শেষের পথে মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজ পরিচালিত জনপ্রিয় ধারাবাহিক নাটক ‘এটা আমাদেরই গল্প’। ৫২ পর্বে এই নাটকের প্রচার শেষ হবে। এর আগে ৪৯তম পর্ব প্রচারের পর দর্শকের আবেগ দারুণভাবে নাড়া দিয়েছে এই নাটক। এই পর্বে ধারাবাহিকের প্রধান চরিত্রের দুই অভিনয়শিল্পী ফাহাদ (ইরফান সাজ্জাদ) ও সামিরের (খায়রুল বাসার) বাবার মৃত্যু দেখানো হয়েছে। বাবার এই মৃত্যু পর্দার সন্তানদের শুধু কাঁদায়নি, কাঁদিয়েছে দেশ–বিদেশের সাধারণ দর্শকদেরও—যাঁরা পর্বটি দেখেছেন।
হাজারো দর্শক মন্তব্যে বলছেন, ‘এভাবে দর্শকদের না কাঁদালেও পারতেন পরিচালক!’ কেউ লিখছেন, ‘কখন যে চোখ ভিজে গেছে, বুঝে উঠতে পারিনি!’ কেউ লিখছেন, ‘পর্বটা অনেক কষ্টের, চোখের পানি ধরে রাখতে পারলাম না।’
‘এটা আমাদেরই গল্প’ ধারাবাহিকের ৪৯তম পর্বটি গত ২৯ এপ্রিল সিনেমাওয়ালা ইউটিউব চ্যানেলে প্রচারিত হয়। এরই মধ্যে পর্বটির ইউটিউব ভিউ ১ কোটি ২৭ লাখ ছাড়িয়েছে। মন্তব্য এসেছে ৩৩ হাজারের বেশি।
লতিফা বেগম লিখেছেন, ‘পুরো প্রজন্ম “এটা আমাদেরই গল্প” নাটকের ভক্ত হয়ে গেল।’ মুন্নী আক্তার লিখেছেন, ‘কার কার চোখ দিয়ে অজান্তেই পানি বের হয়েছে। এই পর্বটা দেখে আমার নিজের বাবার কথা মনে পড়ে গেছে।’
এম মহসিন কাজী লিখেছেন, ‘অভিনয়শিল্পীদের অভিনয়ে চোখের পানি না পড়লেও দর্শকদের চোখের পানি ঠিকই পড়েছে।’ সুজন আহমেদ লিখেছেন, ‘এই পর্বটা দেখে নিজের আবেগ ধরে রাখতে পারলাম না। ভালো থাকুক পৃথিবীর সমস্ত বাবা।’
হিমি নামের একজন লিখেছেন, ‘আমার আব্বু মারা গেছে এক মাস হয়। এই পর্ব দেখে আমার আব্বুর কথা খুব মনে পড়ছে। আব্বু মারা যাওয়ার আগে বলেছিল, “বাবা, আজকে রাতে আমাদের সাথে ঘুমাও”, আম্মুকে বলেছিল, “আমার হাতটা ধরে রাখো”—চোখের সামনে বাবার মৃত্যু দেখা কতটা কষ্টের, যারা দেখেছে, তারাই বুঝবে।’
আমান উল্লাহ লিখেছেন, ‘এতদিন পরে একটা পর্ব পেলাম, যেটা অনেক বেদনাদায়ক। যদিও সবই জানাশোনা আমাদের, এটা অভিনয়। কিন্তু ৯৯ ভাগ মানুষ কান্না করেছে এই পর্ব দেখে। সবাই তার বাবাকে অনেক ভালোবাসে।’
আরেকজন লিখেছেন, ‘আমি জানলে এই পর্বটা দেখতাম না। আমার বাবা নেই ১৬ বছর ২৮ দিন হলো। অনেক কান্না করলাম এই পর্বটা দেখে।’
রুমান আহমেদ লিখেছেন, ‘বেঁচে থাকতে যে দুঃখ বোঝে, সে–ই আপনজন। মরে গেলে তো শত্রুও কাঁদে।’
শাহীন আহমেদ নামের একজন অভিনয়শিল্পীদের প্রসঙ্গে লিখেছেন, ‘ড. এজাজ সাহেব, এই ছোট্ট চরিত্রে তাঁর পরিবার ও তাঁর বাবার জীবনের গল্পটা কি অসাধারণভাবে ফুটিয়ে তুললেন। অসাধারণ! তা ছাড়া এই নাটকের প্রতিটা চরিত্র, প্রতিটা অভিনয়শিল্পী এত সুন্দরভাবে ধারণ করেছেন যে নাটকের সৌন্দর্যটা আরও বেড়ে গেছে। এত সুন্দর একটা নাটক উপহার দেওয়ার জন্য পরিচালকসহ সকলকে অনেক ধন্যবাদ।’
মেহেদী হাসান রিয়াদ লিখেছেন, ‘ফাহাদের কান্নাটা হৃদয় ছুঁয়ে গেল। সে তার মনের কথাগুলো বলতে পারল না—এটাই জীবন।’
প্রচার শুরুর পর থেকেই আলোচনায় মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজের নাটক ‘এটা আমাদেরই গল্প’। পারিবারিক গল্পের নাটকটির প্রতিটি পর্বই আগ্রহ নিয়ে দেখেছেন দর্শকেরা। ৪৯ পর্বের পর নাটকটির ৫০তম পর্ব আবার আলোচনায়। মুক্তির মাত্র ১৮ দশমিক ৩৪ ঘণ্টায় নাটকটির ভিউ হয়েছে ১ কোটি!
একসময় ঢাকার ধারাবাহিক নাটকের বেশ জনপ্রিয়তা ছিল। তবে সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়েছে। বিদেশি ধারাবাহিকে ঝুঁকেছেন দর্শকেরা। তবে সে চিত্র বদলাচ্ছে। আবার পরিবার নিয়ে দেশের ধারাবাহিক নাটক উপভোগ করছেন দর্শকেরা। এর মধ্যে আলাদাভাবে নজর কেড়েছে মোস্তফা কামাল রাজের ‘এটা আমাদেরই গল্প’। দর্শকেরা বলছেন, ধারাবাহিকটি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে দেখার মতো। পাশাপাশি এর গল্প ও চরিত্রের মধ্যে নিজেদের খুঁজে পাচ্ছেন তাঁরা। ফলে নাটকের প্রতিটি পর্ব ইউটিউবে পাচ্ছে মিলিয়ন মিলিয়ন ভিউ।
গত বছরের ৫ নভেম্বর থেকে একযোগে চ্যানেল আই ও ইউটিউব চ্যানেল ‘সিনেমাওয়ালা’তে প্রচারিত হচ্ছে ‘এটা আমাদেরই গল্প’। এতে ইরফান সাজ্জাদ, কেয়া পায়েল, খায়রুল বাসার, সুনেরাহ্ বিনতে কামাল, ইন্তেখাব দিনার, দীপা খন্দকার, মনিরা মিঠু, নাদের চৌধুরীসহ অনেকে অভিনয় করেছেন।
৫২ পর্বে শেষ হবে ‘এটা আমাদেরই গল্প’। নির্মাতা রাজ জানিয়েছেন, শেষ পর্বটি হবে বিশেষ মেগা পর্ব। শুরু থেকে প্রতিটি পর্বের দৈর্ঘ্য ছিল ২৫ মিনিট। দর্শকের অনুরোধ ছিল সময় আরও বাড়ানোর। তবে টেলিভিশন সম্প্রচারের নির্দিষ্ট সময়সীমা ও পৃষ্ঠপোষক সংশ্লিষ্ট সীমাবদ্ধতার কারণে তা সম্ভব হয়নি। শেষ পর্বটি থাকবে ৯২ মিনিটের।
নাটক দেখে দর্শক কাঁদছে, এ নিয়ে আপনার প্রতিক্রিয়া কী—এমন প্রশ্নে মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজ বলেন, ‘সত্যি বলতে, এটা আমার জন্য সবচেয়ে বড় পাওয়া। যখন দেখি, দর্শক গল্পটার সঙ্গে এমনভাবে যুক্ত হয়ে যাচ্ছে যে তারা হাসছে, কাঁদছে, তখন মনে হয় আমাদের পরিশ্রম সার্থক। এই কান্নাটা আসলে ভালোবাসারই প্রকাশ। আমি এটাকে ম্যাজিক বলব না; বরং সত্যি গল্প বলার চেষ্টা। আমরা কোনো বাড়াবাড়ি করিনি, জীবনের কাছাকাছি থেকেছি। মানুষের নিজের গল্প, নিজের পরিবার, ওটাই হয়তো দর্শককে টেনেছে।’