পশ্চিমবঙ্গের অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তী বাংলাদেশেও জনপ্রিয়। ২০২৪ সালে শাকিব খানের বিপরীতে রায়হান রাফীর ‘তুফান’ সিনেমার পর তাঁর জনপ্রিয়তা আরও বেড়েছে। সিনেমাটির ‘দুষ্টু কোকিল’ ও ‘লাগে উরা ধুরা’ ব্যাপকভাবে চর্চিত হয়। তবে সিনেমা নয়, ব্যক্তিজীবন নিয়ে আলোচনায় অভিনেত্রী। পশ্চিমবঙ্গের গণমাধ্যম আনন্দবাজার ও সংবাদ প্রতিদিন জানিয়েছে, চলতি বছরই বিয়ে করতে চলেছেন মিমি।
আগামী ডিসেম্বরেই বিয়ে করবেন মিমি। বিয়ের আসর বসতে পারে পাহাড়ের শহর কালিম্পঙে। ঘনিষ্ঠ মহলে ইতিমধ্যেই নিমন্ত্রণের তোড়জোড় শুরু হয়ে গেছে বলেও খবর। যদিও মিমির পক্ষ থেকে এখনো এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি।
তবে গুঞ্জনের কেন্দ্রে শুধু বিয়ের দিনক্ষণ নয়, পাত্রও। টালিপাড়ার সঙ্গে তাঁর কোনো যোগ নেই বলেই খবর। শোনা যাচ্ছে, নায়িকার হবু স্বামী পেশায় ভারতীয় নৌবাহিনীর সদস্য, নাম সিদ্ধার্থ। যদিও এখন পর্যন্ত বিয়ে নিয়ে পাত্র–পাত্রী উভয়ের মুখেই কুলুপ, তবে খবর পূজার আবহেই পরস্পরের মন বিনিময় হয়েছে! ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাতে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন গণমাধ্যম জানিয়েছে, বিয়ের শপিং থেকে নিমন্ত্রণপত্র বিলি পর্বও নাকি চলছে জোরকদমে। কারণ, হাতে আর মাত্র সাড়ে তিন মাস।
মিমির প্রেমজীবন নিয়ে অবশ্য এর আগে কম আলোচনা হয়নি। সম্পর্ক নিয়ে বিভিন্ন সময় নানা গুঞ্জন শোনা গেলেও মিমি নিজে সেগুলোকে কখনো বিশেষ গুরুত্ব দেননি। কয়েক বছর আগে বিয়ে নিয়ে প্রশ্নের উত্তরে মিমি জানিয়েছিলেন, বিয়ে করতে হলে আগে তো পাত্র খুঁজতে হবে, তার জন্য দেখাসাক্ষাৎও করতে হবে—সেটুকু করার সময়ও নাকি তাঁর নেই। সেই ‘ব্যস্ত’ মিমির জীবনেই তবে এবার চুপিসারে এসেছেন কেউ!
বিয়ের আগে নাকি নভেম্বরেই হবে আংটিবদল। আপাতত নায়িকা মুখে এঁটেছেন কুলুপ। সবটাই ক্রমে প্রকাশ্য। চলচ্চিত্রে অভিনয় শুরুর আগে মিমি মডেল হিসেবেই শোবিজের জগতে পা রাখেন। ২০১০ ‘গানের ওপারে’ ধারাবাহিকে ‘পুপে’ চরিত্রটি করার পর মিমি রাতারাতি ঢুকে পড়েন বাঙালির ড্রেসিংরুমে। পরে ২০১২ ‘বাপি বাড়ি যা’ ছবির মাধ্যমে রুপালি পর্দায় আত্মপ্রকাশ করেন। এরপর ‘বোঝে না সে বোঝে না’। নায়িকার যে ‘টিপিক্যাল’ চরিত্র বাণিজ্যিক ছবিতে দর্শক দেখতে অভ্যস্ত, তার থেকে কিছুটা আলাদা ছিল এই দুটি চরিত্র।
অভিনেত্রী হিসেবে এমন সাফল্যের মধ্যেই ২০১৯ সালে পা রাখেন রাজনীতির আঙিনাতেও। সেবার লোকসভা নির্বাচনে যাদবপুর কেন্দ্র থেকে জিতে সংসদ সদস্য হন। এই মুহূর্তে তিনি ব্যস্ত নিজের ছবির কাজে। পূজায় মুক্তি পাবে সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের ‘এম্পেরর ভার্সেস শরৎচন্দ্র’। আরও একটি নতুন ছবির শুটিংও শুরু করবেন।