আরশ খান
আরশ খান

সবকিছু ছাপিয়ে মানুষ—এটাই আমরা ভুলে গেছি: আরশ খান

২০২৪ সালের জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় রাজপথে নেমেছিলেন অভিনেতা আরশ খান। সামাজিক মাধ্যমেও ছিলেন সরব। তবে সেই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও ‘জুলাই যোদ্ধা’ পরিচয় দিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না। তাঁর মতে, শব্দটির সঙ্গে যে মূল্য, সততা ও নিরপেক্ষতা থাকার কথা ছিল, তা এখন আর নেই।

আরশ খান

ঢাকার উত্তরার দোলনচাঁপা শুটিংবাড়িতে একটি নাটকের শুটিংয়ে গত মঙ্গলবার জুলাই আন্দোলন প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে আরশ বলেন, ‘জুলাই যোদ্ধা শব্দটা আমার সঙ্গে নিতে চাই না। কারণ, এই শব্দটার যে মূল্য, সততা ও নিরপেক্ষতা থাকা উচিত ছিল, সেটার কোনোটাই আসলে এখন নেই। এই শব্দটা এখন কুৎসিত হয়ে গেছে। হয়তো আমার কথায় অনেকে কষ্ট পেতে পারেন; কিন্তু এই শব্দটা বিক্রি করে অনেক মানুষ ফায়দা লুটেছে। যার কারণে যখন এই শব্দটা শুনি, কেন জানি শ্রুতিমধুর লাগে না।’

আরশ খান

জুলাই আন্দোলনের সময় রাজপথে নামা নিয়ে কোনো আফসোস নেই আরশ খানের। তিনি বলেন, ‘আমি যে বাচ্চাগুলোর জন্য রাস্তায় নেমেছিলাম, যারা উত্তরার স্কুল বা মাইলস্টোনে পড়ে, তারা কেউ পলিটিকস করছে না। তারা এখন পড়ালেখাই করছে। আমি ওই বাচ্চাগুলোর জন্য রাস্তায় নেমেছিলাম। ওদের জন্য দরকার পড়লে আবার রাস্তায় নামব। ওদের জন্য যত দূর যেতে হয়, আমি যাব।’

আন্দোলনের সঙ্গে ক্ষমতার রাজনীতির নিয়ে মানুষের অবস্থান মেলাতে পারেন না বলেও জানান আরশ খান। তাঁর মতে, ‘যারা ক্ষমতার প্র্যাকটিসের জন্য এসবে ছিল, তাদের সঙ্গে আমার বোঝাপড়ায় অনেক পার্থক্য।’

আরশ খান

অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনকে হেনস্তার ঘটনায় মন্তব্য জানতে চাইলে আরশ বলেন, ‘আমার মস্তিষ্ক বা আমার স্বল্প শিক্ষা, যেটাতে আমি বড় হয়েছি, সেটা আমাকে বলে যে গতকাল রাতের না শুধু, রিসেন্ট টাইমে যেখানে যত মব হয়েছে, এটা হওয়াই উচিত নয়। দেশে আইন আছে, যদি কারও ব্যাপারে কোনো সন্দেহ, যদি কাউকে নিয়ে কোনো জটিলতা থাকে তাহলে আইনের সহায়তা নিয়ে সেটা করা উচিত। কারণ, ২০২৪–এর জুলাইয়ে দেশ যে পরিস্থিতিতে ছিল এখন তো সে অবস্থায় নেই। এখন তো সবকিছু শান্ত। আমার দেশের মানুষগুলো কয়েক বছর ধরেই তো দেখছে, নারীদের রাস্তাঘাটে বেধড়ক পেটাচ্ছি। এটা কি গতকাল রাতে প্রথমবার দেখলাম? না।’

কথা প্রসঙ্গে আরশ খান জানান, দেশের প্রত্যেক মানুষ ভিন্ন ভিন্ন দলকে পছন্দ করে। কিন্তু আমরা একজন শিল্পী বা মানুষের ঊর্ধ্বে গিয়ে দলকে দেখা শুরু করেছি। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে আসলে মানুষ থাকে না। এখানে থাকে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, এনসিপি, জামায়াত। ব্যাপারটা এখন এ রকম হয়ে গেছে। আমরা যে সবকিছু ছাপিয়ে মানুষ, সবকিছুর ঊর্ধ্বে মানুষ—এটাই আমরা ভুলে গিয়েছি। একটা দেশে যখন একটা জিনিস লম্বা সময় ধরে প্র্যাকটিস হতে থাকবে, তখন আসলে সেটার বহিঃপ্রকাশ বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্নভাবে হবে। আমি আসলে এটাকে সাপোর্ট করি না। শুধু বাঁধন আপা কেন, কোনো নারীর সঙ্গে এমন হোক, এটা আমি সাপোর্ট করি না। কোনো পুরুষের সঙ্গে হোক, এটা আমি সাপোর্ট করি না। কোনো শিল্পীর সঙ্গে হোক, এটা আমি সাপোর্ট করি না। আমার যদি মনে হয়, তার মতামতের সঙ্গে আমার মতামত মিলছে না, আমি তার সঙ্গে কথা বলব না। আমি তার পথে হাঁটব না। আমার যদি মনে হয়, এই মানুষটা ভুল, অন্যায় করেছে—তাহলে আইনের আশ্রয় নিয়ে চেষ্টা করব, সে যেন শাস্তি পায়।’