
কৈশোরে বুঝতে শেখার পর থেকে ইচ্ছা ছিল অভিনেতা হবেন। কিন্তু পরে তিনি হয়ে যান গায়ক। পাশাপাশি পরিচালনা ও অভিনয় করলেও তিনি গায়ক হিসেবেই শ্রোতাদের কাছে বেশি পরিচিত। কেন সেই সময়ে অভিনয়কে ক্যারিয়ার হিসেবে নেননি প্রসঙ্গ টেনে অঞ্জন দত্ত বললেন, ‘“বেদের মেয়ে জোসনা”, “বাবা কেন চাকর”—এই ধরনের ছবি দেখব কেন?’
অভিনেতা হওয়া প্রসঙ্গে আনন্দবাজারকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অঞ্জন দত্ত বলেন, ‘আমি অভিনেতা হতে এসেছিলাম। পরিবারের বিরুদ্ধে গিয়ে বাদল সরকারের কাছে অভিনয় শিখেছিলাম। ভেবেছিলাম, সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের পরেই আমার নাম হবে।’
অভিনয়ে এসে একসময় এই গায়কের কাছে মনে হয়, এই অঙ্গনটা তাঁর নয়। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘৮০–র শেষে আমি যে সময়ে এসেছি, তখন বুঝেছিলাম, বাণিজ্যিক ঘরানার বাংলা ছবি আমার জন্য নয়। তখন যেসব ছবি তৈরি হতো, সেগুলোর সঙ্গে নিজেকে মেলাতে পারি না। দেখতেও যাই না। “বেদের মেয়ে জোসনা”, “বাবা কেন চাকর”—এই ধরনের ছবি দেখব কেন? বুঝেছিলাম, আমার দ্বারা অভিনয় করা হবে না, তার পরে আমি পরিচালনায় আসি।’
এই গায়ক অভিনেতা হিসেবে কেমন? সেই প্রশ্নের উত্তরে বলেন, ‘আমি ভালো অভিনেতা কী করে হব? যখন আমি বলতাম, সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের পরেই আমার নাম হবে। তখন অনেকই হাসত।’ এ সময় তিনি সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে কথা বলার অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করে বলেন, ‘আমাকে একবার সৌমিত্রদা বলেছিলেন, “অঞ্জন, তুই বোঝার চেষ্টা কর। আমি যখন অভিনয় করতে এসেছি, তখন কত জন ভালো পরিচালক ছিলেন। তপন সিংহ, অজয় কর, অসিত সেন, মৃণাল সেন—কত বড় বড় পরিচালক।”’
এ সময় অঞ্জন দত্ত আরও বলেন,‘তখন সৌমিত্রদা আমাকে প্রশ্ন করেছিলেন, আমি পরিচালক হিসেবে কাকে পেয়েছি? সৌমিত্রদা বলেছিলেন, “তুই কাকে পেয়েছিস? গোটা তিনেক ভালো পরিচালককে। কী করে সিনেমা করবি? তা হলে তো তোকে লিপস্টিক মেখে দৌড়াদৌড়ি করতে হয়। ভালো অভিনেতা হয়ে কি করবি সেটা?”এই কথাটা কানে বাজে আমার। এখন তো আবার সামাজিকমাধ্যমের যুগে আরও সমস্যা।’