
‘ছেলেটা ভালোর পথেই ছিল। বেশির ভাগ ছেলের ভাগ্যেই এমনটা হয়। আমরা ভালোটা করি কিন্তু বউয়ের সঙ্গে মিস আন্ডারস্ট্যান্ডিং হয়ে যায়। দিন শেষে জামাইরা খারাপ না ভাই ভালো।’ কথাগুলো বলেই হেসে মাইক্রোফোন থেকে দূরে সরে গেলেন অভিনেতা ইরফান সাজ্জাদ।
মূলত গতকাল ছিল ‘এটা আমাদেরই গল্প’ ধারাবাহিক নিয়ে তারকাদের আড্ডা ও সাকসেস পার্টি। সেখানে গল্পের চরিত্র ঘিরে নানা মজার ঘটনা ঘটে। নাটকে খায়রুল বাসার ও ইরফান সাজ্জাদ দুই ভাইয়ের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন। তাঁরা ফাহাদ ও সামির চরিত্রে অভিনয় করেন। সামিরের সংসারে কোনো অশান্তি না থাকলেও বেশির সময়ই বড় ভাই ফাহাদেরর সংসার, প্রেম নিয়ে এই যৌথ পরিবারে অশান্তি থাকত। সেসব নিয়ে পর্দার দুই ভাইয়ের খুনসুটি জমে ওঠে।
অনুষ্ঠানে সঞ্চালকের ভূমিকায় ছিলেন খায়রুল বাসার। এ সময় তিনি বড় ভাই সামিরকে ডেকে নেন কথা বলার জন্য। সেই সময় মজার ছলে বাসার বলেন, ‘ভাই আসেন, আপনাদের সংসার কেমন চলে শুনি। আগের মতোই ঘটনা ঘটাচ্ছেন কি না বলেন।’ এ সময় মজা করে ইরফান সাজ্জাদ বলেন, ‘এখন নাটক কিন্তু তুমিই বেশি করতেছ। তুমিও কিন্তু কম না।’
খায়রুল বাসার ও ইরফান সাজ্জাদের পাশে সায়েরা চরিত্রের অভিনেত্রী সুনেরাহ্ বিনতে কামাল ছিলেন। তিনি ইরফান সাজ্জাদের স্ত্রীর ভূমিকায় অভিনয় করেছেন। তাঁর পাশে এসে দাঁড়ান কেয়া পায়েল। হেসে বাসার বলেন, ‘মেহরীনকে ডাকার আগেই চলে এসেছে। কী টান?’ এই মেহরীন বাসারের স্ত্রীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন।
এ সময় চরিত্রের নানা ঘটনা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখোমুখি হন অভিনয়শিল্পীরা। একজন ফাহাদের চরিত্রের অভিনেতা ইরফান সাজ্জাদের কাছে মজা করে প্রশ্ন করেন, ‘আপনার চরিত্রটা ভালো হতে পারত।’ এই নিয়ে সবাই হাসতে থাকেন। মজা করে তাঁর ব্যাখ্যাও দেন ইরফান। তিনি বলেন, ‘ছেলেটা ভালোর পথেই ছিল। নাটক আরও কয়েক পর্ব চললে ভালো হয়ে যেত। আগে মাসুদ ভালো হয় নাই, এখানে আমি ভালো হইনি।’ সবাই হাসতে থাকেন।
এই সময় সুনেরাহ্ বিনতে কামাল হেসে বলেন, ‘কোনো ছেলে বউকে ভালোবাসলে মেয়েরা এমন করে? আপনারাই বলেন। আপনারা আমাকে বলেন, যদি কোনো ছেলে তার বউকে ঠিকমতো ভালোবাসে, তাহলে মেয়েরা কখনোই সংসারে অশান্তি করে না। আগে নিজেকে ভালো হতে হয়।’ বলে তিনিও হাসতে থাকেন।
অভিনেত্রী কেয়া পায়েল বলেন, ‘আপনার এত মানুষ আসবেন জানলে আরও সাজুগুজু করে আসতাম। যা–ই হোক সবাইকে ধন্যবাদ। (মোস্তফা কামাল) রাজকে ধন্যবাদ এমন একটা নাটক নির্মাণের জন্য। যে নাটকটি নিয়ে সব শ্রেণির দর্শকেরা কথা বলছেন। মানুষ আবেগে কান্না করেছেন। এটাই শিল্পী হিসেবে সবচেয়ে বড় পাওয়া। আমার পাশেই সামির, আমাদের জুটি এত ভালো রেসপন্স পেয়েছে এই জন্য কৃতজ্ঞতা। আজ পরিবারের সবাইকে দেখে মনে হচ্ছে আবার শুটিং করে ফেলি।’
নাটকে ফুফু চরিত্রে অভিনয় করে জনপ্রিয়তা পেয়েছেন দীপা খন্দকার। তিনি বলেন, ‘সবার মাইন্ডসেট থাকে ফুফুরা ভালো হয় না। মনে করে খালারা অনেক ভালো হয়। আর ফুফুরা নেগেটিভ। আমরা সিনেমাতেও ফুফুকে নেগেটিভ দেখি। খালাকে পজিটিভ দেখি। মানে এমন হয়ে গেছে ফুফুরা ঘসেটি বেগম, ফুফু মানেই খারাপ, খালারা ভালো।’ তাঁর কথা শুনে সবাই হাসতে থাকেন।
দীপা খন্দকার আফসোসের সুরে আরও বলেন, ‘এখন অনেক পারিবারিক গল্পের নাটক হচ্ছে। সেখানে মামা, চাচা, ফুফু, খালা থাকছে কিন্তু কারও তেমন কোনো ইনভলভমেন্ট থাকে না, চরিত্রগুলোর বিস্তার লাভ করে না। কিন্তু “এটা আমাদেরই গল্প” নাটকের প্রতিটা চরিত্রের একটা শুরু-শেষ ছিল। চরিত্রের একটা দায়িত্ব ছিল। যে কারণে দর্শক গল্পটি পছন্দ করেছেন।’
‘নাটকটি সফলতার অন্যতম কারণ বাজেট। আর এর সঙ্গে পরিচালকের সাহস। তিনি মনোযোগ দিয়ে কাজটি করেছেন।’ এভাবেই শুরুতে কথা বলতে থাকেন অভিনেত্রী মনিরা মিঠু। তিনি বলেন, ‘দেশে যদি এমন আরও গোটা বিশেক মোস্তফা কামাল রাজ থাকতেন, অন্তত শেষ বয়সে আমরা আরামে কাজ করে যেতে পারতাম। কারণ, আসেন আসেন সিন করেন এই বিষয়টি থাকত না। আমরা আরাম–আয়েশ করে শুটিং করেছি। আমাদের ৫–৬ দিন শিডিউল থাকত। এখন আর ৫–৬ দিন কেউ শিডিউল নেয় না। এই সিনেমাওয়ালা টিমের সবাই যেন আরাম–আয়েশে থাকে।’
সবশেষে মোস্তফা কামাল রাজকে মাইক্রোফোনের সামনে টেনে নিলেন উপস্থাপন খায়রুল বাসার। রাজ বলেন, ‘আপনাদের সবার কাছে কৃতজ্ঞতা। আপনারা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আমাদের সঙ্গে ছিলেন। দর্শকদের ভালোবাসায় আমরা এত দূর এসেছি। আমি ইন্সপায়ার্ড হয়ে গল্পটি বানিয়েছি। আমাকে দেখে যদি কেউ ইন্সপায়ার্ড হয়, সেটাই আমাকে সবচেয়ে বেশি খুশি করবে। ফ্যামিলিকে ইনভলভ করে এখন গল্প হচ্ছে। এটা ভালো লাগে। আমার শিল্পীরাও যখন অন্যদের পারিবারিক গল্পে কাজ করে, তখন আমার দেখে খুব শান্তি লাগে। আবারও দর্শকদের কাছে কৃতজ্ঞতা।’
এ আয়োজনে আরও উপস্থিত ছিলেন নাদের চৌধুরী, মুকিত জাকারিয়া, বড়দা মিঠু, সংগীতশিল্পী আরেফিন রুমিসহ অনেকে। নাটকের জনপ্রিয়তা পাওয়া ‘এটা আমাদেরই গল্প’ থেকে গান গেয়ে শোনান রুমি। গানটি লিখেছেন মাহমুদ মানজুর।