একজন বোকা, সহজ–সরল; আরেকজন চালাক–চতুর। দুজনই ঘুরতে পছন্দ করে। তবে প্রতিটি যাত্রায়ই একটা না একটা কাণ্ডে জড়ায় তারা। কখনো ঘুরতে গিয়ে শুটিং ইউনিটের সঙ্গে মিশে যায়। আবার কখনো ঘুরতে গিয়ে নির্বাচন ঘিরে অবৈধ টাকার গন্ধ পায়। কিন্তু প্রতিবারই বোকাসোকা বন্ধুর কারণে পরিকল্পনা আর বাস্তবায়ন হয় না, ধরা খেয়ে যায়। অসৎ পথে ধনী হতে চাইলেও নানা বাধা সৃষ্টি করে সৎ ব্যক্তি। এ নিয়ে দুই বন্ধুর মনোমালিন্য। এমন অনেক নাটকেই দুই বন্ধুর চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন মোশাররফ করিম ও ফারুক আহমেদ। মোশাররফ করিমকে এসব নাটকে অতিচালক ও অসৎ চরিত্রে দেখা যেত, অন্যদিকে বোকা ও সহজ–সরল চরিত্রটি করতেন ফারুক আহমেদ।
‘বিহাইন্ড দ্য সিন’, ‘ফাঁদ ও বগার গল্প’, ‘ম্যানিব্যাগ’, ‘মীরজাফরের মৃত্যু চাই’সহ অনেক নাটকেই এই জুটিকে দেখা গেছে। এখনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোটির ওপরে তাঁদের নাটকের ভিউ। ফেসবুকেও প্রায়ই ভাইরাল হয় তাঁদের এসব নাটকের রিল। প্রায় পাঁচ বছরের বিরতির পর ‘চেয়ারম্যানের হাসবেন্ড’ দিয়ে ফিরছেন সেই জুটি। নাটকটি পরিচালনা করেছেন সুজিত বিশ্বাস।
বয়সে মোশাররফ করিমের চেয়ে ফারুক আহমেদ বড়। তারপরও শুটিংয়ে একটা বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় থাকে। একসঙ্গে তাঁদের শুটিং মানেই যেন নানা মজার ঘটনা আর স্মৃতিচারণা। সেসব স্মরণ করে ফারুক আহমেদ বলেন, ‘একসময় আমরা নিয়মিত কাজ করেছি। প্রায়ই দর্শকের কাছে শুনি, আমরা একসঙ্গে আগের মতো কেন অভিনয় করছি না। আমরা একসঙ্গে অভিনয় করতে চাই। আমাদের কাজগুলো আমি নিজেও ভীষণ মিস করি।’
একসঙ্গে কাজ কম কেন? এমন প্রশ্নে ফারুক আহমেদ বলেন, ‘হয়তো আগের মতো এখন ডিরেক্টররা চান না। আবার শুধু একসঙ্গে অভিনয় করলেই হবে না, সেই রকম চিত্রনাট্যও তো দরকার, যেখানে মোশাররফের সঙ্গে কম্বিনেশন থাকতে হবে। যেমন রেদওয়ান রনির গল্পে আমি সরল একজন বোকার চরিত্রে অভিনয় করেছি, অন্যদিকে মোশাররফ একটু চালাক, দ্রুত ধনী হতে চায়, এমন চরিত্রে অভিনয় করেছে। দুজনের রসায়ন দর্শক পছন্দ করেছিলেন। কারণ, অভিনয়ের জায়গায় দুজনই জমিয়ে কাজ করতে পেরেছিলাম। দুজনের বোঝাপড়া ভালো ছিল। যেভাবে হুমায়ূন আহমেদের তারা তিনজন–এর কম্বিনেশনের কথা বলা যায়। এমন গল্প পেলে আমরা অবশ্যই কাজ করব।’
এই অভিনেতা জানান, ‘চেয়ারম্যানের হাসবেন্ড’ নাটকে তাঁরা দুই ভাই। বড় ভাই হিসেবে উদ্ভট সব কাণ্ড করেন ফারুক আহমেদ। এই নিয়ে ছোট ভাই মোশাররফ করিমের সঙ্গে ঝগড়া লেগেই থাকে। নাটকটি সম্পর্কে ফারুক আহমেদ বলেন, ‘এবারের কাজটিও ভালো হয়েছে। দর্শক পছন্দ করবেন। দীর্ঘদিন পরে মোশাররফের সঙ্গে কাজটি করে আনন্দ পেয়েছি। মোশাররফ করিম শুধু গুণী নয়, অত্যন্ত গুণী অভিনেতা। অনেক সিনসিয়ার, সে বুঝতে পারে কোথায় কোনো জিনিসটা দিতে হবে। চরিত্রায়ণ মোশাররফ যেভাবে করতে পারে, সেটা অনবদ্য। তার সেন্স অব হিউমার অসাধারণ। যমজ নাটকের একাধিক চরিত্রে তাকে দেখে মনে হয়েছিল, এভাবে হয়তো দেশের অন্য কেউ এ চরিত্রটি করতে পারবে না।’
পরিচালক সুজিত বিশ্বাস জানান, গাজীপুরের পুবাইলে নাটকটির শুটিং সম্প্রতি শেষ হয়েছে। এতে আরও অভিনয় করেছেন নীলাঞ্জনা নীলা, সায়কা আহমেদ, নুরে আলম নয়ন, সিদ্দিক মাস্টার। শিগগিরই এটি ইউটিউবে প্রচার করা হবে।