দক্ষিণ কোরিয়ার জনপ্রিয় ব্যান্ড ব্ল্যাকপিংকের সদস্য জিসুকে ঘিরে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন তাঁর কথিত বড় ভাই—যিনি যৌন নিপীড়নের মামলায় পুলিশের নজরদারিতে আছেন বলে খবর ছড়িয়েছে। তবে শুরু থেকেই জিসু ও তাঁর সংস্থা এই অভিযোগের সঙ্গে নিজেদের কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করে আসছে
কয়েক দিন আগে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, সিউলে এক নারী স্ট্রিমারকে নিজের বাসায় ডেকে নিয়ে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে তিরিশোর্ধ্ব এক ব্যক্তিকে ১৫ এপ্রিল আটক করা হয়েছে। ওই ব্যক্তির পদবি ‘কিম’, যা জিসুর পারিবারিক নামের সঙ্গে মিলে যাওয়ায় দ্রুতই গুজব ছড়িয়ে পড়ে—তিনি নাকি জিসুর বড় ভাই। বিষয়টি সামনে আসতেই জিসুর সংস্থা ‘ব্লিসু’ দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানায় এবং স্পষ্টভাবে জানায়, এই ঘটনায় শিল্পী বা সংস্থার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।
সংস্থার আইনজীবী এক বিবৃতিতে বলেন, ‘বর্তমানে যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, সেটির সঙ্গে শিল্পী বা সংস্থার কোনো সম্পর্ক নেই। অনলাইনে যে তথ্য ছড়ানো হচ্ছে, তার বেশির ভাগই যাচাইবিহীন অনুমান কিংবা সরাসরি মিথ্যা।’ একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, জিসু দীর্ঘদিন ধরে তাঁর পরিবারের বাইরে আলাদা বসবাস করছেন।
খুব অল্প বয়সেই প্রশিক্ষণজীবন শুরু করেছিলেন জিসু। কঠোর নিয়মের মধ্য দিয়ে বেড়ে ওঠা এই শিল্পীর ব্যক্তিগত জীবন বরাবরই ছিল নিয়ন্ত্রিত ও আলাদা। আইনজীবীর ভাষ্য অনুযায়ী, পারিবারিক বিষয়ে তাঁর কোনো সংশ্লিষ্টতা বা জানাশোনা থাকার প্রশ্নই ওঠে না। সংস্থাটি আরও জানায়, অভিযুক্ত ব্যক্তির সঙ্গে ‘ব্লিসু’র কোনো আইনগত বা ব্যবসায়িক সম্পর্ক নেই।
অভিযোগের বিষয়টি আরও জটিল হয়েছে বিভিন্ন পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি ভুক্তভোগীকে চেনার কথা স্বীকার করলেও জোর প্রয়োগের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, ঘটনাটি ‘পারস্পরিক সম্মতিতে’ ঘটেছে। তবে ভুক্তভোগীর আইনজীবী এর সম্পূর্ণ বিপরীত বক্তব্য দিয়ে বলেছেন, তাঁকে জোরপূর্বক আটকে রেখে যৌন নিপীড়নের চেষ্টা করা হয়েছে।
এ ছাড়া অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতার অভিযোগও রয়েছে বলে জানা গেছে, যা পুরো ঘটনাকে আরও গুরুতর করে তুলেছে। যদিও সিউল সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট প্রসিকিউটরস অফিস প্রাথমিকভাবে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার আবেদন খারিজ করেছে—কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, অভিযোগের যথেষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করা যায়নি।
এই পরিস্থিতিতে ভুক্তভোগী নিজেও সামাজিক মাধ্যমে একটি বার্তা দিয়েছেন। তিনি পরোক্ষভাবে অনুরোধ করেছেন, জিসুকে যেন এই ঘটনার জন্য দোষারোপ না করা হয়। তাঁর ভাষায়, ‘যে ভুল করেছে, সে-ই দায়ী। তার পরিবারের দিকে আঙুল তোলা উচিত নয়।’
কে–পপ দুনিয়ায় জিসুর অবস্থান অত্যন্ত শক্তিশালী। তিনি শুধু ব্ল্যাকপিংকের সদস্যই নন, একক শিল্পী হিসেবেও কোরিয়ার সংগীত তালিকায় অন্যতম সফল নাম। তাঁর গান, অভিনয় ও ফ্যাশন উপস্থিতি তাঁকে বৈশ্বিক তারকায় পরিণত করেছে। ফলে তাঁর নাম জড়িয়ে পড়ায় স্বাভাবিকভাবেই ঘটনাটি আন্তর্জাতিক মনোযোগ পেয়েছে।
তবে এ ঘটনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক সামনে এসেছে—তারকাদের ব্যক্তিগত জীবনের সঙ্গে তাঁদের পরিবারের কর্মকাণ্ড কতটা যুক্ত করা উচিত? সামাজিক মাধ্যমে প্রায়ই দেখা যায়, কোনো তারকার আত্মীয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেই সেই তারকাকেও একই কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়। জিসুর ঘটনাটি সেই প্রবণতারই আরেকটি উদাহরণ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের পরিস্থিতিতে তথ্য যাচাই না করে মন্তব্য করা বা সিদ্ধান্তে পৌঁছে যাওয়া বিপজ্জনক। কারণ, এতে শুধু একজন শিল্পীর ভাবমূর্তিই ক্ষতিগ্রস্ত হয় না, বরং একটি চলমান আইনি প্রক্রিয়াও প্রভাবিত হতে পারে। একই সঙ্গে ভুক্তভোগীর ন্যায়বিচার পাওয়ার পথও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
এদিকে জিসুর সংস্থা যেভাবে দ্রুত ও স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছে, তা কে–পপ শিল্পে সংকট মোকাবিলার একটি উদাহরণ হিসেবেও দেখা হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন বিতর্কে অনেক সংস্থাকে দেরিতে প্রতিক্রিয়া জানাতে দেখা গেলেও এখানে তা হয়নি। বরং শুরুতেই সম্পর্কহীনতার বিষয়টি জোর দিয়ে তুলে ধরা হয়েছে।
ঘটনাটি এখনো তদন্তাধীন। পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এর চূড়ান্ত সত্য সামনে আসতে সময় লাগবে।
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস অবলম্বনে