
কান চলচ্চিত্র উৎসবের মাঝরাতে যেন হঠাৎই ‘বিস্ফোরণ’ ঘটাল দক্ষিণ কোরিয়ার সিনেমা ‘হোপ’। এলিয়েন আক্রমণ, রক্তাক্ত বেঁচে থাকার লড়াই, অদ্ভুত হাস্যরস আর বিশাল ক্যানভাসের এই চলচ্চিত্রের প্রদর্শনী শেষে টানা ছয় মিনিট দাঁড়িয়ে অভিবাদন জানালেন দর্শক। আর তাতেই ২০২৬ সালের কান উৎসবের অন্যতম আলোচিত সিনেমায় পরিণত হয়েছে পরিচালক না হং-জিনের নতুন কাজ ‘হোপ’।
পাহাড়ি জনপদে এলিয়েন আতঙ্ক
‘হোপ’-এর গল্প শুরু হয় দক্ষিণ কোরিয়ার এক নিরিবিলি পাহাড়ি শহরে। হঠাৎ সেখানে দেখা দেয় এক রহস্যময় প্রাণী। প্রথম ৪০ মিনিটেই সিনেমাটি দর্শককে ছুড়ে দেয় রক্তাক্ত বিশৃঙ্খলার মধ্যে। শহরজুড়ে হামলা, ধ্বংস, পালানোর চেষ্টা—সব মিলিয়ে একটানা টান টান উত্তেজনা।
সমালোচকেরা বলছেন, সিনেমাটি শুধু দানব বা এলিয়েনের গল্প নয়; বরং মানুষের ভয়, টিকে থাকার প্রবৃত্তি আর অজানাকে ঘিরে আতঙ্কের গল্পও। তবে পরিচালক এটিকে পুরোপুরি গম্ভীর রাখেননি। ভয়াবহতার মধ্যেও আছে অদ্ভুত ধরনের কালো হাস্যরস। কান উৎসবের দর্শকেরা বিশেষ করে একটি দৃশ্যে হেসে উঠেছেন, যেখানে এক বৃদ্ধ ব্যক্তি জঙ্গলে শৌচকর্ম করতে গিয়ে এলিয়েনের মুখোমুখি হওয়ার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন।
তারকাবহুল আন্তর্জাতিক অভিনয়শিল্পী
সিনেমাটিতে অভিনয় করেছেন মাইকেল ফাসবেন্ডার, অ্যালিসিয়া ভিকান্দর, টেইলর রাসেল, হোইয়োন জংসহ দক্ষিণ কোরিয়ার জনপ্রিয় অভিনেতা হোয়াং জং-মিন ও জো ইন-সাং।
বিশেষ করে ‘স্কুইড গেম’ তারকা হোইয়োন জংয়ের উপস্থিতি দর্শকদের বাড়তি আগ্রহ তৈরি করেছে। অন্যদিকে ফাসবেন্ডার ও ভিকান্ডারের মতো আন্তর্জাতিক তারকারা সিনেমাটিকে বিশ্ববাজারে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছেন।
কানে ‘হোপ’-এর উন্মাদনা
কানে প্রদর্শনীর আগেই ‘হোপ’ নিয়ে তুমুল আগ্রহ তৈরি হয়েছিল। কারণ, উত্তর আমেরিকা, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়ার স্বত্ব কিনে নিয়েছে নিওন, যারা টানা ছয় বছর কান উৎসবের পাম দ’রজয়ী সিনেমা পরিবেশন করেছে। পরে একাধিক ইউরোপীয় অঞ্চলের স্বত্ব নেয় স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম মুবি।
কান উৎসবে সিনেমাটি প্রদর্শনের সময় দর্শকদের প্রতিক্রিয়াও ছিল বিস্ফোরক। ভয়, বিস্ময়, হাসি—সব মিলিয়ে যেন এক অদ্ভুত অভিজ্ঞতা। প্রদর্শনী শেষে ছয় মিনিট ধরে দাঁড়িয়ে করতালি দেন দর্শকেরা। পরিচালক না হং-জিন ও অভিনেতারা তখন দর্শকদের অভিবাদন গ্রহণ করেন।
‘দ্য চেজার’ থেকে ‘হোপ’
না হং-জিনের সঙ্গে কান উৎসবের সম্পর্ক নতুন নয়। ২০০৮ সালে ‘দ্য চেজার’ দিয়ে প্রথম কানে আসেন তিনি। এরপর ‘দ্য ইয়েলো সি’ ও ‘গোকসুং’ দিয়েও প্রশংসা কুড়ান। তবে ‘হোপ’ তাঁর সবচেয়ে বড় ও উচ্চাকাঙ্ক্ষী প্রজেক্ট বলেই মনে করছেন অনেকে।
সমালোচকদের মতে, সিনেমাটি একদিকে যেমন দানবকেন্দ্রিক ব্লকবাস্টার, অন্যদিকে তেমনি মানবিক সংকটের গল্পও। তাই এটিকে শুধু ‘মনস্টার মুভি’ বললে কম বলা হবে।
২০২৬ সালের কানের চমক?
চলতি বছর কানে বড় হলিউডি ব্লকবাস্টারের উপস্থিতি তুলনামূলক কম। সেই জায়গায় ‘হোপ’ যেন নতুন ধরনের চমক এনে দিয়েছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো ইতিমধ্যে সিনেমাটিকে ‘অবিশ্বাস্যভাবে সাহসী’ বলে আখ্যা দিচ্ছে।
ভ্যারাইটি অবলম্বনে