সামিনা চৌধুরী, ঈশিতা, তারিন, তিশাদের উত্তরসূরি খুঁজতে শুরু হচ্ছে ‘নতুন কুঁড়ি’
সামিনা চৌধুরী, ঈশিতা, তারিন, তিশাদের উত্তরসূরি খুঁজতে শুরু হচ্ছে ‘নতুন কুঁড়ি’

সামিনা চৌধুরী, ঈশিতা, তারিন, তিশাদের উত্তরসূরি খুঁজতে শুরু হচ্ছে ‘নতুন কুঁড়ি’

একসময় দেশের শিশু-কিশোরদের প্রতিভা বিকাশের অন্যতম পরিচিত মঞ্চ ছিল বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) ‘নতুন কুঁড়ি’। এই আয়োজনের মাধ্যমে গান, অভিনয়, নৃত্য ও আবৃত্তিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে উঠে এসেছেন সামিনা চৌধুরী, অভিনয়শিল্পী তারানা হালিম, রুমানা রশিদ ঈশিতা, তারিন জাহান, মেহের আফরোজ শাওন, নুসরাত ইমরোজ তিশাসহ অনেক পরিচিত শিল্পী। দীর্ঘ বিরতির পর গত বছর আবারও শুরু হয়েছিল জনপ্রিয় এই আয়োজন। এবারও বসছে ‘নতুন কুঁড়ি’র আসর। এর মধ্য দিয়ে খোঁজা হবে নতুন প্রজন্মের প্রতিভাবান শিশু-কিশোরদের।

আগামী ১ অক্টোবর ‘নতুন কুঁড়ি ২০২৬’-এর জন্য আবেদন নেওয়া শুরু হবে। চলবে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত। মঙ্গলবার রাতে বিটিভির ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে শুরু হবে প্রতিযোগিতার প্রাথমিক বাছাই। এরপর বিভাগীয় পর্যায়ের বাছাই শেষে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে চূড়ান্ত পর্ব ও ফাইনাল প্রতিযোগিতা। অভিনয়, আবৃত্তি, গল্প বলা ও কৌতুক, সাধারণ ও উচ্চাঙ্গ নৃত্য, দেশাত্মবোধক ও আধুনিক গান, রবীন্দ্রসংগীত, নজরুলসংগীত, লোকসংগীত, হামদ-নাতসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রতিযোগিতা হবে।

বিটিভি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বয়সের ভিত্তিতে প্রতিযোগীদের দুটি শাখায় ভাগ করা হয়েছে। ‘ক’ শাখায় অংশ নিতে পারবে ৬ বছর থেকে ১১ বছরের নিচের শিশুরা। ‘খ’ শাখায় অংশ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে ১১ থেকে ১৫ বছর বয়সীদের। আর ক্বিরাত প্রতিযোগিতা হবে একটি শাখায়। এতে অংশ নিতে পারবে ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সীরা।
দীর্ঘ বিরতির পর ২০২৫ সালে আবারও শুরু হয় ‘নতুন কুঁড়ি’। গতবারের আসরে বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে ‘ক’ ও ‘খ’ বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হয় যথাক্রমে টাঙ্গাইলের প্রেয়সী চক্রবর্তী ও সুনামগঞ্জের শুভমিতা তালুকদার। এবারও দেশের বিভিন্ন প্রান্তের শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণে নতুন প্রতিভা খুঁজে বের করার উদ্যোগ নিয়েছে বিটিভি।

‘নতুন কুঁড়ি’র ইতিহাস অবশ্য আরও পুরোনো। ১৯৬৬ সালে পাকিস্তান টেলিভিশনে প্রথম প্রচারিত হয় অনুষ্ঠানটি। পরে স্বাধীনতার পর ১৯৭৬ সালে মুস্তাফা মনোয়ারের প্রযোজনায় বিটিভিতে নতুন করে যাত্রা শুরু করে। শিশু-কিশোরদের সাংস্কৃতিক প্রতিভা বিকাশের এই আয়োজন ২০০৫ সাল পর্যন্ত চলার পর বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ বিরতির পর ২০২৫ সালে আবারও বিটিভির পর্দায় শুরু হয় ‘নতুন কুঁড়ি’। এ আয়োজনের মঞ্চ থেকেই বিভিন্ন সময়ে বিনোদন অঙ্গনে পরিচিতি পেয়েছেন অনেক শিল্পী। তাঁদের মধ্যে তারানা হালিম, ঈশিতা, তারিন, শাওন, তিশা ও সামিনা চৌধুরীর মতো তারকারা রয়েছেন। এবার তাঁদের উত্তরসূরি হিসেবে কারা উঠে আসে, সেটিই দেখার অপেক্ষা।

২০২৫ সালের ‘নতুন কুঁড়ি’তে বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে ‘ক’ ও ‘খ’ বিভাগের চ্যাম্পিয়ন হয়েছে যথাক্রমে টাঙ্গাইলের প্রেয়সী চক্রবর্তী ও সুনামগঞ্জের শুভমিতা তালুকদার

‘নতুন কুঁড়ি’ একসময় তারানা হালিম, সামিনা চৌধুরী, রুমানা রশিদ ঈশিতা, তারিন জাহান, মেহের আফরোজ শাওন, নুসরাত ইমরোজ তিশাদের মতো শিল্পীদের উঠে আসার মঞ্চ ছিল। এবারও কি এমন একটি নতুন প্রজন্ম তৈরি করতে চায় বিটিভি—এমন প্রশ্নে বাংলাদেশ টেলিভিশনের মহাপরিচালক কাজী জেসিন প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা এমন সব কিশোর-কিশোরীকে তুলে আনতে চাই, যারা আগামী দিনের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নেতৃত্ব দেবে। এই বিষয় মাথায় রেখেই আমরা কাজ করছি। দেশের আনাচকানাচে যার যে প্রতিভা আছে, নিবন্ধনের মাধ্যমে এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত হলে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে আমরা সেই প্রতিভাবানদের খুঁজে বের করতে চাই। যেহেতু এটা একটা জাতীয় গণমাধ্যম, ফলে নতুন কুঁড়ির মধ্য দিয়ে জাতির মনন গঠনের উপযোগী কনটেন্ট ও বিষয় সমৃদ্ধ করার দিকটি বিশেষ গুরুত্ব পাবে। এবং সারা দুনিয়ায় জাতীয় গণমাধ্যম যেভাবে পরিবর্তন হয়েছে, তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমরা বিটিভির পরিবর্তনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি।’

নতুন কুঁড়িতে ১৯৮২ সালের পুরস্কার বিজয়ী দুই প্রতিযোগী শিহান মনিরুল ইসলাম ও শাহনাজ চৌধুরী লুনা

বর্তমান প্রজন্মের বড় একটি অংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ইউটিউবকেন্দ্রিক। তাদের নতুন কুঁড়ির সঙ্গে যুক্ত করতে কী ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে—জানতে চাইলে কাজী জেসিন বলেন, ‘বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছি। পত্রপত্রিকা ও টেলিভিশনে বিজ্ঞাপন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে প্রচারের পাশাপাশি আমরা এমনকি দেশের প্রান্তিক পর্যায়েও প্রচারের মাধ্যমে মানুষকে নতুন কুঁড়ির সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছি।’

ডিজিটাল মাধ্যমের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমরা ছোটবেলায় অনেক দীর্ঘ অনুষ্ঠানও দেখার জন্য টেলিভিশনের সামনে বসে থাকতাম। এখন সেই প্রবণতা নেই। তাই পাঁচ মিনিট কিংবা তিন মিনিটের কনটেন্ট দিয়ে মানুষকে আকৃষ্ট করতে চাই। প্রাথমিক বাছাইয়ে যারা নির্বাচিত হবে, তাদের গল্পগুলোও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্নভাবে তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে নতুন কুঁড়িকে ঘিরে মানুষের আগ্রহ তৈরি হবে।’

বাংলাদেশ টেলিভিশনের মহাপরিচালক কাজী জেসিন

কাজী জেসিন আরও বলেন, ‘যারা প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে, তাদের আত্মীয়-পরিজনেরাও অনুষ্ঠানটি দেখবেন। ফলে নতুন কুঁড়ির মাধ্যমে একটি বড় অংশের দর্শককে আবার টেলিভিশনমুখী করা সম্ভব বলে আমরা মনে করি। তবে ডিজিটাল মাধ্যমকেও আমরা বিশেষভাবে গুরুত্ব দিচ্ছি।’