খোঁপায় নিজেরই গাঁথা ফুলের মালা। কপালে লাল টিপ। মুখে হাসি। ঠিক বেলা ৩টা ৪৯ মিনিটে প্রথম আলো কার্যালয়ের ১৩ তলায় প্রবেশ করলেন ফাতেমা তুজ জোহরা। মিউজিক@ডেস্ক-এর অতিথি হয়ে প্রথম আলো কর্মীদের গান শোনাতে এসেছিলেন এই বিশিষ্ট নজরুলসংগীতশিল্পী।
আনুষ্ঠানিকভাবে ফাতেমা তুজ জোহরাকে শ্রোতাদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন প্রথম আলোর হেড অব কালচারাল প্রোগ্রাম কবির বকুল। করতালি দিয়ে তাঁকে বরণ করে নেন প্রথম আলোর কর্মীরা।
‘শুরু থেকেই প্রথম আলো আমার প্রিয়। আমাদের সম্পর্কটা এমন যে এখানে আসার আগে মনে হচ্ছিল, বাসায় যে পোশাক পরে আছি, সেভাবেই যাই। বদলানোর কী দরকার?’ হাসিমুখে কথাগুলো বলে ফাতেমা তুজ জোহরা কণ্ঠে তুলে নেন গান। রবীন্দ্রসংগীত ‘আছে দুঃখ, আছে মৃত্যু’ দিয়ে শুরু করেন তাঁর পরিবেশনা। পরেও আরেকটি রবীন্দ্রসংগীত ‘এ মণিহার আমায় নাহি সাজে...’।
এবার গলায় তুলে নিলেন বিখ্যাত নজরুলগীতি ‘মম মায়াময় স্বপনে কার বাঁশি বাজে গোপনে’। গানটির সঙ্গে বিশেষভাবে আলাদা করে নজর কাড়ে বাঁশির সুর। তালিকায় চতুর্থ গান ছিল ‘কোথায় তুই খুঁজিস ভগবান’। গানটি গাওয়ার আগে এই গায়িকা বলেন, ‘নিজের দিকে তাকাও, নিজেকে দেখো। তোমার মাঝেই সবকিছুর বাস। এটাই এ গানের মূল বক্তব্য।’
দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের ‘আজি তোমার কাছে ভাসিয়া যায়’ দিয়ে শ্রোতাদের মন বেদনাবিধুর করে তোলেন শিল্পী। পরে ফিরে যান নজরুলসংগীতে; একে একে শোনান ‘তেপান্তরের মাঠে বধূ হে... একা বসে থাকি’, ‘নাচের নেশার ঘোর লেগেছে’, ‘এসো প্রিয়’, ‘মন রাঙায়ে ধীরে ধীরে ঘুম ভাঙায়ে’। ‘তেপান্তরের মাঠে’র সুরেই অসমের একটা লোকগীতিও গেয়ে শোনান তিনি। সবশেষে কণ্ঠে তুলে নেন গীতিকার ও সুরকার হাবিবুর রহমানের ‘তুমি বেশ বদলে গেছ, পুরোনো সৈকতে আর পানসি ভিড়াও না’। গানটির সঙ্গে ঠোঁট মেলান প্রথম আলোর কর্মীরা। সব মিলিয়ে এ আয়োজনে ১২টি গান শোনান ফাতেমা তুজ জোহরা।
শেষে আয়োজনটি নিয়ে ফাতেমা তুজ জোহরা বলেন, ‘আপনাদের সামনে গান করতে পেরে বেশ ভালো লাগল। সাধারণত আয়োজনগুলো যেমন হয়, তার থেকে এটি একেবারেই অন্য রকম। আমার মনে হচ্ছিল, ঘরে বসেই গান গাইছি। কারও কিছু মাইন্ড করার নাই। কারও কিছু রিয়্যাক্ট করার নাই। সবাই মন দিয়ে শুনছে। আমি কোনো প্রত্যাশাই করি নাই, একটি পত্রিকা অফিসে এমন শ্রোতা পাব। আমার সেই ধারণা ভাঙল। আমার কাছে মুহূর্তটা স্মরণীয় হয়ে থাকবে।’
পুরো আয়োজনে ফাতেমা তুজ জোহরার গানের সঙ্গে সঙ্গত করেন পল্লব সান্যাল (তবলা), তানভীর সজীব (কি-বোর্ড), মামুনুর রশীদ (বাঁশি)। কাজের ফাঁকে কর্মীদের বিনোদনের জন্য প্রথম আলোর নিয়মিত আয়োজন মিউজিক@ডেস্ক। এবার ছিল ১৫তম আয়োজন।