সত্যজিৎ রায়। ফেসবুক থেকে
সত্যজিৎ রায়। ফেসবুক থেকে

১০ ছবিতে জানা–অজানা সত্যজিৎ

আজ ২ মে, নির্মাতা সত্যজিৎ রায়ের জন্মদিন। কপিরাইটার, লেখক, নির্মাতা থেকে শিল্পী—নানা পরিচয়েই চেনানো যায় তাঁকে। দীর্ঘ জীবনে করেছেন নানা বৈচিত্র্যময় কাজ। আনন্দবাজার পত্রিকা, সংবাদ প্রতিদিন অবলম্বনে ছবিতে ছবিতে জেনে নেওয়া যাক সত্যজিৎ সম্পর্কে কিছু জানা–অজানা তথ্য—

গড়পার রোডের সেই বিখ্যাত বাড়িতেই তাঁর জন্ম, ১৯২১ সালের ২ মে। মায়ের আদরের নাম ‘মানিক’ পছন্দ হয়নি বাবার। পরিবর্তন করে নতুন নামকরণ হয় ‘সত্যজিৎ’। তিনি যখন মাত্র আড়াই বছরের, থেমে গেল বাবা সুকুমার রায়ের কলম। বাবা হিসেবে নয়, ‘সুকুমার রায়’কে তিনিও পেয়েছিলেন সাদা পৃষ্ঠায় কালো অক্ষরে, তাঁর কাজের মধ্য দিয়েই। তাঁর শৈশব আবর্তিত হয়েছিল মা সুপ্রভা রায়কে ঘিরে। ফেসবুক থেকে
স্কুলে প্রথম পা রেখেছিলেন ৯ বছর বয়সে। বালিগঞ্জ গভর্নমেন্ট হাইস্কুল-প্রেসিডেন্সি কলেজের চৌকাঠ পার হওয়ার পর মায়ের ইচ্ছায় শান্তিনিকেতন। কিন্তু কলকাতার জীবন ছেড়ে বোলপুরে যাওয়ার ইচ্ছা ছিল না সত্যজিতের। তবু শান্তিনিকেতনের দিনগুলোই তাঁর অন্তর্চক্ষুতে দৃষ্টিদান করেছিল। পরে নিজেই বলেছিলেন সত্যজিৎ। আইএমডিবি
ছবি আঁকতে বরাবরই ভালো পারতেন। স্কুলের আঁকার শিক্ষকের এই প্রিয়পাত্র সেভাবে প্রথাগত আঁকা শেখেননি। কিন্তু শান্তিনিকেতনে বিনোদবিহারী মুখোপাধ্যায়ের হাতেই শিল্পীজীবনের শুরু হয় তাঁর। ‘দ্য ইনার আই’ ছিল গুরুর প্রতি শিষ্যের কৃতজ্ঞতার স্মারক। ফেসবুক থেকে
১৯৪৩ সালে প্রথম চাকরি, ব্রিটিশ বিজ্ঞাপনী সংস্থায়। ভিজ্যুয়ালাইজার হিসেবে বেতন ছিল ৮০ টাকা। সৃষ্টিশীলতা আর উপার্জনের মধ্যে ভারসাম্য রাখতে চাকরি করেছিলেন বেশ কয়েক বছর। তাঁর জীবনে নতুন দরজা খুলে দিয়েছিল সিগনেট প্রেসের চাকরি। সেখানে কাজ ছিল বাংলা বইয়ের প্রচ্ছদ আঁকার। ফেসবুক থেকে
সত্যজিতের হাতেই রূপ পায় জীবনানন্দ দাশের ‘বনলতা সেন’ ও ‘রূপসী বাংলা’র চিত্রণ। এঁকেছিলেন জিম করবেটের ‘ম্যান ইটার্স অব কুমায়ুন’ এবং জওহরলাল নেহরুর ‘ডিসকভারি অব ইন্ডিয়া’র বাংলা সংস্করণের প্রচ্ছদও। আর এঁকেছিলেন ‘চাঁদের পাহাড়’ ও ‘আম–আঁটির ভেঁপু’ বইয়ের প্রচ্ছদ। ‘আম–আঁটির ভেঁপু’ ছিল কিশোর সংস্করণ। সত্যজিৎ স্কেচ করতে করতে ভাবলেন, তিনি মূল উপন্যাসটি পড়বেন। সে ভাবনা থেকেই জন্ম নিয়েছিল ভারতীয় চলচ্চিত্রের নতুন যুগ। সত্যজিৎ পড়লেন এবং ঠিক করলেন, বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা মূল উপন্যাস নিয়ে ছবি বানাবেন
চিত্রনাট্য লিখলেন। পাওয়া গেল কুশীলবদের। ছবির শুটিং কিছুটা হয়। আবার বন্ধ হয়ে পড়ে থাকে। নিজের সঞ্চিত অর্থ, স্ত্রী বিজয়ার অলংকার, সব বিপন্ন। তাতেও সমাধান হয় না অর্থসংকটের। শেষে পাশে দাঁড়ালেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বিধান চন্দ্র রায়। ১৯৫৫ সালে মুক্তি পেল ‘পথের পাঁচালী’। আইএমডিবি
এর আগে জঁ রেনোয়ার সহকারী হিসেবে কাজ করার সময় তাঁকে নিজের পরিকল্পনা জানিয়েছিলেন সত্যজিৎ। রেনায়োর উৎসাহের পাশাপাশি নির্মাণে সত্যজিতের অনুঘটক ছিল ১৯৪৮ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘বাইসিকল থিফ’। ‘পথের পাঁচালী’র পরে ‘অপরাজিত’, ‘পরশ পাথর’, ‘জলসাঘর’, ‘অপুর সংসার’, ‘দেবী’, ‘তিন কন্যা’—একের পর এক অলংকারে ভারতীয় চলচ্চিত্রকে সাজিয়ে তোলেন সত্যজিৎ। আইএমডিবি
১৯৬১ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শতবর্ষ উপলক্ষে পরিচালনা করেছিলেন ‘তিন কন্যা’। সে বছরই মুক্তি পেয়েছিল তাঁর তথ্যচিত্র ‘রবীন্দ্রনাথ’। তাঁর একাকী শৈশব যেন মিলেমিশে গিয়েছিল জীবনস্মৃতির সেই শিশুর সঙ্গেও। ছয়ের দশকে আরও একটি উল্লেখযোগ্য দিক ছিল সত্যজিতের জীবনে। কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের কথায় তিনি এবার হাল ধরলেন ‘সন্দেশ’-এর। যে পত্রিকা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল সুকুমার রায়ের মৃত্যুর কয়েক বছর পরেই। আবার নতুন করে তা প্রকাশিত হতে শুরু করল। শুরু হয় লেখালেখিও। আইএমডিবি
লেখালেখি শুরু হওয়ার পরে সত্যজিতের ক্যামেরা আর কলম মিশে যেতে থাকে। ‘গুপী গাইন বাঘা বাইন’-এর শুটিংয়ে রাজস্থান গিয়ে জন্ম নেয় ‘সোনার কেল্লা’র প্লট। রবীন্দ্রনাথ-তারাশঙ্কর-বিভূতিভূষণের পাশাপাশি তাঁর ছবির উপজীব্য হয়েছে পরশুরাম, প্রেমেন্দ্র মিত্রর কাহিনি। সেলুলয়েডবন্দী হয়েছে সমকালীন সাহিত্যের সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের কলম। ছবির পাশাপাশি সমৃদ্ধ তাঁর তথ্যচিত্রের সম্ভার। আইএমডিবি
১৯৯২ সালের ২৩ এপ্রিল মারা যান সত্যজিৎ রায়। তবে মৃত্যুর আগে হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে গ্রহণ করেন সম্মানসূচক অস্কার পুরস্কার। আইএমডিবি