অনুপম রায়
অনুপম রায়

বাংলাদেশের যেসব সিরিজের প্রেমে পড়েছেন অনুপম

ঘর থেকে বের হতে হতে হোয়াটসঅ্যাপে কল ধরলেন অনুপম রায়। ফোন ধরেই বললেন, ‘জানি, কী কারণে ফোন করেছো, বের হচ্ছিলাম, তাহলে তোমার সঙ্গে কথা শেষ করেই বের হচ্ছি।’ আজ ২৯ মার্চ পশ্চিমবঙ্গের এই সংগীতশিল্পীর ৪৪তম জন্মদিন। শৈশব–কৈশোরের জন্মদিনের স্মৃতির সঙ্গে সাম্প্রতিক ব্যস্ততা নিয়ে তাঁর সঙ্গে আড্ডা দিয়েছেন নাজমুল হক

প্রশ্ন

এবারের জন্মদিনে দিনটা কীভাবে কাটছে?

অনুপম রায়: মাঝরাত থেকেই ফোনে বার্তা পাচ্ছি, বন্ধু, ভক্ত আত্মীয়রা ফোন করছেন, শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন। সকাল থেকেই বাসায় একটু উৎসব উৎসব মনে হচ্ছে। যদিও আগামীকাল আমার একটা শুট আছে, তাই আজ এর প্রস্তুতি আছে। একটু পরই একটা মিটিং আছে। এই ফোনকল রেখেই বেরিয়ে পড়ব। গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছি। এ অপেক্ষায় বাংলাদেশ থেকেও ফোন পেলাম, সকালটা ভালোই শুরু হলো দেখছি।

প্রশ্ন

শৈশবের জন্মদিনের স্মৃতি মনে পড়ে?

অনুপম রায়: আমি না বাড়িভর্তি মানুষ পছন্দ করি। সপ্তাহ আগে থেকে অপেক্ষা শুরু হতো আমার। আর জন্মদিনের দিন বিকেল থেকেই তৈরি হয়ে যেতাম, অপেক্ষা থাকতাম—বন্ধুরা, আত্মীয়রা কখন আসবে। সবাই মিলে কখন খাওয়াদাওয়া করব। কিন্তু সবাই না আসতে আসতে রাত হয়ে যেত (হাসি)। নতুন জামা পেতাম। এখন না নতুন জামাতে এ ঘ্রাণ পাই না। মা পায়েসসহ আরও কত কিছু রান্না করতেন। হইহুল্লোড়ে দিনটা পার করতাম। বয়সের সঙ্গে এসব কেমন করে হারিয়ে ফেললাম।

অনুপম রায়
প্রশ্ন

শুনেছি আপনি এখনো প্রতিদিন নিয়ম করে অনুশীলন করেন?

অনুপম রায়: বাসায় যখন থাকি অনুশীলন করা হয়। অনুশীলন দিয়েই দিন শুরু হয়। এর সঙ্গে গানের কম্পোজিশনের কিছু কাজ করা হয়। প্রচুর গান শুনি, বই পড়া হয়, সিনেমা-সিরিজ দেখি। বাসায় থাকলে না সময়টা ভালোই কাটে, নিজেকে সময় দেওয়া যায়।

প্রশ্ন

সবশেষ পড়া বই আর কোন সিনেমা দেখেছেন?

অনুপম রায়: এই তো সেদিন লালন ফকিরকে নিয়ে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের উপন্যাস ‘মনের মানুষ’ পড়লাম। যদিও এটা লালনের জীবনী না। একটা কাল্পনিক উপন্যাস। অনেক ভালো লেগেছে। আর সিনেমা সবশেষ দেখেছি ঋতুপর্ণ ঘোষের কালজয়ী সিনেমা ‘বাড়িওয়ালি’। এটা অনেকবার দেখেছি। আমি না পুরোনো সিনেমাগুলো বারবার দেখি, কৈশোরে হয়তো একরকম লেগেছে, এখন অন্য রকম। প্রতিটা কাজই বিভিন্ন বয়সে ভিন্ন ভিন্ন লাগে।

অনুপম রায়
প্রশ্ন

বাংলাদেশের কোনো সিনেমা-সিরিজ দেখা হয়?

অনুপম রায় : হ্যাঁ, প্রচুর। ওটিটিতে সিরিজগুলো দেখি, ভালো লাগে। ‘মহানগর’, ‘তাকদির’, ‘কাইজার’ অনেক ভালো লেগেছে। আরও কিছু দেখেছি, এ মুহূর্তে নাম মনে পড়ছে না। মোশাররফ করিম, চঞ্চল চৌধুরীর অভিনয় ভালো লাগে, বাকিরাও অনেক ভালো করছেন। জয়া আহসান তো দুই বাংলায় ভীষণ জনপ্রিয়। আগে বাংলাদেশের সিনেমা অনেক দেখা হতো, তেমন দেখা হয় না ইদানীং। সবশেষ মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ‘টেলিভিশন’ দেখেছিলাম।

প্রশ্ন

ঢাকায় সামনে কবে আসছেন?

অনুপম রায় : অনেক দিন হয়ে যাচ্ছে আসি না, এ এপ্রিলে দুই বছর হবে। ঢাকা ও চট্টগ্রাম অনেক মিস করি। এই দুই শহরে অনেকবার এসেছি। ঢাকার বনানী, উত্তরা মিস করি, পুরান ঢাকার খাবার মিস করি। যদিও পুরান ঢাকায় একা যেতে পারি না, পথঘাট চিনি না, কেউ সঙ্গে নিয়ে যেতে হয়। সামনে কয়েকটি অনুষ্ঠানের ব্যাপারে কথা হচ্ছে। আর আমি মনে মনে লিস্ট করছি, এপারে এসে কী কী খাবো (হাসি)।