
‘একসঙ্গে তাঁদের কি কোনো নাটকে দেখা যাবে?’, ‘এবার বোধ হয় দুজকে এক নাটকে পাওয়া গেল’, ‘এবার এক হচ্ছেন জোভান ও বাসার’, ‘ওয়াও “ফিরে আসার গল্প” নাটকে দেখা যাবে জোভানকে’ ফেসবুকের নাটক–সংশ্লিষ্ট গ্রুপগুলোতে এখন এমন কথাগুলোই ভক্তরা ছড়িয়ে দিচ্ছেন। আর এর সূত্রটা জোভানের ফেসবুক থেকেই পাওয়া গেল।
সোমবারের আড্ডার ছবি মঙ্গলবার সকালে অভিনয়শিল্পী ফারহান আহমেদ জোভান তাঁর ফেসবুকে পোস্ট করে লিখেছেন,‘ফিরে আসার গল্প’। এতেই সবাই ধরে নিয়েছেন মোস্তফা কামাল রাজ পরিচালিত ‘ফিরে আসার গল্প’ ধারাবাহিকে জোভানকে দেখা যাবে। আর একসঙ্গে প্রথমবার এবার দেখা যাবে সময়ের আলোচিত দুই অভিনয়শিল্পীকে। এই নিয়ে কী বললেন জোভান?
একসঙ্গে জোভান–বাসার? অভিনেতা জোভানের কাছে জানতে চাই, ‘আপনাদের কি একসঙ্গে “ফিরে আসার গল্প" নাটকে দেখা যাবে’। এমন প্রশ্ন শুনেই জোভান সরাসরি বলে দিলেন,‘সে রকম মনে হচ্ছে না। এটা আসলে স্বাভাবিক একটা ছবি। হুট করেই পোস্ট করা। কোনো ভাবনা ছাড়াই। আর আপাতত আমরা নাটকে অভিনয় করছি না।’ এ তথ্যে নিশ্চিত হওয়া গেল না। কারণ, এখনই হয়তো এ প্রসঙ্গে প্রকাশ্যে কিছু বলতে চাইছেন না। পরিচালকের বলতে বারণ থাকতে পারে।
কথা হলো পরিচালক মোস্তফা কামাল রাজের সঙ্গে। তিনি প্রথম আলোকে বললেন, ‘তারা দুজনই অনেক ভালো অভিনয়শিল্পী। তারা আমার অনেক নাটকে অভিনয় করেছে। তবে তাদের একসঙ্গে “ফিরে আসার গল্প” নাটকে দেখা যাবে না। আমার পরিচালনায় পৃথক দুটি গল্পে সামনে দেখা যাবে।’
জোভান বাসারের পরিচয় কীভাবে
বাসারের চেয়ে জোভানের ক্যারিয়ারে বেশ আগে শুরু হয়। তবে দুজনই নাটকের সঙ্গে নিয়মিত যুক্ত রয়েছেন। ক্যারিয়ারে তাঁরা একসঙ্গে কোনো নাটকে অভিনয় করেননি। অভিনীত কাজগুলো দিয়েই তাঁরা একে অন্যের সম্পর্কে জেনেছেন। জোভান বললেন, ‘আসলে কাজে তো আমাদের একসঙ্গে খুব একটা দেখা হয় না। তবে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে প্রায়ই দেখা হয়। সেখানেই কথা হয়। আর মজার ব্যাপার হচ্ছে, একসঙ্গে আমাদের যদি কোনো শুটিং একই ভবনে থাকে, তাহলে দেখা হয়। আর রাজ ভাইয়ের মাধ্যমে আমাদের দেখা হয়।’ খায়রুল বাসার বললেন, ‘জোভান ভাইয়ের কাজ দেখেই মূলত পরিচয়। আড্ডার ফাঁকে আমাদের নাটক নিয়ে কথা হয়েছে। আর যখনই দেখা হয়েছে, জোভান ভাই সব সময় স্নেহমাখা একটা ভালোবাসা দেখান। এটা দারুণ লাগে।’
জোভান–বাসারের চোখে কে কেমন
জোভান খুঁজে খুঁজে ভালো নাটকগুলো দেখেন। সেখানে হঠাৎ একবার চোখে পড়ে অভিনেতা খায়রুল বাসারের কাজ। তখনো সেভাবে তাঁদের মধ্যে পরিচয় হয়নি। তারপর কেটে গেছে কয়েক বছর। তত দিনে খ্যাতি পেয়েছেন খায়রুল বাসার। এর মাঝে বাসারের অনেক কাজ দেখেছেন। সবচেয়ে ভালো লেগেছে কোন কাজটি? এমন প্রশ্নে জোভান তাৎক্ষণিক বলেন, ‘ওর (খায়রুল বাসার) একটা কাজ দেখেছিলাম ফান্দা নামে, অসাধারণ অভিনয় করেছিল বাসার। তার সম্পর্কে যদি বলি, সে অনেক ভালো একজন অভিনয়শিল্পী, ভেরি প্রমিজিং। ভালো অভিনয় করছে।’
সহকর্মীদের কাজগুলোর মধ্যে অভিনয়টাই ভালো করে দেখার অভ্যাস খায়রুল বাসারের। সেভাবেই তিনি জোভানের অনেক নাটক দেখেছেন। ‘আমার কাছে তিনি (ফারহান আহমেদ জোভান) ভীষণ আন্তরিক মানুষ। খুব কম দেখা হলেও এটুকু বুঝি বড় ভাই হিসেবে আমাকে যথেষ্ট স্নেহ করেন। খুব ভালো লাগার ব্যাপার হলো, তিনি আমার কাজ দেখেন এবং দেখা হলেই বলেন, এই এই কাজ দেখেছি, এই এই বিষয়গুলো ভালো লেগেছে। তাঁর কথা এবং পরামর্শে আমার এই উপলব্ধি হয়—তিনি আমার ভালো চান, আমি ভালো কিছু করলে তিনি সেটা বলেন ও আনন্দিত হন।’
‘অভিনয় জাদু আছে’
জোভান অভিনীত অনেক নাটক দেখেছেন বাসার। তবে ১০ বছর আগের নাটক ‘শত ডানার প্রজাপতির গানে’ জোভানকে দেখে মুগ্ধ হয়েছিলেন। জোভানের ‘কবর’, ‘সুহাসিনী’, ‘তোমাদের গল্প’, ‘আপনজন’সহ অনেক নাটক দেখা বাসারের। এই অভিনেতা বললেন, ‘জোভান ভাইয়ের মধ্যে যেটা সবচেয়ে ভালো লাগে, সিনিয়র শিল্পী হিসেবে তিনি আমার কাজের ভালো একটা ফিডব্যাক দেন। খুব কম সহকর্মীই জুনিয়রদের কাজ দেখে এমন কথাগুলো বলেন। এগুলো আমার জন্য একটা অভিজ্ঞতা হয়ে থাকে। অল্প পরিচয়েই তাঁর এ ভালোবাসাটা মুগ্ধ করে, ভীষণ ভালো লাগে। তাঁর অভিনয়ে যেমন জাদু আছে, তেমনি তাঁর আন্তরিকতাও চমৎকার।’ সব শেষে জোভান বলেন, ‘বাসারের অভিনয় অনেক ভালো। সে আরও ভালো করুক সেটাই প্রত্যাশা। তার অভিনয়ের জাদু দিয়ে মুগ্ধ করুক সবাইকে।’