লাক্স–চ্যানেল আই সুপারস্টার প্রতিযোগিতার শুরুটা হয়েছিল ২০০৫ সালে। টানা কয়েক বছর চলার পর মাঝখানে কিছু বিরতি আসে। সর্বশেষ আসর বসেছিল ২০১৮ সালে। দীর্ঘ সাত বছর বিরতির পর আবার শুরু হয়েছে নতুন মৌসুম। প্রতিযোগিতার গ্র্যান্ড ফিনালে অনুষ্ঠিত হবে আজ শুক্রবার ৩ এপ্রিল সন্ধ্যায়।
এই প্রতিযোগিতা থেকে উঠে আসা কিছু মুখ আজ টেলিভিশন নাটক, সিনেমা কিংবা ওয়েব দুনিয়ায় নিজেদের অবস্থান শক্ত করেছেন। কেউ গেছেন আন্তর্জাতিক মঞ্চে, কেউ আড়ালে চলে গেছেন। নতুন আসর শুরুর আগে ফিরে দেখা যাক, শানু থেকে মম, বাঁধন থেকে মিম, মেহজাবীন থেকে মিম মানতাশাসহ ১০ লাক্স তারকা এখন কে কোথায় আছেন।
শানারেই দেবী শানু
সিলেটের এমসি কলেজে স্নাতক পড়ার সময়ই ‘লাক্স-চ্যানেল আই সুপার স্টার’ প্রতিযোগিতায় নাম লেখান শানারেই দেবী শানু। ২০০৫ সালে আয়োজিত এই সুন্দরী প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেন তিনি। এরই মধ্যে কেটে গেছে দেড় দশক। ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষ করে অভিনয়ে মনোযোগী হন শানু। কয়েক বছর আগে অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি লেখালেখি শুরু করেন। প্রথম কবিতার বই প্রকাশিত হওয়ার পর পরিচিতজনদের কাছ থেকে বেশ উৎসাহ পান। এরপর শিশুতোষ বই প্রকাশ করে মীনা মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেন। এসবের কারণে লেখালেখির প্রতি ভালো লাগা বেড়ে যায় অনেক। সেই ভালো লাগা থেকে এর পর থেকে লেখালেখিতে তাঁর বেশি আগ্রহ দেখা যায়। গেল বইমেলায় প্রকাশিত হয় এই তারকার বই ‘বাঘ মানুষ’।
জাকিয়া বারী মম
লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টারের দ্বিতীয় আসর অনুষ্ঠিত হয় ২০০৬ সালে। এতে চ্যাম্পিয়ন হন জাকিয়া বারী মম। পরের বছরই সিনেমায় অভিনয় করেন। ২০০৭ সালে তৌকীর আহমেদ পরিচালিত ‘দারুচিনি দ্বীপ’ ছিল তাঁর অভিনীত প্রথম চলচ্চিত্র। এই চলচ্চিত্রের জন্য তিনি শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন। এ ছাড়া ২০১৫ সালে ‘ছুঁয়ে দিলে মন’ ছবিতে অভিনয় করে মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কারের দর্শক জরিপ ও সমালোচক শাখায় শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর পুরস্কার লাভ করেন। এসবের বাইরে তিনি ‘প্রেম করব তোমার সাথে’, ‘আলতাবানু’, ‘স্ফুলিঙ্গ’, ‘আগামীকাল’, ‘ওরা ৭ জন’, ‘রেডিও’ নামের চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। চলচ্চিত্রের পাশাপাশি তিনি টেলিভিশন নাটক, ওয়েবফিল্ম ও ওয়েব সিরিজেও কাজ করছেন।
আজমেরী হক বাঁধন
চ্যাম্পিয়ন না হলেও শুধু কাজের কারণে বাঁধনকে নিয়ে কোনো অংশে চ্যাম্পিয়নদের চেয়ে কম আলোচনা হয়নি। ২০০৬ সালের আসরে দ্বিতীয় রানারআপ হন বাঁধন। লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টার প্রতিযোগিতার পর বেশ কিছুদিন টিভি নাটকে অভিনয় করলেও খুব একটা সুবিধা করতে পারেননি মডেল অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। মাঝখানে বিয়ে ও বিবাহবিচ্ছেদের কারণে অনিয়িমত হয়ে পড়েন অভিনয়ে। ২০১০ সালে ‘নিঝুম অরণ্যে’ নামে একটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। তবে এই ছবি তাঁকে সেভাবে আলোচনায় আনতে পারেনি। ২০২১ সালে এসে অভিনয় করেন ‘রেহানা মরিয়ম নূর’ সিনেমায়। এই ছবিতে কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করে ব্যাপক সুনাম অর্জন করেন তিনি। প্রথম সিনেমা দিয়েই দেশের সীমানা ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক মহলেও প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন বাঁধন। এরপর ভারতে ওয়েবফিল্ম আর ওয়েব সিরিজে অভিনয় করেও আলোচনায় আসেন। গেল ঈদুল আজহায় বাঁধন অভিনীত ‘এশা মার্ডার: কর্মফল’ সিনেমা মুক্তি পায়।
বিদ্যা সিনহা মিম
২০০৭ সালে সুন্দরী প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে বিনোদন অঙ্গনে পথচলা শুরু করেন অভিনেত্রী বিদ্যা সিনহা মিম। সে থেকেই বড় ও ছোট পর্দায় আলো ছড়িয়ে যাচ্ছেন তিনি। বাংলাদেশি সিনেমার প্রথম সারির নায়িকাদের অন্যতম তিনি। রাজশাহীতে জন্মগ্রহণ করলেও পেশায় শিক্ষক বাবার চাকরির কারণে দেশের কয়েকটি জেলায় তাঁর শৈশব ও কৈশোর কেটেছে। মিমের স্কুল ও কলেজজীবন কেটেছে কুমিল্লায়। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজে পড়াশোনার সময়ই তিনি লাক্স–চ্যানেল আই সুপারস্টার প্রতিযোগিতায় নাম লেখান। প্রতিযোগিতার নানা ধাপ পেরিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক ও চলচ্চিত্রকার হুমায়ূন আহমেদের ‘আমার আছে জল’ সিনেমা দিয়ে বড় পর্দায় অভিষেক ঘটে মিমের। এটি মুক্তি পায় ২০০৮ সালে। এরপর শাকিব খানের বিপরীতে ‘আমার প্রাণের প্রিয়া’ ও ‘আমি নেতা হবো’, আরিফিন শুভর সঙ্গে ‘তারকাঁটা’ ও ‘সাপলুডু’, কলকাতার সোহমের সঙ্গে ‘ব্ল্যাক’, বাপ্পী চৌধুরীর সঙ্গে ‘সুইটহার্ট’, ‘আমি তোমার হতে চাই’ ও ‘দুলাভাই জিন্দাবাদ’, শরীফুল রাজের সঙ্গে ‘পরাণ’, ‘দামাল’সহ বেশ কয়েকটি সিনেমায় অভিনয় করে আলোচনায় আসেন তিনি। ২০১৬ সালে ‘জোনাকির আলো’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য সেরা অভিনেত্রী হিসেবে মিম পান জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার।
ইশরাত জাহান চৈতী
বিদ্যা সিনহা মিম যে আসরে চ্যাম্পিয়ন হন, তার ঠিক পরের আসরের চ্যাম্পিয়ন হন গাজীপুরের মেয়ে ইশরাত জাহান চৈতী। ২০০৮ সালে লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টার চৈতী অভিনয় করেন চলচ্চিত্রেও। কথাসাহিত্যিক রাবেয়া খাতুনের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত ইমপ্রেস টেলিফিল্মের ছবি ‘মধুমতি’ ছিল তাঁর অভিনীত প্রথম চলচ্চিত্র। প্রথম ছবিতে অভিনয় করে আলোচনায় এলেও পরে আর তিনি নিজেকে আলোচনায় রাখতে পারেননি। এরপর তাঁকে নাটক ও টেলিছবিতে অভিনয়ে দেখা যায়। লাইট, ক্যামেরা, অ্যাকশন—একসময় এসব শব্দ শুনেই দিন কাটত চৈতীর। তবে অভিনয় ছেড়ে দিয়ে এখন পুরোদস্তুর সংসারী এই তারকা। স্বামীর সঙ্গে মিরপুরের ডিওএইচএসের বাসায় বসবাস করছেন। ২০১৯ সালের ৮ অক্টোবর একটি বেসরকারি বিমান সংস্থার পাইলট মাহমুদ আরাফাতের সঙ্গে ঘর বাঁধেন চৈতী। অভিনয় ছাড়ার কারণ প্রসঙ্গে বলেন, ‘অনেক বছর তো কাজ করলাম। করোনায় বিরতি হয়েছে। ২০১৭ সালে আম্মুকে হারিয়েছি। কাছাকাছি সময়ে আব্বু আর শ্বশুরও মারা যান। আম্মু–আব্বু মারা যাওয়ার পরই মনমানসিকতার পরিবর্তন হয়েছে। তখন আমার মনে হয়েছে, পরিবারকে আরও একটু সময় দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। নিজের জন্যও একটু সময় দিতে চেয়েছি। সব মিলিয়ে আর কাজ করতে ইচ্ছা হয়নি।’ চৈতী শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজি থেকে ফ্যাশন জাইনিংয়ের ওপর গ্র্যাজুয়েশন শেষ করেছেন। চৈতী অভিনীত প্রথম টেলিভিশন নাটক ‘সাধারণ মেয়ে’। ইফতেখার আহমেদ ফাহমি পরিচালিত এ নাটকে তিনি অভিনয় করেন মাহফুজ আহমেদের বিপরীতে। প্রায় আড়াই শ টিভি নাটকে অভিনয় করেছেন চৈতী। তাঁর অভিনীত উল্লেখযোগ্য টিভি নাটক হলো ‘মুকিম ব্রাদার্স’, ‘ছায়াসন্ধি’, ‘মনোভঞ্জন, ‘খেলোয়াড়’, ‘আশ্রয়’ ইত্যাদি।
মেহজাবীন চৌধুরী
১৫ বছর আগে ‘লাক্স–চ্যানেল আই সুপারস্টার’ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে বিনোদন অঙ্গনে পথচলা শুরু মেহজাবীন চৌধুরীর। ২০১০ সালের ২২ জানুয়ারি মেহজাবীনের মাথায় ওঠে ‘লাক্স–চ্যানেল আই সুপারস্টার’–এর বিজয়ীর মুকুট! সপরিবার দেশের বাইরে থাকতেন মেহজাবীন। ২০০৮ সালের শেষের দিকে মাত্র ছয় মাসের জন্য বাংলাদেশে এসেছিলেন। আসার পর তেমন কোনো বন্ধুবান্ধব না থাকায় ডিপ্রেশনে চলে যাওয়ার মতো অবস্থা হয়েছিল। এরপর মাথায় চিন্তা এল, লাক্স-চ্যানেল আইয়ের প্রতিযোগিতায় অংশ নিলেন, কিছু বন্ধুর দেখা পাবেন সেই আশায়। সেই চিন্তা থেকে ২০০৯ সালে ‘লাক্স–চ্যানেল আই সুপারস্টার’ প্রতিযোগিতায় অংশ নেন মেহজাবীন। হাজার হাজার প্রতিযোগীর মধ্যে তাঁর বিজয়ী হওয়াটা ছিল স্বপ্নের মতো। বলেনও তা–ই, যেন বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না তখন! মডেলিং দিয়ে ক্যারিয়ার শুরু করলেও অভিনয়েও নিয়মিত হবেন, এমনটা ভাবেননি মেহজাবীন। ২০১০ থেকে ২০১৩ পর্যন্ত তিনি ফটোশুটে মনোযোগ দিয়েছিলেন বেশি। তখন তাঁর কাছে মনে হতো, অভিনয়ের চেয়ে মডেলিংটা সহজ; তাই এখানেই থাকবেন। কিন্তু ২০১৩ সালের পর থেকে অভিনয়েই বেশি মনোযোগ দেন। ছোট পর্দা ছাপিয়ে গেল বছরের শেষ দিকে এসে বড় পর্দায়ও অভিষেক হয় মেহজাবীনের। গেল বছরের ডিসেম্বরে বড় পর্দায় মুক্তি পেয়েছে মেহজাবীন অভিনীত ছবি ‘প্রিয় মালতী’। শঙ্খদাশ গুপ্তের পরিচালিত ছবিটি কায়রো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবসহ দেশ-বিদেশের বেশ কয়েকটি উৎসবে প্রদর্শিত ও প্রশংসিত হয়েছে। সবশেষ ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ২৩তম আসরে ফিপ্রেস্কি পুরস্কারও জিতেছে ছবিটি। মুক্তির অপেক্ষায় আছে আরেক ছবি ‘সাবা’, এটিও বিশ্বের নামীদামি চলচ্চিত্র উৎসবে প্রশংসিত হয়েছে।
রাখি মাহবুবা
২০১০ সালে ‘লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টার’ প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়ে বিনোদন অঙ্গনে যাত্রা শুরু করেন রাখি মাহবুবা। বিপাশা হায়াতের রচনা ও তৌকীর আহমেদের পরিচালনায় ‘বিস্ময়’ নাটকে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে ছোট পর্দায় অভিষেক ঘটে তাঁর। এরপর বিজ্ঞাপনে কাজ করে আলোচনায় আসেন তিনি। এর মধ্যে সিলন গোল্ড টি, স্কয়ার কোম্পানির চ্যাপস্টিক, প্রাণ ক্র্যাকো, মেরিল রিভাইভ ট্যালকম পাউডার, মেরিল লিপজেল, গ্লোব ক্র্যাকার্স ইত্যাদি বিজ্ঞাপনচিত্রে কাজ করে প্রশংসিত হন; পাশাপাশি কাজ করেছেন মিউজিক ভিডিওতেও। শুধু তা-ই নয়, ২০১৩ সালে চ্যানেল আই আয়োজিত রিয়েলিটি শো ‘হ্যান্ডসাম, দ্য আলটিমেট ম্যান’ অনুষ্ঠানে উপস্থাপনা করে বেশ আলোচিত হন তিনি। ২০১৩ সালে রাখি মাহবুবা প্রকৌশল বিষয়ে স্নাতক করার জন্য পাড়ি জমান অস্ট্রেলিয়ায়। দেশটির পার্থের এডিথ কোয়ান ইউনিভার্সিটিতে (ইসিইউ) পুরকৌশলে স্নাতক করেন। চার বছর আগে ভালোবেসে বিয়ে করেন রাখি। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের টাইম স্কয়ারে পরিচয় হয় লাক্স তারকা রাখি মাহবুবা ও সাজ্জাদ হোসাইনের। রাখি জানান, তাঁদের দুই বছরের প্রেমের সম্পর্কের পর বিয়ের সিদ্ধান্ত হয়। বাংলাদেশে জন্ম হলেও ছোটবেলা থেকেই সিঙ্গাপুরে থাকতেন সাজ্জাদ। তিনি সেখানকারই নাগরিক এবং সেখানেই ব্যবসা করেন।
সামিয়া সাঈদ
‘লাক্স–চ্যানেল আই সুপারস্টার-২০১২’-এ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন সামিয়া সাঈদ। অনেকগুলো নাটক ও বিজ্ঞাপনে কাজ করেছেন তিনি। উপস্থাপনায়ও দেখা গেছে তাঁকে। একটা সময় তাঁকে আর অভিনয়ে দেখা যায়নি। বিয়ে করে পুরোদস্তুর সংসারী হয়েছেন এই লাক্স তারকা। এই আসরে দুই রানার আপ প্রসূন আজাদ ও সামিহা খানও বিনোদন অঙ্গনে নিয়মিত নন।
নাদিয়া আফরীন মিম
২০১৪ সালে লাক্স–চ্যানেল আই সুপারস্টার প্রতিযোগিতায় পাওয়া যায় আরেক মিমকে। এই আসরের চ্যাম্পিয়ন মিমের পুরো নাম নাদিয়া আফরীন মিম। চ্যাম্পিয়ন হওয়ার শুরুতে যে সম্ভাবনা তিনি জাগিয়েছিলেন, পরবর্তীকালে তা আর অব্যাহত রাখতে পারেননি। কাজ করছেন ঠিকই, কিন্তু আলো ছড়াতে পারছেন না, এমনটাও বলে থাকেন বিনোদন অঙ্গনের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। মাঝখানে বছরখানেকের বেশি সময় বিরতিতে ছিলেন। বর্তমানে আবার নতুন করে কাজের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এক দশকে ধারাবাহিক ও খণ্ডনাটক মিলিয়ে শতাধিক নাটকে অভিনয় করেছেন মিম। এই আসরের প্রথম ও দ্বিতীয় রানার আপ হন যথাক্রমে নাজিফা তুষি ও নীলাঞ্জনা নীলা। বিজ্ঞাপনের মডেল হওয়ার পাশাপাশি দুজনই অভিনয় করেছেন বড় পর্দায়। এদের মধ্যে নাজিফা তুষিকে নিয়ে আলোচনাটা সবচেয়ে বেশি। মেজবাউর রহমান সুমন পরিচালিত ‘হাওয়া’ ছবি দিয়ে তিনি প্রশংসিত হন, আসেন আলোচনায়ও। তাঁর একাধিক সিনেমা মুক্তির অপেক্ষায় আছে।
মিম মানতাশা
চার বছর বিরতির পর ‘দেখিয়ে দাও অদেখা তোমায়’ ক্যাম্পেইনে অনুষ্ঠিত হলো লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টার ২০১৮। এতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন পাবনার মেয়ে মিম মানতাসা। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী থাকা অবস্থায় তিনি প্রতিযোগিতায় নাম লেখান। প্রতিভা ও মেধার জন্য তিনি দ্রুত দর্শকদের মন জয় করেন এবং মডেলিং ও অভিনয়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। তাঁর অভিনীত প্রথম নাটক ‘ভবঘুরে’। এতে তাহসান খানের সঙ্গে জুটি বেঁধে অভিনয় করেন। এরপর বেশ কিছু দর্শকপ্রিয় নাটকে কাজ করেছেন। করেছেন ওয়েব সিরিজও। ২০২২ সালে অনেকটা চুপিসারেই বিয়ে সাড়েন অভিনেত্রী। বিয়ের পর পর্দায় অনিয়মিত হয়ে পড়েন তিনি। তবে আবার নতুন করে ফিরলেন মিম। এখন থেকে নিয়মিত তাঁকে পর্দায় দেখা যাবে, এমনটাই প্রত্যাশা অভিনেত্রীর।