৪২ বছর আগে আজকের দিনে, ১৯৮৪ সালের ১৯ মে, বব মার্লে অ্যান্ড দ্য ওয়েইলার্সের সংকলিত অ্যালবাম ‘লিজেন্ড’ যুক্তরাজ্যের অ্যালবাম চার্টের শীর্ষে ওঠে। এরপর টানা ১২ সপ্তাহ সেখানে অবস্থান করে অ্যালবামটি। তখন হয়তো কেউ ভাবেননি, মার্লের মৃত্যুর তিন বছর পর প্রকাশিত এই অ্যালবামই একদিন বিশ্বের সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া রেগে অ্যালবামে পরিণত হবে।
১৯৮১ সালে মারা যান বব মার্লে। তাঁর মৃত্যুর পর ‘আইসল্যান্ড রেকর্ডস’ সিদ্ধান্ত নেয়, মার্লের জনপ্রিয় গানগুলো নিয়ে একটি সংকলিত অ্যালবাম প্রকাশ করা হবে। তবে ‘লিজেন্ড’ শুধু জনপ্রিয় গানগুলোর সংকলন ছিল না; বাণিজ্যিক সাফল্যের পরিকল্পনা করেই এটি তৈরি করা হয়েছিল।
অ্যালবামটি তৈরির দায়িত্বে ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী ডেভ রবিনসন। পরে তিনি জানান, বাজার গবেষণা করেই গান বাছাই করা হয়েছিল। কোন গান সাধারণ শ্রোতা বেশি পছন্দ করবেন, বিশেষ করে শ্বেতাঙ্গ শ্রোতাদের কাছে কোন গান সহজে পৌঁছাবে—এসব হিসাব করেই ট্র্যাকলিস্ট তৈরি হয়। এমনকি প্রচারণায় ‘রেগে’ শব্দটিও খুব একটা ব্যবহার করা হয়নি। কারণ, নির্মাতাদের ধারণা ছিল, বব মার্লেকে তখনো অনেকেই ‘কঠিন রাজনৈতিক শিল্পী’ হিসেবে দেখতেন।
তাই ‘লিজেন্ড’-এ জায়গা পায় তুলনামূলক সহজে গ্রহণযোগ্য গানগুলো—‘ওয়ান লাভ’, ‘থ্রি লিটল বার্ডস’, ‘ইজ দিস লাভ’, ‘নো ওম্যান, নো ক্রাই’ কিংবা ‘জ্যামিং’।
সমালোচকদের কেউ কেউ বলেন, এতে মার্লের রাজনৈতিক ও বিপ্লবী দিক কিছুটা আড়ালে পড়ে গেছে। তাঁর উপনিবেশবাদবিরোধী, কৃষ্ণাঙ্গ অধিকার কিংবা সামাজিক প্রতিরোধের বার্তার চেয়ে শান্তি, প্রেম আর আশাবাদের ইমেজই বেশি সামনে এসেছে।
তবে বাণিজ্যিকভাবে এই কৌশল অবিশ্বাস্য সফল হয়। ‘লিজেন্ড’ এখন পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে আনুমানিক ৪ কোটি ৩০ লাখ কপির বেশি বিক্রি হয়েছে। শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই বিক্রি হয় ১ কোটি ৮০ লাখের বেশি। ২০২০ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত এটি টানা ষষ্ঠ বছরের মতো যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া রেগে অ্যালবাম ছিল। বিলবোর্ড ২০০ চার্টেও ৯০০ সপ্তাহের বেশি সময় ধরে আছে অ্যালবামটি।
শুধু পুরোনো জনপ্রিয়তাই নয়, নতুন প্রজন্মের কাছেও ‘লিজেন্ড’ বারবার ফিরে এসেছে। ২০২৪ সালের ‘বব মার্লে: ওয়ান লাভ’ সিনেমাতেও অ্যালবামটির একাধিক গান ব্যবহার করা হয়। ফলে আবারও আলোচনায় আসে এটি।
‘লিজেন্ড’ নিয়ে কিছু বিতর্ক আজও আছে। কেউ কেউ মনে করেন, এই অ্যালবাম রেগে সংগীতকে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে দিয়েছে। আবার কেউ বলেন, এটি রেগের রাজনৈতিক গভীরতাকে ‘নিরাপদ’ ও ‘বাণিজ্যিক’ রূপে বদলে দিয়েছে। তবে বিতর্ক যা–ই থাক, চার দশকের বেশি সময় পরও ‘লিজেন্ড’ শুধু একটি অ্যালবাম নয়; এটি বব মার্লের বিশ্বব্যাপী পরিচয়ের সবচেয়ে বড় প্রতীকের একটি হয়ে আছে।
ফোর্বস