ছবিতে ইনামুল হকের জীবন

কিছুটা ব্যাকপেইন ছাড়া তেমন কোনো অসুস্থতা ছিল না। বাসাতেই পরিবারের সবার সঙ্গে সময় কাটাতেন। হঠাৎ করেই আজ ১১ অক্টোবর বিকেল ৪টার দিকে বেইলি রোডের বাসায় চেয়ারে বিশ্রামরত অবস্থায় শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন অভিনেতা, নির্দেশক ও নাট্যকার ড. ইনামুল হক। ছবিতে এই অভিনেতার কর্মময় জীবন তুলে ধরা হলো।

এনামুল হক ১৯৪৩ সালের ২৯ মে ফেনী সদর উপজেলার মোটবী ইউনিয়নে জন্ম নেন। তাঁর বাবা ওবায়দুল হক ও মা রাজিয়া খাতুন। মাত্র ৭ বছর বয়সে মাকে হারানোর পর তিনি ফুফুর কাছে বেড়ে ওঠেন।
ছবি: সংগৃহীত
তাঁর ফুফা সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ছিলেন। ফুফার চাকরির সূত্রে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে ঘুরেছেন। ফুফার চাকরির বদলি হলেই তাঁর মন খারাপ হয়ে যেত। কারণ, কাছের বন্ধুদের ছেড়ে আসতে হতো।
এসএসসি পাস করে তিনি ভর্তি হন নটর ডেম কলেজে। পরে ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। কেমিস্ট্রিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষ করে তিনি একই বিষয়ে বুয়েটের শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। পরে যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি করেন।
নটর ডেম কলেজে পড়াশোনার সময় প্রথম মঞ্চে অভিনয় করেন। ফাদার গাঙ্গুলীর নির্দেশনায় নাটকটির নাম ছিল ‘ভাড়াটে চাই’।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় ডাকসুর হয়ে নিয়মিত মঞ্চনাটকে অভিনয় করতেন।
সেই ধারাবাহিকতায় তিনি ১৯৬৮ সালে নাগরিক নাট্য সম্প্রদায় গড়ে তোলার সঙ্গে সম্পৃক্ত হন। তিনি দলটির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলেন।
নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়ের হয়ে প্রথম মঞ্চে অভিনয় করেন আতাউর রহমানের নির্দেশনায় ‘বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ’ নাটকে। সেই থেকে নিয়মিত মঞ্চে অভিনয় করতেন। পরে অনেক টেলিভিশন নাটক ও সিনেমায় তাঁকে দেখা গেছে।
স্বাধীনতার আগে থেকেই নাটক লিখতেন। স্বাধীনতার পরে প্রথম প্রচারিত টিভি নাটকটি তাঁর লেখা ছিল।
ইনামুল হকের পুরো পরিবারই নাটকের সঙ্গে জড়িয়ে আছেন। তাঁর স্ত্রী লাকী ইনাম নাট্যজগতেরই মানুষ। তাঁদের সংসারে দুই মেয়ে—হৃদি হক আর প্রৈতি হক। হৃদি হক অভিনয় এবং নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত। দুই জামাতা—অভিনেতা লিটু আনাম ও সাজু খাদেম।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘ ৪৩ বছর শিক্ষকতা করেছেন তিনি। ১৫ বছর ছিলেন রসায়ন বিভাগের চেয়ারম্যান, দুই বছর ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ডিন। ২০০৮ সালে অধ্যাপক হিসেবে অবসর নেন। কর্মের স্বীকৃতি হিসেবে ২০১২ সালে একুশে পদক লাভ করেন।