ছোট পর্দার অভিনয়শিল্পী জাহের আলভীর স্ত্রী আফরা ইভনাথ খান ইকরার মৃত্যুকে ঘিরে বিনোদন অঙ্গনে আলোচনা চলছে। ইকরার পরিবার দাবি করেছে, আলভীর সঙ্গে সহকর্মী ইফফাত আরা তিথির সম্পর্কের জেরে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন ইকরা। এ ঘটনায় ইকরার বাবা কবির হায়াত খান রাজধানীর পল্লবী থানায় মামলা করেছেন।
সম্প্রতি নাটকের শুটিংয়ের জন্য আলভী ও তিথি নেপাল যান। ২৭ ফেব্রুয়ারি ছিল তিথির জন্মদিন। বিনোদন অঙ্গনে গুঞ্জন ছড়ায়—তিথির জন্মদিন উদ্যাপনের উদ্দেশ্যেই নেপালে শুটিংয়ের আয়োজন করা হয়েছিল। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আলভী। ২৮ ফেব্রুয়ারি ইকরা মৃত্যুবরণ করেন। এর পর থেকেই আলভী ও তিথির সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা আরও তীব্র হয়।
ইকরার মৃত্যুর পর আলভী দেশে ফেরেননি—এমন অভিযোগ ওঠে। এ বিষয়ে তিথি বলেন, তিনি পুরো টিমের সঙ্গে দেশে ফিরেছেন। তাঁর ভাষ্য, ইকরার মৃত্যুর দিনই দেশে ফেরার টিকিটের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। পরদিন টিকিটের ব্যবস্থা হলে পুরো টিম একসঙ্গে ফেরে।
আলভীর সঙ্গে প্রেমের গুঞ্জন প্রসঙ্গে তিথি বলেন, দীর্ঘদিন একসঙ্গে কাজ করার সুবাদে তাঁদের মধ্যে ভালো বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছে। তিনি বলেন, ‘একটি অফিসে সহকর্মীদের মধ্যে যেমন বন্ধুত্ব হয়, আমাদের ক্ষেত্রেও তেমনই হয়েছে। ইন্ডাস্ট্রিতে আলভী আমার ভালো বন্ধু—এ কথা আমি আগেও বলেছি।’
ইকরার মৃত্যুর পর ২৮ মিনিটের একটি ভিডিও বার্তায় আলভী বলেন, তিথির জন্মদিন উদ্যাপনের জন্য নেপাল গিয়েছেন—এ দাবি সঠিক নয়। সম্পর্কের বিষয়ে আলভী বলেন, তিথির সঙ্গে তাঁর একটি ‘নির্ভরশীল বন্ধন’ তৈরি হয়েছিল, তবে তা বৈবাহিক সম্পর্ক ভাঙার মতো কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি। তাঁর দাবি, তিনি কখনোই ইকরাকে ডিভোর্স দেওয়ার কথা বলেননি।
একই সঙ্গে আলভী উল্লেখ করেন, দাম্পত্য সম্পর্কে টানাপোড়েন ছিল এবং ইকরা একাধিকবার ডিভোর্স চেয়েছিলেন। তাঁর মতে, ‘একটি টক্সিক সম্পর্ক টেনে রাখার চেয়ে না থাকাই ভালো।’
ইকরার ঘনিষ্ঠজনদের দাবি, আলভী ও তিথির ঘনিষ্ঠতা ইকরাকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তোলে। যদিও এ অভিযোগ অস্বীকার করে তিথি ও আলভী দুজনই তাঁদের সম্পর্ককে বন্ধুত্ব হিসেবে দাবি করছেন।