বিয়ন্সের গান নতুন করে জল্পনা তৈরি করে।
পরে জে-জেড নিজের সংগীতেও ব্যক্তিগত ভুল এবং সম্পর্কের সংকটের কথা স্বীকার করেন।
শেষ পর্যন্ত বিয়ন্সে ও জে–জেড সম্পর্ক টিকিয়ে রাখেন।
এই দম্পতির গল্প তাই শুধু হলিউডের গ্ল্যামার নয়; ভুল, সংকট, ক্ষমা এবং নতুন করে সম্পর্ক গড়ে তোলার গল্পও।

শুধু শিল্পী নন, সফল ব্যবসায়ীও
বিয়ন্সের সাম্রাজ্য শুধু সংগীত বিক্রি কিংবা কনসার্টের ওপর দাঁড়িয়ে নেই। ফ্যাশন, ব্র্যান্ড, চলচ্চিত্র, ব্যবসা এবং বিভিন্ন বিনিয়োগ—সব মিলিয়ে তিনি গড়ে তুলেছেন বিশাল একটি বাণিজ্যিক সাম্রাজ্য।

ফোর্বসের সাম্প্রতিক হিসাব অনুযায়ী, বিয়ন্সের সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১০০ কোটি মার্কিন ডলার। অর্থাৎ তিনি এখন আনুষ্ঠানিকভাবে বিলিয়নিয়ারদের তালিকায়।
এই সম্পদের বড় অংশ এসেছে বিয়ন্সের দীর্ঘ সংগীত ক্যারিয়ার, অ্যালবাম, কনসার্ট সফর এবং ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড থেকে।

২০২৩ সালের রেনেসাঁ ট্যুর ছিল বিয়ন্সের ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় বাণিজ্যিক সাফল্য। আর ‘কাউবয় কার্টার’ যুগ তাঁকে সংগীতের পাশাপাশি ব্যবসায়িকভাবেও আরও শক্ত অবস্থানে নিয়ে গেছে।

ফোর্বসের হিসাবে, বিয়ন্স এখন প্রায় ১০০ কোটি ডলার সম্পদের মালিক। যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে ধনী স্বনির্মিত নারীদের তালিকাতেও তাঁর নাম রয়েছে।

কেন এখনো ‘কুইন বে’
বিয়ন্সেকে তাঁর ভক্তরা ডাকেন ‘কুইন বে’ নামে। এই নাম শুধু জনপ্রিয়তার কারণে নয়; তাঁর ক্যারিয়ারের ব্যাপ্তি ও প্রভাবের কারণেও। তিনি এমন একজন শিল্পী, যিনি মেয়েদের ব্যান্ড দিয়ে শুরু করে একক তারকা হয়েছেন। পপ, আরঅ্যান্ডবি, হিপহপ, ড্যান্স, হাউস থেকে কান্ট্রি—বিভিন্ন ধারার সংগীতে কাজ করেছেন।
বিয়ন্সে শুধু গান করেননি, প্রতিটি অ্যালবামকে আলাদা একটি শিল্পে পরিণত করেছেন।

বিলবোর্ড, ভোগ ও ভ্যারাইটি অবলম্বনে