
৪৮তম মস্কো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নিয়ে উচ্ছ্বসিত অভিনেত্রী আশনা হাবিব ভাবনা। এবারই প্রথম নিজের অভিনীত চলচ্চিত্র নিয়ে আন্তর্জাতিক এই মর্যাদাপূর্ণ আসরে অংশ নিচ্ছেন তিনি, যা তাঁর অভিনয়জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখছেন।
ভাবনা অভিনীত ‘কিং ইন দ্য ল্যান্ড অব দ্য প্রিন্সেস’ চলচ্চিত্রটি ৪৮তম মস্কো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে আর্টকোর বিভাগে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচিত হয়েছে। এরই মধ্যে ছবির পরিচালক আসিফ ইসলামসহ মস্কো পৌঁছে গেছেন তিনি। গত বৃহস্পতিবার চলচ্চিত্রটির অভিনয়শিল্পী হিসেবে লালগালিচায়ও অংশ নেন ভাবনা।
আজ শনিবার অনুষ্ঠিত হবে চলচ্চিত্রটির বিশেষ প্রদর্শনী, যেখানে আন্তর্জাতিক অঙ্গনের বিশিষ্ট নির্মাতা, সমালোচক ও প্রযোজকদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
এই অর্জন নিয়ে আবেগাপ্লুত ও গর্বিত ভাবনা।
তিনি বলেন, ‘আমাদের পতাকা আমাদের সম্মান। আমি যেখানেই যাই, আমার দেশকে মনের মধ্যে লালন করি। নিজের অভিনীত চলচ্চিত্র নিয়ে মস্কো চলচ্চিত্র উৎসবে দেশকে প্রতিনিধিত্ব করতে পারা আমার জন্য এক অনন্য গর্বের বিষয়। এই পথচলার আনন্দ ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। এটি আমার পরিচয়, আমার ভালোবাসা, আর আমাদের গল্পগুলো বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরার একটি বড় সুযোগ।’
এর আগে কান চলচ্চিত্র উৎসবেও গিয়েছিলেন ভাবনা। তবে তখন তাঁর কোনো চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হয়নি। মূলত অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্যই সেই উৎসবে অংশ নিয়েছিলেন তিনি। এবার মস্কো উৎসবে নিজের অভিনীত সিনেমা নিয়ে অংশগ্রহণ করাকে তিনি এক ভিন্ন মাত্রার অভিজ্ঞতা হিসেবে দেখছেন।
ছোটবেলা থেকেই নাচের সঙ্গে যুক্ত ভাবনা, অর্জন করেছেন জাতীয় পুরস্কারও। পরবর্তী সময় টেলিভিশন নাটকের মাধ্যমে অভিনয়ে নিয়মিত হন। ছোট পর্দার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ২০১৭ সালে অনিমেষ আইচ পরিচালিত ‘ভয়ংকর সুন্দর’ চলচ্চিত্র দিয়ে বড় পর্দায় অভিষেক ঘটে তাঁর। এরপর একে একে ‘দামপাড়া’, ‘যাপিত জীবন’, ‘পায়েল’, ‘ইতি চিত্রা’সহ বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্রে কাজ করেছেন তিনি।
তবে ‘কিং ইন দ্য ল্যান্ড অব দ্য প্রিন্সেস’ চলচ্চিত্রটি ভাবনার কাছে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। কারণ, দেশের বাইরে এই প্রথম তাঁর অভিনীত কোনো সিনেমা আন্তর্জাতিক উৎসবে প্রদর্শিত হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে ভাবনা বলেন, ‘বাংলাদেশি হিসেবে আমাদের যেকোনো সিনেমা মস্কোর মতো মর্যাদাপূর্ণ উৎসবে নির্বাচিত হওয়াটা আমাদের সবার জন্য গর্বের। এই কাজ আমার কাছে একটু বেশি বিশেষ।’
নিজের অভিনয়–দর্শন নিয়েও কথা বলেন ভাবনা। তাঁর মতে, কোনো চরিত্রে কাজ করার সময় তিনি কখনো পুরস্কার বা স্বীকৃতির কথা মাথায় রাখেন না; বরং চরিত্রটি কীভাবে জীবন্ত হয়ে উঠবে, সেটিতেই মনোযোগ দেন। তিনি বলেন, ‘আমি সব সময় চেষ্টা করি চরিত্রটিকে নিজের ভেতরে ধারণ করতে। অভিনয়শিল্পী হিসেবে ব্যক্তি ভাবনার মধ্যে চরিত্রকে আটকে রাখি না।’