স্বস্তিকা মুখার্জি। অভিনেত্রীর ফেসবুক থেকে
স্বস্তিকা মুখার্জি। অভিনেত্রীর ফেসবুক থেকে

স্বস্তিকা এবার ‘ছেলেধরা’, আসছেন নতুন চমক নিয়ে

ভারত-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত হতে যাচ্ছে বাংলা ভাষার থ্রিলার চলচ্চিত্র ‘ছেলেধরা’। ছবির প্রধান চরিত্রে অভিনয় করছেন পশ্চিমবঙ্গের অভিনেত্রী স্বস্তিকা মুখার্জি। আগামী ১ মার্চ থেকে অরুণাচল প্রদেশের ইটানগর ও জিরো ভ্যালিতে শুরু হবে এর শুটিং।

ছবিটি লিখেছেন ও পরিচালনা করছেন শিলাদিত্য মৌলিক। তাঁর আগের কাজের মধ্যে রয়েছে ‘সোয়েটার’ ও ‘সূর্য’—যেখানে মানব সম্পর্কের সূক্ষ্ম আবেগ এবং বাস্তবতার মিশেল ছিল স্পষ্ট। ‘ছেলেধরা’তেও সেই আবেগঘন মানবিক বয়ান থাকছে, তবে এবার তার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে থ্রিলার ও ডার্ক হিউমারের ছোঁয়া।

এক মায়ের গল্প
ছবির কেন্দ্রীয় চরিত্র বৃষ্টি—একজন বিবাহবিচ্ছেদ হওয়া নারী। সমাজের চোখে তিনি ‘সমস্যাগ্রস্ত’, ‘ভুল বোঝা’ মানুষ। এক আবেগপ্রবণ মুহূর্তে মেয়ের জন্মদিন উদ্‌যাপনের জন্য তিনি নিজেই মেয়েকে ‘চুরি’ করেন। কিন্তু ঘটনাচক্রে মেয়েটি সত্যিই অপহৃত হয়ে যায়।

এরপর এক অপ্রত্যাশিত আবিষ্কার বৃষ্টির জীবনকে ঠেলে দেয় ভয়ংকর অনিশ্চয়তার দিকে। শুরু হয় এক দুঃসাহসিক যাত্রা, যা তাকে নিজের মুখোমুখি দাঁড় করায়।
পরিচালক শিলাদিত্য মৌলিক বলেন, ‘এটি ভেঙে পড়া মা–বাবার গল্প, যারা নিজেদের ভেতরে লুকিয়ে থাকা সাহস আর নিঃস্বার্থ ভালোবাসা নতুন করে আবিষ্কার করে। ছবিটি দেখতে রোড-জার্নির মতো এগোবে, নানা অপ্রত্যাশিত মোড় নিয়ে। কিন্তু অন্তরে এটি পুনরুদ্ধার আর দ্বিতীয় সুযোগের গল্প।’ তিনি আরও জানান, ছবিটি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের কথা মাথায় রেখেই নির্মাণ করা হচ্ছে।

স্বস্তিকা মুখার্জি। অভিনেত্রীর ফেসবুক থেকে

‘সহজে ভালো লাগার মতো নারী নন বৃষ্টি’
স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায় চরিত্রটি নিয়ে বলেন, ‘বৃষ্টি এমন নারী নন, যাঁকে সহজে ভালো লাগে। তিনি আবেগপ্রবণ, আহত এবং গভীরভাবে অসম্পূর্ণ। কিন্তু মেয়ের প্রতি তাঁর ভালোবাসা প্রবল ও স্বতঃস্ফূর্ত। এই যাত্রা তাঁকে নিজের মুখোমুখি দাঁড় করায়। মূলত এটি মাতৃত্ব, ক্ষমা আর দুর্বল মুহূর্তে শক্তি খুঁজে পাওয়ার গল্প।’

স্বস্তিকার অভিনয়জীবন বৈচিত্র্যে ভরা। তিনি কাজ করেছেন দিবাকর ব্যানার্জির ‘ডিটেকটিভ ব্যোমকেশ বক্সী!’-তে, বুদ্ধদেব দাশগুপ্তের আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত ‘জানালা’য়, ওয়েব সিরিজ ‘পাতাল লোক’-এ, নেটফ্লিক্সের ‘কালা’য়। সম্প্রতি জি৫-এর ‘কালী পটকা’য় তাঁকে গ্যাংস্টার চরিত্রেও দেখা গেছে।

স্বস্তিকা মুখার্জি। অভিনেত্রীর ফেসবুক থেকে

আন্তর্জাতিক ছোঁয়া
‘ছেলেধরা’ একটি ভারত-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ প্রযোজনা। ছবিটি প্রযোজনা করছে ভারতের হ্যান্ডিম্যান ও সিতা২২ ফিল্মস। হ্যান্ডিম্যানের প্রতীক মজুমদার বলেন, ‘চিত্রনাট্যে আবেগের গভীরতা ও বাণিজ্যিক গতি—দুটোই আছে। স্বস্তিকা শুরুতেই যুক্ত হওয়ায় আমরা বুঝেছিলাম, এটি বিশেষ কিছু হতে যাচ্ছে।’
সিতা২২ ফিল্মস প্রতিষ্ঠা করেছেন অনিন্দিতা (অ্যান) মুখোপাধ্যায়, যিনি চার দশক আন্তর্জাতিক করপোরেট দুনিয়ায় কাজ করেছেন। তাঁর ভাষায়, ‘নারী ও শিশুর আবেগকে কেন্দ্র করে যে গল্প সমাজের অদৃশ্য কণ্ঠগুলোকে সামনে আনে—আমি সেই ধরনের গল্পই নির্মাণ করতে চাই।’

জিরো ভ্যালির প্রাকৃতিক আবহ
ছবির চিত্রগ্রাহক ইতালীয় সিনেমাটোগ্রাফার ভিঞ্চেঞ্জো কনডোরেল্লি। অরুণাচলের জিরো ভ্যালির মনোরম প্রকৃতির মধ্যে ক্যামেরাবন্দী হবে ছবিটি। পাহাড়, কুয়াশা, নিসর্গ—সব মিলিয়ে এক রহস্যময় আবহ তৈরি হবে, যা গল্পের থ্রিলার মেজাজকে আরও তীব্র করবে। মার্চের শেষ পর্যন্ত চলবে শুটিং। বাকি কাস্ট শিগগিরই ঘোষণা করা হবে।

মানবিকতা, থ্রিলার ও উৎসবের পথে
বাংলা থ্রিলারে নারীকেন্দ্রিক, নৈতিকভাবে জটিল চরিত্র খুব বেশি দেখা যায় না। ‘ছেলেধরা’ সেই শূন্যতা পূরণ করতে পারে—যেখানে এক অসম্পূর্ণ নারীই হয়ে ওঠেন গল্পের নৈতিক কেন্দ্র। অরুণাচলের প্রকৃতি, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়ের শক্তিশালী উপস্থিতি—সব মিলিয়ে ছবিটি বাংলা চলচ্চিত্রে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

ভ্যারাইটি অবলম্বনে