দীর্ঘদিন ধরে সংগীতের পাশাপাশি টেলিভিশন ও অনলাইনের বিজ্ঞাপনচিত্র, ওয়েব সিরিজ ও সিনেমার বিভিন্ন অডিও-ভিজ্যুয়াল প্রকল্পে কাজ করছেন ব্যান্ড ‘মেঘদল’ ব্যান্ডের গিটারিস্ট ও শব্দপ্রকৌশলী রাশিদ শরীফ শোয়েব। বিভিন্ন কাজে স্বীকৃতি পেলেও পারিশ্রমিক আদায়ে বছরের পর বছর সমস্যায় পড়তে হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন এই সংগীতশিল্পী। তাঁর দাবি, বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে তাঁর কাজের পারিশ্রমিক হিসেবে ৫০ লাখ টাকার কম পাওনা নেই। অথচ বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শোয়েবকে চিকিৎসার খরচ চালাতে মায়ের জমানো টাকা ও সঞ্চয়পত্র ভাঙতে হচ্ছে।
বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্রে দক্ষতার পাশাপাশি চলচ্চিত্রের সংগীতেও কাজ করেছেন রাশিদ শরীফ শোয়েব। ‘হাওয়া’, ‘স্বপ্নজাল’ ও ‘রইদ’-এর মতো আলোচিত সিনেমায় সংগীত করেছেন তিনি। তাঁর কণ্ঠেও প্রকাশ পেয়েছে একাধিক গান। দীর্ঘ সময় ধরে বিজ্ঞাপনচিত্রসহ বিভিন্ন অডিও-ভিজ্যুয়াল প্রকল্পে কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর।
শোয়েব জানান, বর্তমানে ডেঙ্গু, উচ্চমাত্রার ডায়াবেটিসসহ নানা শারীরিক জটিলতায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। গতকাল মঙ্গলবার নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘আজ সাত দিন ধরে আমি হাসপাতালে ভর্তি। ২০২৪ সালের পর আবারও। ডেঙ্গু, হাই ডায়াবেটিক, ইত্যাদি ইত্যাদি। অবস্থা ভয়ানক। জানি না কবে বাসায় যেতে পারব। দোয়া রাখবেন।’
এরপরই নিজের পেশাজীবনের অভিজ্ঞতা ও পাওনা পারিশ্রমিকের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন শোয়েব। তিনি জানান, ২০১১ সাল থেকে নিকেতনে সংগীতশিল্পী ও শব্দপ্রকৌশলী হিসেবে কাজ শুরু করেন তিনি। ছোট একটি স্টুডিওতে কাজ করার সময় আন্তরিকতা ও নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করার কারণে ধীরে ধীরে কাজের পরিমাণ বাড়তে থাকে।
টেলিভিশন বিজ্ঞাপনচিত্র, অনলাইন বিজ্ঞাপনচিত্র, ওয়েব সিরিজ এমনকি সিনেমার কাজও তাঁর ঝুলিতে জমা হতে থাকে। তবে কাজের পারিশ্রমিক আদায়ের ক্ষেত্রে তিনি ততটা তৎপর ছিলেন না বলে জানান শোয়েব। পরিচালকদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এবং কাজের প্রতি ভালোবাসার কারণে বছরের পর বছর অনাদায়ি পারিশ্রমিকের হিসাব জমতে থাকে। তাঁর দাবি, ২০১২ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন কাজের পারিশ্রমিক হিসাব করলে তাঁর পাওনা ৫০ লাখ টাকার কম হবে না।
নিজের ফেসবুক পোস্টে শোয়েব লিখেছেন, ‘আমি কাজের আনন্দে কাজ করে যাই আর আমার পরিচালক বন্ধুদের সঙ্গে আনপেইড অ্যামাউন্টের পাহাড় জমতে থাকে। সেখানে জমতে থাকে টিভিসি, ওভিসি, ওয়েব সিরিজ, এমনকি সিনেমাও। টাকার অঙ্কে সংখ্যাটা ৫০ লাখের কম হবে না কোনোভাবেই।’
বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে অতীতের এই পাওনা অর্থের বিষয়টি মিলিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন শোয়েব। তিনি জানান, সম্প্রতি নিজের স্টুডিও আধুনিকায়নের খরচ এবং এখন চিকিৎসার ব্যয়—দুটিই মায়ের সঞ্চয় ভেঙে চালাতে হচ্ছে। তাঁর মতে, ‘আমার স্টুডিও আপগ্রেড এবং এখন আমার চিকিৎসা ব্যয়ের খরচ চালাতে হচ্ছে আমার মায়ের জমানো টাকা দিয়ে, সঞ্চয়পত্র ভেঙে।’
দীর্ঘদিনের অনাদায়ি পারিশ্রমিক পরিশোধের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের এক মাসের সময়ও দিয়েছেন এই শিল্পী। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ না করে তিনি তাদের পুরোনো হিসাবের নথি বের করে হালনাগাদ করার আহ্বান জানিয়েছেন। অক্টোবরের শুরুতে তাঁর স্টুডিওতে গিয়ে চা খেয়ে পাওনা টাকা সম্মানের সঙ্গে পরিশোধ করে যাওয়ার অনুরোধ করেছেন তিনি।
পোস্টের শেষে শোয়েব লিখেছেন, তাঁর এই বক্তব্যের পরও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের টনক না নড়লে তাঁদের বিরুদ্ধে আরও কঠোরভাবে কথা বলবেন। তবে কার কাছে কত টাকা পাওনা এবং কোন কোন কাজের বিপরীতে এই অর্থ বকেয়া রয়েছে, পোস্টে নির্দিষ্ট করে কারও নাম বা আলাদা হিসাব উল্লেখ করেননি তিনি।